ঢাকা বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৫ আশ্বিন ১৪২৭, ১২ সফর ১৪৪২ হিজরী

সম্পাদকীয়

আমার নামাজ, কোরবানি, জীবন-মরণ হে আল্লাহ একমাত্র তোমারই জন্য

রূহুল আমীন খান | প্রকাশের সময় : ৩০ জুলাই, ২০২০, ১২:০৩ এএম

এবারের হজ্ব ও কোরবানী হাজির হয়েছে এক মহাসঙ্কটকালে। বিশ্বব্যাপী চলছে করোনাভাইরাসের প্রচন্ড তান্ডব। পবিত্র শহর মক্কা, মদীনা এবং গোটা সৌদি আরবেও ঘটেছে এর প্রাদুর্ভাব। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে হজ¦ পালনের উদ্দেশ্যে সেখানে বহির্দেশীয়দের আগমন। সে দেশে অবস্থানরত কেবলমাত্র সীমিত সংখ্যক লোকেরাই পালন করতে পারবেন পবিত্র হজ্বের আনুষ্ঠানিকতা। এর আগে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধের জন্য মসজিদুল হারাম (মক্কা), মসজিদে নবুবীতে (মদীনা) সালাত আদায় ও জিয়ারতের ক্ষেত্রেও আরোপিত ছিল নানা বাধা নিষেধ। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি এখনো বিশ্বজুড়ে। একমাত্র সর্বক্ষমতার মালিক আল্লাহই জানেন, কোন দিন এই ধ্বংসাত্মক মহামারির কবল থেকে মানব জাতি মুক্তি লাভ করবে।

মক্কা, পবিত্র কাবা, মসজিদুল হারাম, রওজা মুবারক, মসজিদে নবুবী ও মদীনা মুনাওয়ারার সাথে মুসলমানদের সম্পর্ক, ঈমানের, হৃদয়ের। এর প্রতি ভালবাসা, আবেগ, অনুভূতি কেবলমাত্র অনুভব করা যায়, কোনো ভাষা দিয়ে ব্যক্ত করা যায় না। জীবনে একবার হলেও হজে¦ বাইতুল্লাহ ও জিয়ারতে মদীনা মুসলমান মাত্রেরই লালিত স্বপ্ন। হজ্বের মৌসুম এলেই আরও তীব্রতর হয়ে ওঠে এই দিলি তামান্না। এ বছরের এই মহাসঙ্কটে হতাশ হৃদয়ে আরও তীব্র হয়ে উঠেছে সেই না পাওয়ার বেদনা। স্মৃতিচারণ, আর দয়াময় আল্লাহর দরবারে দোয়া মুনাজাত এখন একমাত্র দাওয়াই। এই যে মনের আকুলি-বিকুলি, হৃদয়ের গভীর আকর্ষণ ও মোহাব্বত, প্রাপ্তি-আকাঙ্খা, হায় আফসোস, অশ্রুবিসর্জন এর অনেক মূল্য আল্লাহর কাছে। এর সওয়াব অপরিমেয়। অনেক ক্ষেত্রে সোয়াব ও গুনাহ প্রাপ্তির ব্যাপারটা মনের আকর্ষণ-বিকর্ষণ, অনুরাগ-বিরাগের উপর নির্ভর করে। একটা মানুষ নেককার কিন্তু পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে পাপানুষ্ঠানে যোগদান করতে বাধ্য হয়েছে, এছাড়া তার গত্যান্তর ছিল না। সেখানে অবস্থান করেও লোকটির মন পড়ে থাকে যদি জিকির ও ইবাদতের মজলিসের প্রতি, পাপানুষ্ঠানে থাকা সত্তে¡ও ঐ লোকটির আমলনামায় নেক মজলিসে যোগদানের সওয়াব লেখা হবে। ঠিক এর বিপরীত, অপর একটি লোক একান্ত অপারগ হয়ে কোনো নেক মজলিসে যদি যোগদান করে কিন্তু তার মন পড়ে থাকে যদি পাপানুষ্ঠানের মাঝে, বারবার জাগ্রত হতে থাকে যদি ঐ মজলিসের অনুষ্ঠানাদি- নেক মজলিসে অবস্থান করা সত্তে¡ও তার আমলনামায় ঐ পাপ-অনুষ্ঠানের গুনাহ লেখা হবে। এ কিতাবেরই কথা।

আসলে নেক-বদের কেন্দ্রস্থল তো মানুষের মন বা আত্মা। এ জন্যই আত্মার পরিশুদ্ধির ওপর ইসলাম দিয়েছে এতো গুরুত্ব। রাসুলে পাক (স.) বলেন, দেহের মধ্যে আছে একটি মাংসপিন্ড সেটি যখন পরিশুদ্ধ হয়ে যায় সর্বদেহ তখন পরিশুদ্ধ হয়ে যায়। সেটি যখন ক্লেদাক্ত হয়ে যায়, সর্বদেহই তখন ক্লেদাক্ত হয়ে যায়। এর নাম হচ্ছে ক্বালব বা মন। তাই একান্ত অপারগতার কারণে কাবাশরীফে, মসজিদুল হারামে, সাফা-মারওয়ায়, আরাফাতে, মিনা মুজদালিফায় কিংবা মদীনা মুনাওয়ারায়, মসজিদে নবুবীতে, রওজায়ে আতহারে হাজিরি দিতে অসমর্থ হওয়া সত্তে¡ও আমাদের মনকে নিয়ে যেতে পারি যদি সেখানে, সে স্থানগুলোর ইতিহাস ও স্মৃতিসমূহ চারণ করে, জাগ্রত করতে পারি যদি তীব্র আকর্ষণ ও অনুভূতি, আল্লাহ রাববুল আলামীনের দরবারে যদি জানাতে পারি প্রাণঢালা ফরিয়াদ এবং গ্রহণ করতে পারি যদি তার থেকে শিক্ষা, তবে সওয়াব থেকে বঞ্চিত হবো না। অবশ্য যার উপর হজ্জ্ব ফরয তাকে সুযোগ এলে তা আদায় করে নিতে হবে।

ঐ ঐতিহাসিক স্থানসমূহ দর্শন, যথাস্থানে, যথাসময়ে অনুষ্ঠানাদি পালনের মধ্যে অনেক শিক্ষাও রয়েছে। বস্তুত: হযরত ইবরাহীম (আ.), ইসমাঈল (আ.) ও মা হাজেরা (আ.)কে উপলক্ষ করেই কাবাকেন্দ্রিক অনুষ্ঠানাদির প্রবর্তন। সে সব আমরা বিশেষভাবে স্মরণ করতে পারি এবং তার থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি। যেমন, হযরত ইবরাহীম (আ.) চার সহস্রাধিক বছর পূর্বে ফিলিস্তিন থেকে মা হাজেরা ও শিশু ইসমাঈল (আ.)-কে সহস্রাধিক মাইল দূরে, খাদ্য-পানি হীন বিজন উষর পার্বত্য মরুউপত্যকায় নির্বাসন দিয়ে যখন চলে যাচ্ছিলেন, তখন অসহায়া হাজেরা (আ.) স্বামীর জামার আস্তিন টেনে ধরে সাশ্রুলোচনে জিজ্ঞাসা করেন, এমন এক স্থানে আমাদেরকে কেন রেখে যাচ্ছেন আপনি? হযরত ইবরাহীম (আ.) ভারাক্রান্ত কণ্ঠে বললেন, ধৈর্য ধর হাজেরা! এ আল্লার ইচ্ছা। সংযত হয়ে মা হাজেরা (আ.) বললেন: আলহামদুলিল্লাহ! এ যদি আল্লাহর ইচ্ছা হয়ে থাকে তবে তা-ই হোক। আমরা কখনো কখনো কঠোর কঠিন অবস্থার সম্মুখীন হই। তখন যদি মা হাজেরা (আ.)-এর ধৈর্য এবং আল্লাহর উপর নির্ভরতার কথা স্মরণ করে সবক গ্রহণ করতে পারি, তবে লাভ করতে পারব মনে সান্ত¦না। শোচনীয়, নৈরাশ্যজনক উপায় হীনতার মাঝেও আল্লাহই যে উপায় করে দিতে পারেন, জমজম কূপ কি তার নিদর্শন হয়ে বিরাজ করছে না? আর আল্লাহপাক যে তার প্রিয় বান্দা-বান্দীর কাজকে চিরস্মরণীয় করে রাখেন সাফা-মারওয়ার সায়ী কি তার জ্বলন্ত উদাহরণ নয়? শিশু ইসমাঈল (আ.) তৃষ্ণায় মৃত্যুদ্বারে, মা হাজেরা (আ.) অধীর ব্যাকুল হয়ে ৭ বার দৌড়ালেন সাফা ও মারওয়ায় পানির খোঁজে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তা চির স্মরণীয় করে রাখলেন হজ্জ্ব ও ওমরাকারীদের জন্য সাফা মারওয়ায় সাতবার দৌড়ানো ওয়াজিব করে দেয়ার মাধ্যমে। দুগ্ধ পোষ্য শিশু ইসমাঈলের কচি পায়ের আঘাতে কঠিন শিলা থেকে যে পবিত্র পানির ধারা বের হতে থাকল, হাজার হাজার বছর ধরে, বিশ্ব মুসলিম তা পরম ভক্তিভরে পান করে আসছে, পান করতে থাকবে কিয়ামত পর্যন্ত। আল্লাহ বলেন, এখানে (মক্কা শহর এবং তার চতুর্দিকে) রয়েছে এমনি বহু সুষ্পষ্ট নিদর্শন এবং মাকামে ইবরাহীম। আমাদের দৃষ্টি, জ্ঞান সীমাবদ্ধ। ভবিষ্যৎ দেখার ক্ষমতা আমাদের নেই। মা হাজেরা (আ.) ও শিশু ইসমাঈল (আ.)-এর এই নির্বাসন আপাত দৃষ্টিতে বড় নির্মম মনে হয়, কিন্তু তা যে ছিল আল্লাহর মাস্টারপ্লান কার্যকর করণের সূচনা পর্ব, পরবর্তী ঘটনাবলীর মধ্য দিয়ে তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পুননির্মিত হয় সুপ্ত বায়তুল্লাহ- কাবা; প্রবর্তিত হয় হজ¦ ওমরার ইবাদত; গড়ে ওঠে মক্কা শহর, সেখানে আবির্ভূত হন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে আল্লাহর মনোনীত দ্বীন ইসলাম। আরাফা, মিনা, মুজদালিফা চিরস্থায়ীভাবে পরিণত হয় বিশ্ব মুসলিমের মহামিলন মেলায়। বস্তুত: মহাহাকিম আল্লাহর কোনো কাজই হিকমত থেকে খালি নয়।

কোরবানী আমরা করে থাকি এবং করব। কিন্তু আল্লাহর কি প্রয়োজন আছে রক্তের কিংবা গোস্তের? না। আল্লাহ বলেন, ‘জবেহকৃত এ পশুর গোশত, রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, পৌঁছে তোমাদের মনের তাকোয়া’ (২২:৩৮)। আল্লাহর জন্য আমাদের জান-প্রাণ সবকিছু উৎসর্গ করতে পারি কিনা, আল্লাহ তাই দেখতে চান। আল্লাহ কি হযরত ইবরাহীমের নিকট বাস্তবেই চেয়ে ছিলেন তাঁর ছেলে ইসমাঈলের কল্লা ও রক্ত? যদি চাইতেনই তবে তো ইবরাহীম (আ.) ইসমাঈল (আ.) এর গলায় তীক্ষèধার ছুরি চালিয়েই দিয়েছিলেন, সেতো জবেহ হয়েই যেতো। না, আল্লাহ তা চান নি। আল্লাহ দেখতে চেয়েছেন, তাঁর খুশির জন্য নিঃসঙ্কোচে পুত্রকে জবেহ করতে পারেন কিনা। সে মহাপরীক্ষায় হযরত ইবরাহীম (আ.) উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। তিনি মিনা ময়দানে নিয়ে গিয়ে পুত্রকে উপুড় করে ফেলে তীক্ষ্ণধার ছুরি তার গলায় চালিয়ে দিয়েছিলেন। তার পূর্বক্ষণে ইসমাঈলকে যখন জিজ্ঞাসা করেছিলেন, আল্লাহ হুকুম দিয়েছেন তোমাকে জবাই করতে, তোমার মতামত কী? বাপের যোগ্য বেটা ইসমাঈল তখন অকম্পিত কণ্ঠে উত্তর দিয়েছিলেন: পিতাঃ, আমাকে জবেহ করার যে নির্দেশ আপনি পেয়েছেন তা কার্যকর করুন, আমাকে জবেহ করুন। আল্লাহর ইচ্ছায় আমাকে ধৈর্য্যশীল পাবেন। পুত্র গলা পেতে দিলেন, পিতা তাতে ছুরি চালিয়ে দিলেন। আল্লাহর এরশাদ: ‘বল আমার নামাজ, আমার কোরবানী, আমার জীবন-মরণ সবকিছু হে আল্লাহ একমাত্র তোমারই জন্য।’ (৬:১৬২)

আল্লাহই মুমিন বান্দার সব। এ কেবল কথায় নয়, জায়গা, জমি, ধন-সম্পদ, মা-বাপ, স্ত্রী-সন্তান, এমন কি নিজের প্রাণের চেয়েও আল্লাহকে যখন বেশি প্রিয় বানাতে পারবে, ভালবাসতে পারবে তখনই হতে পারবে খাঁটি মোমিন। তখন গর্দানে তলোয়ার মেরেও তাকে ঈমানচ্যুৎ করা যাবে না। তখন সে নিজের জন্মভূমির মায়া পরিত্যাগ করে হিযরত করতে দ্বিধা করবে না। লড়াইয়ের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়ে শহীদ হতেও পিছপা হবে না। বরং তা পরম গৌরবের মনে করবে। আল্লাহর খুশির জন্য অকাতরে নিজের টাকা-পয়সা, অর্থ-সম্পদ নিরন্ন, অসহায়, দুর্গত, দুস্থ মানুষকে বিলিয়ে দিতে এতটুকু দ্বিধা করবে না। লোকের বাহবা পাওয়া নয়, যশঃ কিংবা খ্যাতির মোহে নয়। কেবল আল্লাহর খুশির জন্য। আল্লাহর খুশি যদি একমাত্র লক্ষ্য না হয়, তবে তো যেখানে মানুষ দেখবে না, জানবে না, দাতাগিরি জাহির করার সুযোগ অনুপস্থিত থাকবে, প্রয়োজন তীব্র থাকলেও সেখানে দানের হস্ত প্রসারিত হবে না। তাই নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়, কোরবানীর প্রকৃত শিক্ষা আমাদের গ্রহণ করতে হবে। আর এর প্রয়োজন এখন সব চেয়ে বেশি।

লাখো মানুষ এখন করোনা আক্রান্ত; লাখো লাখো লোক এখন কর্মহীন, বেকার, রোজগারের কোনো ব্যবস্থা নেই। এই মহামারীর দুর্যোগের উপর মরার উপর খাড়ার ঘার মতো প্রাদুর্ভাব ঘটেছে মহাপ্লাবনের। দেশের এক বিস্তীর্ণ অঞ্চল তলিয়ে আছে পানির নিচে। তিস্তা, পদ্মা, যমুনা, ব্র²পুত্র, ধলেশ্বরী, আড়িয়াল খাঁসহ অধিকাংশ নদ নদীর পানি বইছে বিপদ সীমার অনেক উপর দিয়ে। ফসল তলিয়ে গেছে পানির তলায়, ভাঙনে জায়গা জমি বসতবাটি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিলীন হয়ে যাচ্ছে নদী-গর্ভে। করোনার ছোবলে পর্যুদস্ত বন্যাকবলিত এসব গৃহহীন আশ্রয়হীন অসহায় মানুষদের কী যে করুণ অবস্থা তা ভাষায় ব্যক্ত করা যায় না। এদের পাশে গিয়ে দাঁড়াতে হবে। সাহায্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে, ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজে সর্বোতভাবে আত্মনিয়োগ করতে হবে। কোরবানীর মহাত্যাগের শিক্ষা সরে জমিনে প্রয়োগ করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে হবে। পরকালীন নাজাত ও জান্নাত লাভের এ সুযোগ গ্রহণ করতে হবে। আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অবশ্যই চাই। এ ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে যে,

বুভুক্ষ যবে জঠর জ্বালায় ভুলেছে মুখের হাসি
স্রষ্টা তখন বেদনা-কাতর বিষণ্ণ উপবাসী।
তৃষ্ণা-কাতর পায় না যখন তেষ্টা মেটাতে বারি
সেই তৃষ্ণার জ্বালা গিয়ে বাঁধে বুকে খোদ বিধাতারি।
নিপীড়িত সব মজলুমানের বুক ফাটা হাহাকার
কাঁপাইয়া তোলে মহিমান্বিত মসনদ আল্লার।
রুগ্ন, পীড়িত, আর্ত, আতুর, অনাথে সেবিল যেবা
স্বয়ং আল্লা’ বিশ্বপতির সেজন করিল সেবা।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহপাক বলেন: ‘তোমরা যা ভালবাস তা হতে ব্যয় না করা পর্যন্ত কখনো পুন্য লাভ করতে পারবে না। তোমরা যা কিছু ব্যয় কর আল্লাহ অবশ্যই সে সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত।’ (৩:৯২)

জান্নাতী লোকদের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আল্লাহপাক বলেন: ‘আহার্যের প্রতি আসক্তি থাকা সত্তে¡ও তারা অভাবগ্রস্ত, ইয়াতীম ও বন্দীকে আহার্য দান করে।’ (৭৬:৮) অর্থাৎ- তারা শুধু নিজেদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত আহার্যই দরিদ্রদেরকে দান করে না; বরং নিজেদের প্রয়োজন থাকা সত্তে¡ও দান করে।

আল্লাহপাক কুরআনুল কারীমের আর এক জায়গায় বলেন: ‘তাদের ধন-সম্পদে রয়েছে অভাবগ্রস্ত ও বঞ্চিতদের হক।’ (৫১:১৯) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন: ‘আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন: হে আদম সন্তান! তুমি দান করতে থাক, আমিও তোমাকে দান করব।’ (বুখারী) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘ঐ ব্যক্তি ঈমানদার নয়, যে পেটভরে খায়, অথচ তার পাশেই রয়েছে প্রতিবেশি ক্ষুধার্ত-অভুক্ত।’ (বায়হাকী)

আল্লাহ হলেন রাব্বুল আলামীন- বিশ্বজগতের প্রতিপালক। আর মানুষ হলো এই জমিনে আল্লাহর প্রতিনিধি। প্রতিনিধি হিসেবে তার অন্যতম দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে সৃষ্টির লালন-পালন। তাই আসুন, ত্যাগ ও কোরবানীর শিক্ষা অনুসরণ করে আমরা এই মহান দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে ব্রতী হই।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন