ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৪ আশ্বিন ১৪২৭, ১১ সফর ১৪৪২ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

মুসলিম বিদ্বেষপূর্ণ কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে

কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে ২৩৩-১৮৩ ভোটে বিল পাস

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৫ জুলাই, ২০২০, ১২:০১ এএম

যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমানদের জন্য একটি ভালো দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে ২২ জুলাই। কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মুসলিমদের অনেকের নিজ দেশে প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। এবার মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্রের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধের বিরুদ্ধে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্ন কক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ২৩৩-১৮৩ ভোটে ২২ জুলাই একটি বিল পাস হয়েছে। ‘নো ব্যান এ্যাক্ট’ নামক এই বিলের অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন নিউইয়র্কের কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং। প্রসঙ্গত, উল্লেখ্য, দায়িত্ব গ্রহণের পরই ট্রাম্প ‘মুসলমানদের নিষিদ্ধ’ বিধি জারি করেছিলেন। সেই নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে তুমুল প্রতিবাদের পাশাপাশি আদালতে যায় মানবাধিকার সংস্থাগুলো। এক পর্যায়ে ইউএস সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের ঐ নির্বাহী আদেশকে অকার্যকর করেছে। এতদসত্বেও ট্রাম্প পুনরায় হুমকি দিয়েছেন আরেকটি আদেশ জারির। এহেন অ-আমেরিকান মনোভাবের পরিপ্রেক্ষিতে ডেমক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের এই বিল পাস করলেন। সকল ডেমক্র্যাটের ভোটে এটি পাশের পর এক বিবৃতিতে কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং বলেছেন, ‘মুসলমানদের নিষিদ্ধ করে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ জারির পর থেকেই আমি আন্দোলনকারিদের পক্ষে রয়েছি। আমি কংগ্রেসে দাবি উঠিয়েছিলাম ঐ বিধি কার্যকর করার জন্যে বরাদ্দকৃত অর্থ বাতিলের জন্যে। এরই ধারাবাহিকতায় ‘নো ব্যান এ্যাক্ট’ পাস হওয়ায় আমি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’ ‘মুসলমানেরা হচ্ছে কঠোর পরিশ্রমী মানুষ, বিশেষ করে কুইন্সে বসবাসরতরা সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে এই অঞ্চলকে এগিয়ে নিতে অপরিসীম ভূমিকা পালন করছেন। এ অবস্থায় আমাদের সকলকে ট্রাম্পের মুসলিম বিদ্বেষপূর্ণ কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কারণ, এমন ধর্মীয় বিদ্বেষ মনোভাব কোনভাবেই সুন্দর মনের প্রকাশ ঘটায় না। এমন নিষ্ঠুরতাকে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানও প্রশ্রয় দেয় না। আমি সিনেটের প্রতি উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি অবিলম্বে ‘নো ব্যান এ্যাক্ট’ বিলটি সিনেটেও পাসের জন্যে’-উল্লেখ করেছেন গ্রেস মেং। এদিকে নিউইয়র্কস্থ ‘মুসলিম বার এসোসিয়েশন অব নিউইয়র্ক’ গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছে প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি পাশ হওয়ায়। একইসাথে তারা গ্রেস মেং-কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বিলটি উত্থাপনের জন্যে। ‘সাউথ এশিয়ান বার এসোসিয়েশন’ও গ্রেস মেং-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেছে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের একটি পদক্ষেপও আমেরিকার নীতি-নৈতিকতার পরিপূরক হচ্ছে না। সংবিধানে সকল ধর্ম-জাতি-গোষ্ঠি-বর্ণের মানুষের সমঅধিকার নিশ্চিত করা থাকলেও ট্রাম্প তা মানতে নারাজ। অভিবাসী সমাজকে নির্ম‚লের অভিপ্রায়ে ট্রাম্পের সকল স্বৈরাচারি আচরণকে রুখে দিতে গ্রেস মেং-এর মত জনপ্রতিনিধিগণের পক্ষে থাকার সংকল্প ব্যক্ত করেছে এই সংগঠন। প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য যে, ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, সিরিয়া, ইয়েমেন, চাদ, নর্থ কোরিয়া এবং ভেনেজুয়েলার নাগরিকদের নিষিদ্ধের নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন ২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প দায়িত্ব গ্রহণের কয়েকদিনের মধ্যেই। আল-জাজিরা, বিজনেস ইনসাইডার, রয়টার্স।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন