ঢাকা সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৩ আশ্বিন ১৪২৭, ১০ সফর ১৪৪২ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

ভয়াবহ বিস্ফোরণের কারণ বোমা বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হতে পারে: লেবাননের প্রেসিডেন্ট

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৮ আগস্ট, ২০২০, ১২:২৭ পিএম

গত ৪ আগস্ট মঙ্গলবার লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের কারণ ক্ষেপণাস্ত্র বা বোমা হামলা হতে পারে বলে গতকাল শুক্রবার লেবাননের প্রেসিডেন্ট মাইকেল আউন মন্তব্য করেছেন।

বিস্ফোরণের চার দিন পর শুক্রবার বৈরুতে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সন্দেহের কথা তুলে ধরেন আউন। তিনি বলেন, শস্যভাণ্ডার ধ্বংসের কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে এতে বাইরের কোনো দেশের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। বাইরে থেকে রকেট হামলা, বোমা অথবা অন্য কোনো মাধ্যমে গুদামঘরে হামলা হয়ে থাকতে পারে বলেও মন্তব্য করেন লেবানিজ প্রেসিডেন্ট।
শুক্রবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট অ্যামেনুয়েল ম্যাক্রন লেবানন সফরে গেলে প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন তার কাছে বিস্ফোরণের সময়কার স্যাটেলাইটে ধারণ করা ছবি দিয়ে তদন্ত কাজে সহযোগিতার আহ্বান জানান।
এর আগে গত মঙ্গলবার এক বৈঠকে দেশটির প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব বলেছেন, বৈরুতের একটি গুদামে প্রায় ২ হাজার ৭৫০ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট মজুদ ছিল এবং তাই বিস্ফোরিত হয়েছিল।
তিনি আরও বলেছিলেন, এটি অগ্রহণযোগ্য যে, কোন ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই প্রায় ২ হাজার ৭৫০ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট একটি গুদামে ছয় বছর ধরে ছিল।

 

গত মঙ্গলবার বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনভাবে তদন্ত চলছে, প্রথমত বিস্ফোরক উপাদান কীভাবে গুদামঘরে ঢুকল এবং সংরক্ষণ কীভাবে করা হয়েছিল।
দ্বিতীয়ত, বিস্ফোরণটি দুর্ঘটনাবসত অথবা অবহেলার কারণে হয়েছে কিনা সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সবশেষ এতে বাইরের কোনো সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলেও মনে করেন তিনি। তবে তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসবে বলে আশাবাদী লেবাননের প্রেসিডেন্ট।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৫৭ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় লেবাননের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে সাইপ্রাসের সরকার। তাছাড়া কাতার, ইরাক ও কুয়েত দেশটিতে চিকিৎসা সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। বৈরুতে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট দুটি ফিল্ড হাসপাতাল পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে কাতার। লেবাননের জনগণের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে ফিলিস্তিন সরকার ও প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস।
বিশাল ওই দুর্ঘটনায় দেশটির জনগণের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসলেও সেই শোক বর্তমানে সরকারে বিরুদ্ধে ক্ষোভে পরিণত হচ্ছে।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে মধ্যে সরকারবিরোধী ক্ষোভ বাড়ছে। লেবাননের জনগণ জানাচ্ছে, সরকারের অবহেলার কারণে এই দুর্ঘটনা।
এরই মধ্যে গত বৃহস্পতিবার বৈরুতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সাথে সরকার বিরোধী বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। বিবিসি, টেলিগ্রাফ, ইউরো নিউজ

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন