ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯ আশ্বিন ১৪২৭, ০৬ সফর ১৪৪২ হিজরী

খেলাধুলা

জুভেন্টাসের সহজ, রিয়ালের কঠিন পথ

স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৭ আগস্ট, ২০২০, ১২:০২ এএম

আজ রাত থেকে ফের মাঠে গড়াতে যাচ্ছে করোনাভাইরাসের থাবায় স্থগিত থাকা উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। এরই মধ্যে শেষ হয়েছে এই ইউরোপের সর্বোচ্চ এই টুর্নামেন্টে টিকে থাকা দলগুলোর ঘরোয়া লিগ। ইউরোপ সেরার মঞ্চে নামার আগে একেক ক্লাবের কেটেছে একেক রকম সময়।
জার্মান বুন্দেসলিগার শিরোপা জিতেছে বায়ার্ন মিউনিখ। টানা নবমবারের মতো ইতালিয়ান সিরি ‘আ’র চ্যাম্পিয়ন হয়েছে জুভেন্টাস। করোনাভাইরাস বিরতির আগে পিছিয়ে থাকা রিয়াল মাদ্রিদ চিরপ্রতিদ্ব›দ্বী বার্সেলোনাকে টপকে জিতেছে শিরোপা।
বাতিল হয়ে যাওয়া ফরাসি লিগ ওয়ানের মুকুট মাথায় পরেছে পিএসজি। সেরি আয় মুগ্ধতা ছড়িয়েছে আতালান্তা। করোনাভাইরাস বিরতির পর স্বরূপে ফিরেছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। খারাপ কাটেনি লাইপজিগেরও। এই চার দল কোয়ার্টার-ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আগেই। বাকি চার টিকেটের লড়াইয়ে ফিরতি লেগে নামবে আট দল। যাদের চার দল নামছে আজ রাতেই। শেষ ষোলর ফিরতি লেগে আজ জুভেন্টাসের মুখোমুখি অলিম্পিক লিওঁ এবং ম্যানচেস্টার সিটির প্রতিপক্ষ রিয়াল মাদ্রিদ।
প্রায় ছয় মাস আগেই লিওঁ প্রশ্ন তুলেছিল শেষ ষোলোর প্রথম লেগ আয়োজন নিয়ে। সেই সময়ে করোনাভাইরাসের থাবায় জেরবার ছিল ইতালি। তারপরও ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রায় ৬০ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে, যেখানে ছিলেন জুভেন্টাসেরও হাজার তিনেক দর্শক। নিজেদের মাঠে লিওঁ জিতেছিল ১-০ গোলে।
মাঝের সময়টাতে পানি গড়িয়েছে অনেক। করোনাভাইরাসের কারণে বাতিল হয়ে যাওয়া লিগ ওয়ানে সপ্তম হয়েছে লিওঁ। গত শুক্রবার ফরাসি লিগ কাপের ফাইনালে পিএসজির কাছে হেরেছে তারা; ফ্রান্সে খেলা পুনরায় শুরুর পর এটাই ছিল দলটির প্রথম প্রতিযোগিতাম‚লক ম্যাচ। মানেটাও পরিষ্কার, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতলেই কেবল পরের মৌসুমে ইউরোপ সেরা আসরে খেলতে পারবে লিওঁ।
সিরি ‘আ’র শিরোপা ধরে রাখলেও খুব যে ভালো অবস্থায় জুভেন্টাস আছে, তা নয়। লিগের শেষ আট ম্যাচে মাত্র দুটিতে জিতেছে তারা। হেরেছে চারটিতে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দলটি খুব করে তাকিয়ে থাকবে সেরা তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দিকে। কোয়ার্টার-ফাইনালে যেতে আজ রাতের ফিরতি লেগে কমপক্ষে ২-০ গোলে জিততে হবে মাওরিসিও সাররির দলকে।
এদিকে, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা থেকে কিছুদিন আগেই মুক্তি পেয়েছে সিটি। পেপ গার্দিওলার দলের জন্য এটি ছিল অন্যরকম একটি জয়। নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে আরও উদ্বুদ্ধ থাকবে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দলটি। শেষ ষোলোর প্রথম লেগে রিয়ালের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যু থেকে ২-১ গোলের জয় নিয়ে ফিরেছিল সিটি। প্রথম লেগের জয় ও দুটি মূল্যবান অ্যাওয়ে গোল থাকায় ভালো অবস্থানে আছে তারা। তবে স্বস্তির সঙ্গে দুর্ভাবনাও আছে সিটির। ঘরের মাঠ ইতিহাদের এই ম্যাচে দলের তারকা ফরোয়ার্ড সার্জিও আগুয়েরোকে চোটের কারণে পাচ্ছেনা সিটিজেনরা। এবার দলটি লিগের মুকুটও হারিয়েছে। ২০১৬ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমি-ফাইনালে রিয়ালের কাছে হেরে ছিটকে পড়ার তেতো অভিজ্ঞতাও সিটির সঙ্গী।
রিয়ালকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ‘রাজা’ বলেন অনেকে। প্রতিযোগিতাটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১৩ বার সেরা হওয়া স্পেনের দলটি গত ছয় আসরের মধ্যে চারবারই শিরোপা জিতেছে। প্রথম লেগের হারে পিছিয়ে থাকলেও ফুটবল পুনরায় শুরু হওয়ার পর রিয়াল বদলে গেছে অনেকটা। বার্সেলোনাকে পেছনে ফেলে লা লিগার মুকুট পুনরুদ্ধার করেছে জিনেদিন জিদানের দল; চ্যাম্পিয়ন্স লিগের জন্যও সঞ্চয় করেছে বাড়তি আত্মবিশ্বাস।
কিন্তু ফিরতি লেগে রিয়ালের বড় এক দুর্ভাবনার জায়গা সার্জিও রামোসকে না পাওয়া। প্রথম লেগের লাল কার্ডে নির্ভরযোগ্য এই ডিফেন্ডারকে ফিরতি লেগে পাচ্ছে না তারা। অথচ শেষ আটে উঠতে রিয়ালকে সিটির মাঠে কঠিন লড়াইয়ে নামতে হবে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন