ঢাকা শুক্রবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২১, ০১ মাঘ ১৪২৭, ০১ জামাদিউল সানী ১৪৪২ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

১৮ দিনেই সিদ্ধান্ত বদল

বাড়বে জাল-জালিয়াতি

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৫ আগস্ট, ২০২০, ১২:০১ এএম

‘বিদেশগামীদের করোনা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক’ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ১৮ দিনের মাথায় সে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ‘বিদেশগামীদের কোভিড-১৯ সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক নয়’ নিয়েছে সরকার। ইতালি থেকে দুইটি বিমানের বাংলাদেশী যাত্রীদের ফেরত এবং রিজেন্ট-জেকেজির করোনার ভুয়া পরীক্ষা কেলেঙ্কারি নিয়ে বিতর্কের মধ্যে সরকার সিদ্ধান্ত নেয় বিদেশগামী যাত্রীকে করোনাভাইরাস পরীক্ষার সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক। আঠারো দিনের মাথায় সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকার। সরকার এখন বলছে, গন্তব্য দেশ যদি সার্টিফিকেট চায় তবেই নিতে হবে; নচেৎ সার্টিফিকেট ছাড়াই বিদেশ ভ্রমণ করতে পারবে বাংলাদেশিরা। বৃহস্পতিবারই একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়েছে।

জানতে চাইলে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান বলেন, এখন শুধুমাত্র যে দেশ থেকে চাওয়া হবে শুধু সেই দেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে এই করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট নিলেই হবে।

গত ১২ জুলাই বিদেশগামীকের করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট সংগ্রহের বাধ্যবাধকতার ঘোষণা দেয়া হয়। অতপর যেসব কেন্দ্রে করোনা পরীক্ষা করা হবে তার তালিকা প্রকাশ করা হয়। অতপর গত সপ্তাহ নিয়মটি কার্যকর করা হয়। এর দুতিন-দিন পরেই মিথ্যা তথ্যসম্বলিত সনদ নিয়ে বিদেশ ইংল্যান্ডে যাওয়ার ঢাকার বিমানবন্দরে ধরা পড়েন সরকারদলীয় একজন প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক মন্ত্রীর কন্যা ঐশী খান। এই ঘটনাটি বাংলাদেশে বিরাট সমালোচনা সৃষ্টি করে। পরে দেখা যায় যে ল্যাব করেনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট দেয় তারাই পজেটিভ সার্টিফিকেট দিয়ে নিজেদের ভুল স্বীকার করেন। এই প্রেক্ষাপটে মিডিয়ায় এমন খবরও বের হয় যে, বাংলাদেশ থেকে অনেকেই ভুয়া সনদ দেখিয়ে বিদেশ যাচ্ছেন।

২৩ জুলাই থেকে বাংলাদেশ থেকে সকল বিদেশগামী যাত্রীদের জন্য বিমানবন্দরে কোভিড-১৯ নেগেটিভ সার্টিফিকেট দেখানো বাধ্যতামূলক করার পর এই কয়েক দিনেই ব্যাপক সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়েছে বিদেশগামীদের। কারণ সারাদেশে মোট ১৩ জেলার সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে ১৩টি বুথে বিদেশগামীদের নমুনা পরীক্ষার বুথ রয়েছে। আর ঢাকায় রয়েছে মাত্র একটি।

৪৮ ঘণ্টা আগে সেখানে নমুনা দেয়ার কথা থাকলেও সময়মত তা হাতে না পাওয়ায় যাত্রীদের অনেকেই ফ্লাইট ধরতে পারছিলেন না। পর্যাপ্ত সংখ্যক বুথ না থাকার কারণে অনেকেই বিপাকে পড়েন। লম্বা লাইন দিতে হচ্ছিল যাত্রীদের। তাছাড়া যে সার্ভারে পরীক্ষার ফল আপলোড করতে হয় সেটি প্রায়শই ডাউন থাকার কারণে দেরি হয়েছে, বলে এর আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে।

দুই দিন আগেই সার্ভার ডাউন থাকার কারণে চট্টগ্রাম থেকে ফ্লাইট ধরতে পারেননি বেশ কটি ফ্লাইটের অনেক যাত্রী। বিশেষজ্ঞরা করোনা পরীক্ষার জাল-জালিয়াতি সার্টিফিকেট নিয়ে বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূতি নস্ট হয়েছে। এ অবস্থায় বিদেশগামীদের বাধ্যতামূলক পরীক্ষা থেকে সরে আসায় বিদেশ যাওয়ার জন্য করোনা পরীক্ষায় জাল-জালিয়াতি আরো বাড়বে। এতে আবার চ্যালেঞ্জের মুখে পরতে পারে দেশের ভাবমূর্তি। ইতালি থেকে বাংলাদেশী যাত্রীদের ফেরত পাঠানোর ঘটনায় যা ক্ষুন্ন হয়েছে তা উদ্ধারের জন্য চেস্টা করে যাচ্ছে সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (7)
হোসাইন এনায়েত ৩১ জুলাই, ২০২০, ১:০৮ এএম says : 0
বাংলাদেশের এই একটা বড় সমস্যা। কোনো স্থির সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।
Total Reply(0)
কামাল ৩১ জুলাই, ২০২০, ১:০৯ এএম says : 0
এই সিদ্ধান্তটা আগে নিলে কি হতো? এত অস্থিরতাায় ভুগলে দেশ এগোবে কি করে।
Total Reply(0)
বাতি ঘর ৩১ জুলাই, ২০২০, ১:০৯ এএম says : 0
বাংলাদেশে করোনা পরীক্ষার সার্টিফিকেট আর কোনো দেশ মূল্যায়ন করবে বলে মনে হয় না।
Total Reply(0)
মরিয়ম বিবি ৩১ জুলাই, ২০২০, ১:০৯ এএম says : 0
এবার সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
Total Reply(0)
জামাল ৩১ জুলাই, ২০২০, ৮:৫৫ পিএম says : 0
আমি এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করতে পারছিনা
Total Reply(0)
শুভ ৩১ জুলাই, ২০২০, ৮:৫৭ পিএম says : 0
যেকোনো সিদ্ধান্ত চিন্তা ভাবনা করে নেওয়া উচিত
Total Reply(0)
Mohammed Shah Alam Khan ৩১ জুলাই, ২০২০, ১০:৪১ পিএম says : 0
এরশাদ সরকারের আগে আমি কখনও সরকারের নেয়া সিদ্ধান্ত বদলাতে দেখিনি। এরশাদ ক্ষমতায় আসার পর প্রায় দেখেছি সরকার একটা সিদ্ধান্ত নেয়ার পর সেটা নিয়ে জনগণ আন্দোলন বা চেচামেচি শুরু করলেই সেই নির্দেশ আবার পরিবর্তন করা হতো। তবে সরকার নিজের ইচ্ছায় কখনও তাদের নেয়া সিদ্ধান্ত বদলায়নি। এরশাদ সরকারের পূর্বে কোন সরকারই একবার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলে সেটার আর পরিবর্তন করেনি। এই প্রচলনটা বৃটিশ সরকারের সময় থেকেই চলে আসছিল। এটাও দেখাগেছে আল্লাহ্‌ কোন সিদ্ধান্ত একবার নিয়ে নিলে সেটার আর পরিবর্তন হয় না। সরকারের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের এই প্রথাটা প্রথমে দেখা গেছে এরশাদ মিয়ার আমলে। তবে তিনি (এরশাদ মিয়া) জনগণের ইচ্ছার কারনেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতেন। কিন্তু সরকার এই বিষয়ে আরো একধাপ এগিয়ে গেছেন তারা তাদের সিদ্ধান্ত জনগণের ইচ্ছায় নয় নিজেরাই নিজেদের ইচ্ছায় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করছেন। এই করোনা পরিস্থিতিতে সরকার তাদের নেয়া সিদ্ধান্ত অহরহ পরিবর্তন করছে। প্রশাসনিক দিক থেকে এটাকে একটা অযগোত্যা হিসাবেই ধরা হয়ে থাকে। আল্লাহ্‌ আমাকে সহ সবাইকে আল্লাহ্‌র নির্দেশ এবং আল্লাহ্‌র আইন মেনে চলার শক্তি দান করুন। আমিন
Total Reply(0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন