ঢাকা সোমবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২১, ০৪ মাঘ ১৪২৭, ০৪ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

উপসর্গে মৃত্যু ৫

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৬ আগস্ট, ২০২০, ১২:০৪ এএম

করোনা উপসর্গ সর্দি, জ্বর, কাশি, গলাব্যথা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে সারা দেশে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এদের কারো শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি ছিল কিনা তা নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রামে করোনায় সুস্থতার হার বাড়ছে। গতকাল বুধবার পর্যন্ত ১০ হাজার ২ জন রোগী সুস্থ হয়েছেন। তাদের মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন দুই হাজার ৫১৭ জন। আর বাসায় থেকে সুস্থ হয়েছেন সাত হাজার ৪৮৫ জন। গতকাল আরো ১১৯ জনসহ এই পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৪ হাজার ৬২৫ জন। সুস্থতার হার প্রায় ৬৯ শতাংশ।
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, গত চব্বিশ ঘণ্টায় আরো দুই জনসহ এ পর্যন্ত করোনায় মারা গেছেন ২৩৬ জন। বেসরকারি হাসপাতালে করোনা রোগী ভর্তি আছেন ৯১ জন। উপসর্গ নিয়ে ভর্তি আছেন আরো ১৩২ জন। সরকারি বেসরকারি মিলে করোনা চিকিৎসায় ৬০ ভাগ শয্যা এবং ৫০ ভাগ আইসিইউ খালি বলেও জানান তিনি। চট্টগ্রামে প্রবাসীদের নমুনা পরীক্ষা অব্যাহত আছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত দুই হাজার ৩৩৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৩৭ জনের করোনা পজেটিভ পাওয়া গেছে। ঈদের পরবর্তি ১৪ দিন সংক্রমণের হার বাড়তে পারে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।
বরিশাল ব্যুরো জানায়, দক্ষিণাঞ্চলে ঈদ উল আজহার ছুটি কাটিয়ে করোনা পরিক্ষার সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে শনাক্তের হারও বাড়তে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণাঞ্চলের ৬ জেলায় আগের দিনের তুলনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১৮ জন বৃদ্ধি পেয়ে ৬৭ জনে উন্নীত হয়েছে। এসময়ে বরিশালের আগৈলঝাড়াতে ৭০ বছর বয়স্কা এক নারীর মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে এ অঞ্চলে মোট সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে ১২১। এ নিয়ে চলতি মাসের প্রথম ৫ দিনে পাঁচজনের মৃত্যু ও ১২১জন আক্রান্তের খবর দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় শের এ বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসালেশন ওয়ার্ডে করোনা উপসর্গ নিয়ে আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে।
ঈদের ছুটির কারনে ১ আগস্ট থেকে করোনা পরিক্ষার সংখ্যা আশংকাজনকভাবে কমে যাওয়ায় বিপুল সংখ্যক শনাক্তের বাইরে রয়েছে বলে মনে করছেন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞগন। বুধবার নতুন আক্রান্ত সহ দক্ষিণাঞ্চলে মোট সংখ্যাটা ৬ হাজার ৬৯-এ উন্নীত হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য বিভাগের অনুমিত হিসেবনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ১শ জন সহ মোট সুস্থ হয়েছেন ৩ হাজার ৯০৫জন।
তবে ঈদেরে ছুটি কাটিয়ে নমুনা পরিক্ষার সংখ্যা যথেষ্ঠ বৃদ্ধি পেয়েছে মঙ্গলবারে। শের এ বংলা মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে ২৮২ জনের নমুনা পরিক্ষায় ৬৫ জনের ও ভোলার ল্যাবে ৪০ জনের পরিক্ষায় ৯জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশালে আক্রান্তের সংখ্যা আগের দিনের ১৭ থেকে ২৭ জনে বৃদ্ধি পাবার পাশাপাশি আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে জেলায় মোট মৃতের সংখ্যাটা দাড়াল ৪৫ জনে। আক্রান্ত ২,৫২৪। আর জেলায় আক্রান্ত ও মৃতদের সিংহভাগই এখনো বরিশাল মহানগরীতে। নুন্যতম স্বাস্থ্য বিধি অনুসরন বিহীন এনগরীর প্রতিটি পাড়া মহল্লায় এখন করোনা রোগী। সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলে করোনার হটস্পট এ নগরীতে মহামারি প্রতিরোধে দায়িত্ব কার তা বলতে পারছেন না নগরবাশী। তবে স্বাস্থ্য বিভাগের অনুমিত হিসেবে জেলায় এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১,৬৬৭ জন।
ছোট জেলা বরগুনাতেও আক্রান্তের সংখ্যা আগের দিনের দুই থেকে ১৫ জনে বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলাটিতে এ পর্যন্ত মোট ৬৭৮ জন আক্রান্তের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের। অনুমিত হিসেবে সুস্থ হয়েছেন ৪৩৫ জন। ভোলাতেও আক্রান্তের সংখ্যা আগের দিনের ৪ থেকে ৯ জনে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে জেলাটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৫৪ জনে। এপর্যন্ত মারা গেছেন ৬ জন। আর স্বাস্থ্য বিভাগের হিসবনুযায়ী সুস্থ হয়েছেন ৩৮১জন। পটুয়াখালীতেও গত ২৪ ঘণ্টায় নুতন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৬জন। যা আগের দিন ছিল ১০। জেলাটিতে এ পর্যন্ত আক্রান্ত ১,০৬১ জনের মধ্যে মারা গেছেন ৩৩ জন। আর সুস্থ হয়েছেন ৬৮৮ জন।
দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে ছোট জেলা ঝালকাঠীতেও আক্রান্তের সংখ্যা আগের দিনের সমান ৬ জনই রয়েছে বুধবারেও । তবে জেলাটিতে এ পর্যন্ত ৫০২ জন আক্রান্তের মধ্যে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলাটিতে কোন সুস্থতার খবর নেই। তবে অনুমিত হিসেবে এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২৯২ জন।
এদিকে বরিশাল শের এ বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করেনা ওয়ার্ডে গত ২৪ ঘণ্টায় দুজনকে ভর্তি করা হলেও সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন আরো ৬ জন। এসময়ে হাসপাতালটির আইসোলেশন ওয়ার্ডেও ৯ জনকে ভর্তি করা হলেও ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫ জন। বর্তমানে এ দুটি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ৬৩ জন। এরমধ্যে করোনা ওয়ার্ডে রয়েছেন ২৪ জন। আর এ দুটি ওয়ার্ডে ভর্তিকৃতদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ১১ জনের নমুনা পরিক্ষায় ৬ জনের দেহে করেনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। এনিয়ে হাসপাতালটিতে ভর্তিকৃতদের মধ্যে ৯৭২ জনের নমুনা পরিক্ষায় ৩৬৬ জনের দেহে করেনা শনাক্ত হল।
ঝিনাইদহ জেলা সংবাদদাতা জানান, ঝিনাইদহে নতুন করে আরও ২৯ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাড়ালো ১০১৬ জন। ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন কার্যলয়ের মেডিক্যাল অফিসার ও করোনা সেলের মুখপাত্র ডা. প্রসেনজিৎ বিশ্বাস পার্থ জানান, সকালে কুষ্টিয়া ল্যাব থেকে ঝিনাইদহে ৯৩ টি নমুনার রিপোর্ট এসেছে। এর মধ্যে ২৯ টি পজেটিভ। আক্রান্তরা হলেন, সদর উপজেলায় ৪ জন, কালীগঞ্জ উপজেলায় ১৫ জন, শৈলকুপা উপজেলায় ৩ জন, কোটচাদপুর উপজেলায় ৪ জন এবং হরিনাকুন্ডু উপজেলায় ৩ জন। আক্রান্ত ১০১৬ জনের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৪৮৭ জন। কোভিড-১৯ হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২৪ জন। জেলায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১৭ জন।
কুষ্টিয়া থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, কুষ্টিয়ায় নতুন করে আরো ৭৪জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। গতকাল রাতে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের বরাত দিয়ে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পিসিআর ল্যাবে ৪ আগস্ট মোট ৩১২ টি স্যাম্পলের নমুুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে কুষ্টিয়া ১৯৬ চুয়াডাঙ্গা ৯০ ও মেহেরপুর ২৬ টি নমুনা ছিলো। তাতে কুষ্টিয়ায় নতুন করে আরো ৭৪জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এর মধ্যে কুষ্টিয়া জেলার সদর উপজেলার ৪৫ জন,মিরপুর উপজেলায় ৮, দৌলতপুর উপজেলায় ৪জন ও কুমারখালী উপজেলায় ১৭জন। জেলায় এ নিয়ে ১ হাজার ৭৫০ জন কোভিড রোগী শনাক্ত হলেন আর মারা গেছেন ৩৫ জন।
কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঘরের বাহিরে যাওয়ার প্রয়োজন হলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করুন। অতি-প্রয়োজনীয় না হলে বাহিরে যাওয়া থেকে বিরত থাকুন। সামাজিক দুরত্ব মেনে চলুন। অনুগ্রহ করে সতর্ক থাকুন, সাবধানে থাকুন।
ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে জ্যামিতিক হারে বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা, গত এক মাসে আক্রান্ত হয়েছে ৫৭ জন এর মধ্যে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৮৬ জন, এর মধ্যে গত জুলাই মাসে আক্রান্ত হয়েছে ৫২জন ও চলতি আগষ্ট মাসে ৪দিনে আক্রান্ত হয়েছে ১৩জন। উপজেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে জুলাই মাসেই ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাসানুল হোসেন বলেন, এই উপজেলায় এপ্রিল মাসের ১৪ তারিখে এনামুল হক নামে এক যুবক প্রথম করোনায় আক্রান্ত হয়। এরপর মে মাসে আক্রান্ত হয় ৬ জন, জুন মাসে আক্রান্ত হয় ১৪জন, জুলাই মাসে আক্রান্ত হয় ৫২ জন এবং গতকাল আগষ্ট মাসের ৪দিনে আক্রান্ত হয়েছে ১৩জন। এই পর্যন্ত মোট আক্রান্ত হয়েছে ৮৬জন। এর মধ্যে ৪৪জন সুস্থ হয়েছে এবং ৩৪জন আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ডা. হাসানুল হোসেন জানান, এই উপজেলায় গত জুলাই মাসের ২তারিখে মোহনা বেগম (৩২) নামে এক মহিলা করোনায় মৃত্যুবরণ করেন, এরপর গত ৮জুলাই আব্দুল হাকিম (৬২) নামে একজন, ২০ জুলাই লুৎফুন নেছা নামে একজন, ২৫ জুলাই বদরুল আনছারী ও ফজলু সরকার নামে ২জন এবং ৩০ জুলাই মোজাম্মেল হোসেন নামে একজন মৃত্যু বরণ করেছেন।
এদিকে করোনা রোগী জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পেলেও, উপজেলা প্রশাসন নিরব ভ‚মিকা পালন করে যাচ্ছে। সাধারণ জনগনের মধ্যে দেখা মিলছেনা কোন সচেতনা কোথাও স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার বাধ্য বাধকতা নেই। স্বাস্থ্য বিধি উপেক্ষা করে চলাচল করলেও, প্রশাসনের কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছেনা। এই বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার ভূমি কানিজ আফরোজ বলেন, জন-সচেতনা বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নিয়মিত কাজ চলছে, প্রয়োজনে আবারো ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান চালিযে জনগণের সচেতনা বৃদ্ধিসহ স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঠাকুরগাঁও জেলা সংবাদদাতা জানান, ঠাকুরগাঁওয়ের একজন স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এ নিয়ে জেলায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৮ ।
বুধবার দিবা গতরাতে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে করোনাভাইরাসের উপসর্গ জ্বর, শ্বাসকষ্ট নিয়ে মো. আবুল খায়ের (৬৫) নামে এক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মৃত্যু হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
রামগতি (লক্ষীপুর) : লক্ষীপুরের রামগতিতে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে মো. শাহজাহান (৬৫) নামে এক সাবেক ইউপি সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা যাওয়ার পথে গত মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে দাউদকান্দি এলাকায় তিনি মারা যান।

বাগেরহাট : বাগেরহাট সদর হাসপাতালের করোনা উপসর্গ নিয়ে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি ইব্রাহীম বিশ্বাস (৭২) নামে এক ব্যবসায়ী ও জাহিদ হোসেন তালুকদার(৪৫) নামে এক ঘের মালিক মারা গেছেন। ইব্রাহীম বিশ্বাস ফকিরহাট বাজারের ন্যাশনাল ইলেকট্রোনিক ও ওয়াল্টন শো রুমের মালিক। জাহিদ হোসেন মোড়েলগঞ্জ উপজেলার ফুলহাতা গ্রামের শফিজউদ্দিনের ছেলে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন