ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮ আশ্বিন ১৪২৭, ০৫ সফর ১৪৪২ হিজরী

রাজনীতি

দেশে পরিবর্তন আসবে-মির্জা ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৪ আগস্ট, ২০২০, ৮:০৩ পিএম

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে দেশে পরিবর্তন আসবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, অনেকে এখানে বলেছেন যে হতাশার কোনো জায়গা নেই। পরিবর্তন তো হবেই, পরিবর্তন আসতে হবে। সেই পরিবর্তনের জন্যই কাজ করতে হবে। জনগণকে সামনে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে, সকলের মধ্যে ঐক্য সৃষ্টি করে আমাদেরকেই পরিবর্তন আনতে হবে, দেশে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হবে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকালে বিএনপির উদ্যোগে স্বেচ্ছাসেবক দলের মরহুম সভাপতি শফিউল বারী বাবু ও বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মরহুম আবদুল আউয়ালের স্মরণে এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা যে লড়াইটা লড়ছি- সেটা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই, এদেশের মানুষের বেঁচে থাকার জন্য লড়াই, এদেশের মানুষের যে মালিকানা, তার রাষ্ট্রের মালিকানা তা ফেরত পাওয়ার লড়াই। এই লড়াইয়ে প্রায় বেশির ভাগ মানুষের সমর্থন রয়েছে। গণতান্ত্রিক অবস্থা তারা ফিরে পেতে চায়, তারা গণতন্ত্রকে ফিরে পেতে চায়, তারা অধিকার ফিরে পেতে চায়, তারা ভোট দিতে চায়। কিন্তু হচ্ছে না, পারা যাচ্ছে না। কেনো যে এখানে এমন একটা শক্তি, যে শক্তি পুরোপুরিভাবে সমস্ত রাষ্ট্রযন্ত্রকে দখল করে নিয়ে, ক্ষমতা দখল করে বসে সেই স্বপ্নগুলোকে খান খান করে দিচ্ছে। এজন্য এখন আমাদের ভাবতে হবে।

তিনি বলেন, এখন বিশ্ব্ পরিস্থিতি যা আছে, সেই বিশ্ব পরিস্থিতিতে যে রাজনীতি যেটা এসে দাঁড়িয়েছে সেখানে আমাদের গণতন্ত্রের উত্তরণটা কিভাবে? এটা এতো সহজ নয়। ডিক্টেটর থেকে ডেমোক্রেসি অথবা ফ্যাসিজম থেকে ডেমোক্রেসি-এটা এতো সহজে আসেনা। এরজন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়, অনেক প্রাইজ পে করতে হয়। আমরা কিন্তু গণতান্ত্রিক দল হিসেবে বিএনপি ইতোমধ্যেই আমরা প্রচুর দান দিয়েছি, দিচ্ছি, দিয়ে চলেছি। প্রায় ২০ লাখ আসামী মিথ্যা মামলায়, এক লাখের উপরে মামলা, আমাদের প্রায় হাজারের উপর মানুষ গুম হয়ে গেছে, হাজারের উপরে মানুষ খুন হয়ে গেছে এবং কথা বলার কোনো স্বাধীনতা নেই, বিচার পাওয়া যাচ্ছে না এবং অর্থনৈতিক ন্যূনতম যেটুকু স্বাধীনতা ছিলো সেটাও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব বলে আমরা মনে করি, আমাদের রাজনৈতিক দল হিসেবে জনগনকে সংগঠিত করা। জনগণ ভয়াবহ স্বৈরাচার ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ হয়ে আছে তাদেরকে আমাদের সংগঠিত করতে হবে এবং তাদের অধিকারটা ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হবো, এছাড়া হবে না।

শফিউল বারীর বাবুর ব্যক্তিগত জীবনের কথা উল্লেখ বিএনপি মহাসচিব বলেন, বাবুর ছোট ছোট দুইটা বাচ্চা আছে। মেয়েটার বয়স ৯, ছেলেটার ৫ প্লাস হবে এবং তাদের নিজের মাথা গুজার ঠাই নেই এখানে। ভাড়া বাসায় আছে এবং জানে না ভবিষ্যত কি হবে। কারণ তার স্ত্রী আগে একটা কাজ করতো, কিছুদিন হলো সেই কাজটা ছেড়ে দিয়েছে। আমি আজকে সকলের কাছে অনুরোধ জানাব- আপনারা যারা সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন, যারা সত্যিকার অর্থে ত্যাগী নেতৃত্ব তৈরি করতে চান তারা দয়া করে এগিয়ে আসবেন এবং এই পরিবারটিকে রক্ষা করার তারা যেন যথাযোগ্য মর্যাদা নিয়ে টিকে থাকতে পারে সেই কাজটুকু যেন আমরা করি ভবিষ্যতে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বাবু (শফিউল বারী বাবু) ও আউয়াল খান (আবদুল আউয়াল খান) কে হারিয়ে আমরা একেকজন যে উদীয়মান তরুন নেতাকে হারালাম। তারা নিজ নিজ এলাকায় যেভাকে কাজ করছিলো, আমাদের ভবিষ্যত নেতৃত্ব দেয়ার জন্য তারা প্রস্তুত হচ্ছিল। নেতা একদিনে তৈরি হয় না। তাদের জীবনটা যদি আলোচনা করা যায়, তাহলে দেখা যাবে নেতা হতে হলে কত পরীক্ষা, কত ত্যাগ, কত জেল, কত জুলুম, কত মামলা খেয়ে একজন নেতা হতে পারে। এই দুই উদীয়মান নেতা আমাদের থেকে চলে গিয়ে বিএনপির অপুরনীয় ক্ষতি হয়েছে, এই ক্ষতি কিভাবে পুরণ হবে সেটা আমরা এখনো বলতে পারি নাই।

গত ২৮ জুলাই শফিউল বারী বাবু ফুসফুসের জটিলতায় ও গত ২০ জুলাই করোনায় আক্রান্ত হয়ে আবদুল আউয়াল খান মারা যান।

বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি পরিচালনায় আলোচনা সভায় দলের ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খান খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন ও স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর শরাফত আলী সপু, যুব দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু বক্তব্য রাখেন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন