ঢাকা, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬, ১৪ সফর ১৪৪১ হিজরী

খেলাধুলা

গতির সঙ্গে রিভার্স সুইংয়ে চোখ রুবেলের

প্রকাশের সময় : ২ আগস্ট, ২০১৬, ১২:০০ এএম

বিশেষ সংবাদদাতা : পুরনো বলে করতে পারেন সুইং, ইয়র্কার ডেলিভারিও করতে পারেন অনায়াসে। ২০০৯ সালে ওয়ানডে অভিষেক থেকেই পুরনো বলে ভয়ঙ্কর রুবেল হোসেন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২০১৩ সালে ওয়ানডে সিরিজে হ্যাটট্রিকসহ ৬ উইকেটের (৬/২৬) মনে রাখবে বাংলাদেশ ক্রিকেটপ্রেমীরা বহু দিন। ২০১৫ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের ভয়ঙ্কর পেস আক্রমণে মাশরাফির অন্যতম প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছেন বাগেরহাটের এই পেসার। ১৪৮ কিলোমিটার গতিতে বল করতে পারেন কোন বাংলাদেশী, ক্যানবেরায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে সেই কারিশমাই দেখিয়েছেন রুবেল। অ্যাডিলেডে তার ভয়ঙ্কর তোপে (৪/৫৩) ইংল্যান্ডের দর্প চূর্ণ করে বিশ্বকাপে প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনালের মুখ দেখেছে বাংলাদেশ দল। সেই ম্যাচে তার শেষ স্পেলে ২টি বিষাক্ত ইয়র্কারে স্টুয়ার্ট ব্রড এবং এন্ডারসনের স্ট্যাম্প উড়ে যাওয়ার দৃশ্য এখনো বাংলাদেশ দলের বীরত্বের বিজ্ঞাপন।
অথচ কি জানেন, গতবছর থেকে মাঠের বাইরের আলোচনাই তাকে ঘিরে হয়েছে বেশি। চলচিত্র নায়িকা হ্যাপীর দায়েরকৃত নারী নির্যাতন মামলা থেকে রেহাই পেয়ে বিশ্বকাপে নিজেকে মেলে ধরেছেন অন্যভাবে। অ্যাডিলেডে ইংল্যান্ডকে ছিন্ন ভিন্ন করা এই নায়কের গত একবছর কেটেছে বড়ই যন্ত্রণায়। দু’দুবার পড়েছেন ইনজুরিতে। ইনজুরি থেকে ফিরে রিহ্যাবে ফিট হয়ে ওঠার প্রক্রিয়াও করেননি যথাযথভাবে অনুসরণ। পুরোপুরি ফিট না হয়েই খেলেছেন বিপিএল। ফিজিওকে না জানিয়ে রিহ্যাব ক্যাম্পে হাজিরা না দেয়ায় শৃঙ্খলা ভঙ্গেও অভিযোগে একটু বেশিই ক্ষুব্ধ হয়েছে বিসিবি। ইনজুরি থেকে ফিরেও বিসিবির অনুকম্পা পাননি রুবেল। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে গত বছরের নভেম্বরে ওয়ানডে সিরিজের দলে পাননি জায়গা, এ বছরের জানুয়ারিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-২০ সিরিজ ছাড়াও ফেব্রæয়ারি-মার্চে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপ টি-২০ এবং মার্চে টি-২০ বিশ্বকাপ দলের বাইরে পর্যন্ত কাটাতে হয়েছে। এ বছরের প্রথম ৬ মাস বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তির বাইরে ছিলেন। বিসিবির কাছে মুচলেকা দিয়ে কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতায় ফিরেছেন অবশেষে।
ইনজুরি বড্ড ভুগিয়েছে গতবছর। সে কারণেই ফিটনেস ফিরে পাওয়াটাই তার কাছে প্রধান চ্যালেঞ্জÑ‘অনেকদিন ধরে ইনজুরিতে ছিলাম। ক্যাম্পের মাধ্যমে চেষ্টা করছি ফিটনেসটা আরো বাড়িয়ে নিতে। নির্বাচকরা পছন্দ করলে হয়তো সামনের টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ পাবো। সেখানে সুযোগ পেলে আমি আমার সেরা খেলাটা খেলার চেষ্টা করবো।’ বোলিংয়ে পেস এর পাশে ইয়র্কারটা তার অন্যতম শক্তি, এখানেই আরো কাজ করতে চান রুবেলÑ‘আমার মূল শক্তি জোরে বোলিং করা। ইয়র্কার আমার মূল শক্তির জায়গা। বোলিংয়ে পেস বাড়ানোর জন্য অনেক হার্ডওয়ার্ক করছি। আগের চেয়ে গতি খুব একটা কমেছে বলে মনে হয়নি। সর্বশেষ প্রিমিয়ার লিগে স্বাভাবিক গতিতে বোলিং করেছি।’
ইয়র্কারের পাশে নুতন অস্ত্র বাটার ফ্লাই তার উদ্ভাবন। এই উদ্ভাবনী বোলিংয়ে আরো নতুনত্ব আনার কথা ভাবছেন রুবেলÑ‘আঙ্গুলের মাঝখানে বল রেখে ডেলিভারি দিতে হয়। এতে বল ছাড়ার পর ক্রিজে পড়েই কিছুটা ¯েøা হয়ে যাবে। ওটা আমি অনেকদিন ধরে অনুশীলন করছি। কিছুদিন পরে স্কিল অনুশীলন শুরু হবে। তখন সেখানে এই ডেলিভারি নিয়ে আরো কাজ করার সুযোগ পাবো।’
শ্রীলংকার লাসিথ মালিঙ্গার মতো অ্যাকশনটা তার সাইড আর্ম, এখানে আরো কিছু বৈচিত্র্য আনার কথা ভাবছেন রুবেলÑ‘চেষ্টা করছি নতুন কিছু আনতে।’ শ্রীলংকান বোলিং কোচ চম্পকা রমানায়েকের আবিষ্কার রুবেল, পরবর্তীতে ইয়ান পন্ট এবং হিথ স্ট্রিকের তালিম পেয়েছেন রুবেল। সে কারণেই বোলিং কোচের প্রয়োজন খুব অনুভব করছেন এই পেস বোলারÑ‘বোলিং কোচ খুবই প্রয়োজন। কারণ তিনি সঙ্গে থাকলে নতুন নতুন অনেক কিছু শেখা যায়।’
রিভার্স সুইং পারেন, তারপরও পরামর্শক বোলিং কোচ হিসেবে এক সপ্তাহের জন্য পাকিস্তানের সাবেক পেস বোলার আকিব জাভেদের কাছ থেকে রিভার্স সুইংয়ের কৌশলটা ভালোভাবে শিখতে চান রুবেলÑ‘পাকিস্তানি বোলাররা সুইংয়ের দিক থেকে সব সময়ই আলাদা থাকে। রিভার্স সুইংগুলো তারা খুব ভালোভাবে দিতে পারে। তাই আকিব জাভেদের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার থাকবে। তার কাছ থেকে এই বিষয়গুলো শিখে নেওয়ার চেষ্টা করবো।’
মুস্তাফিজের আবির্ভাবে ক্রিকেট বিশ্ব বাংলাদেশ দলকে অন্য এক পেস শক্তিতে দেখছে, করছে সমীহ। যেখানে বাংলাদেশ দলের বোলিংয়ের পুরো আলো এখন মুস্তাফিজুরের উপরে। সাসেক্সে খেলতে যেয়ে বাঁ-হাতি কাটার মাস্টারের ইনজুরিটা রুবেলের কাছেও দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই মুস্তাফিজুরের দ্রæত ফিরে আসার কামনা করছেন রুবেলÑ‘মুস্তাফিজের সঙ্গে তুলনা করার কিছু নেই ও অন্যরকম বোলার। এটা শুধু বাংলাদেশে নয়, পুরো বিশ্বে এরই মধ্যে দেখেছে। মুস্তাফিজ যখন বাংলাদেশ দলের হয়ে খেলে, তখন প্রতিপক্ষ দলের জন্য খুব চাপ তৈরি হয়। আমি মনে প্রাণে চাই, খুব তাড়াতাড়ি সে বাংলাদেশ দলে ফিরে আসুক।’

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন