ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১ আশ্বিন ১৪২৭, ০৮ সফর ১৪৪২ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

আগরতলা বারাসাত গৌহাটিতে একাধিক বাড়ি প্রদীপের

স্ত্রী চুমকির নামেই বেশি সম্পদ

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১০ আগস্ট, ২০২০, ১২:০০ এএম

টেকনাফের মেজর (অব.) সিনহা হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশের দেশ-বিদেশে রয়েছে সম্পদের পাহাড়। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে ভারত এবং অস্ট্রেলিয়ায় গড়ে তুলেছেন সম্পদ-সাম্রাজ্য। ঘুষ, দুর্নীতি, ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পত্তি অর্জন করেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে উঠে এসেছে প্রদীপ কুমার দাশের বিপুল অবৈধ সম্পদের তথ্য।

দুদক সূত্র জানায়, সিনহা হত্যা মামলার আসামি টেকনাফের গ্রেফতারকৃত ওসি প্রদীপ কুমারের নামে-বেনামে থাকা সম্পদের অনেক তথ্য এখন দুদকের হাতে। ইতিমধ্যে সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য সংস্থাটি সংগ্রহ করেছে। এছাড়া নিজস্ব গোয়েন্দা ইউনিটও অনেক তথ্য সংগ্রহ করেছে। বিষয়টির অনুসন্ধানে একটি বিশেষ টিম কাজ করছে। এর আগে ২০১৮ সালে প্রদীপের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করে দুদক। এ সময় দুদকে নিজের সম্পদ বিবরণীও দাখিল করেন প্রদীপ। তবে অদৃশ্য ইশারায় সেই অনুসন্ধান ধামাচাপা পড়ে ছিল।

মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যার ঘটনা আলোচনায় এলে প্রদীপ কুমার দাশের ফাইলটি আবার সচল হয়। দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত গতকাল রোববার সাংবাদিকদের বলেন, তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। দেশে এবং বিদেশে বিশেষ করে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এবং অস্ট্রেলিয়ায় তার সম্পদ রয়েছে। এসব তথ্য এখন দুদকের হাতে। একটি বিশেষ টিম এ নিয়ে কাজ করছে।

দুদক সূত্র আরও জানায়, ২০১৮ সালে প্রদীপের সম্পদ অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। সেখানে সম্পদের তিনি যে তথ্য দিয়েছেন তাতে অধিকাংশ তথ্যই তিনি গোপন করেছেন। ওই তথ্যের বাইরেও চট্টগ্রামের লালখান বাজারে ফ্লাট, কক্সবাজারে দুটি হোটেলের মালিকানা, দেশের বিভিন্ন স্থানে জায়গা-জমি ও ভবন রয়েছে। এছাড়া ভারতের আগরতলা, কলকাতার বারাসাত, গৌহাটি এবং অস্ট্রেলিয়ায় তার বাড়ি রয়েছে।

সূত্রমতে, তার অবৈধ আয়ের অর্থ দিয়ে স্ত্রী চুমকির নামে বেশি সম্পদ কিনেছেন। বোয়ালখালীতে স্ত্রীর নামে কয়েক কোটি টাকার সম্পদ কিনেছেন। বোয়ালখালী সারোয়াতলী ইউনিয় এলাকায় মাছের খামার রয়েছে। বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়ি, বিপুল পরিমাণ কৃষি-অকৃষি জমি। চুমকির নামে প্রদীপ ব্যাংকে রেখেছেন বিপুল অঙ্কের টাকা। বিদেশে টাকা পাচারের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। চুমকি গৃহিণী হলেও দুদকে জমা দেয়া হিসাব বিবরণীতে তাকে মৎস্য খামারি হিসেবে দেখানো হয়েছে। ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূলধনে শুরু করা মৎস্য খামারে চুমকি প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা আয় করেছেন। মৎস্য চাষের লাভের টাকায় কিনেছেন চট্টগ্রাম নগরীতে জমি, গাড়ি-বাড়ি।

হিসাব বিবরণীতে চুমকির স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে-নগরীর পাথরঘাটা এলাকায় চার শতক জমি (দাম ৮৬ লাখ ৭৬ হাজার টাকা)। এ জমিতে গড়ে তোলা ৬ তলা ভবনের (মূল্য ১ কোটি ৩০ লাখ ৫০ হাজার), পাঁচলাইশে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে কেনা হয় ৬ গন্ডা ১ কড়া জমি (দাম এক কোটি ২৯ লাখ ৯২ হাজার ৬০০ টাকা); ২০১৭-১৮ সালে কেনা হয় কক্সবাজারে ঝিলংজা মৌজায় ৭৪০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট (দাম ১২ লাখ ৩২ হাজার টাকা)। সব স্থাবর সম্পদের মূল্য দেখানো হয়েছে তিন কোটি ৫৯ লাখ ৫১ হাজার ৩০০ টাকা। এছাড়া অস্থাবর সম্পদের মধ্যে দেখানো হয়েছে- প্রাইভেটকার (দাম পাঁচ লাখ টাকা), মাইক্রোবাস (দাম সাড়ে ১৭ লাখ টাকা) ও ৪৫ ভরি স্বর্ণ। ব্যাংকে ৪৫ হাজার ২০০ টাকা দেখানো হয়েছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (13)
সুমন রহমান ১০ আগস্ট, ২০২০, ১২:২০ এএম says : 1
ঘটনা ঘটলো তৎপর হয় দুদক। বাংলাদেশের প্রতিটি থানার প্রতিটি পুলিশের সম্পদের বিবরণ পর্যালোচনা করুক দুদক এর থেকেও ভয়াবহ তথ্য পাবে আশা করি। বাংলাদেশের কাস্টমসের প্রতিটি অফিসারের সম্পদের বিবরণ পর্যালোচনা করুক দুদক এর থেকেও বেশি ভয়াবহ তথ্য পাবে আশা করি। আমি একজন সাধারন মানুষ হয়েও এ জিনিসটি বুঝতে পারছি কিন্তু আমাদের দুদকের কর্তাব্যক্তিরা বুঝতে পারছেন না। আর বুঝতে পারলেও কোন অদৃশ্য হাতের ইশারায় তারা চুপ থাকেন। সুতরাং সরকারকে সেই অদৃশ্য হাত কি খুঁজে বের করে সেই অদৃশ্য হাত কি আগে ভাঙতে হবে তাহলে আমরা দুর্নীতি সমূলে বিনাশ করতে পারব ইনশাআল্লাহ।
Total Reply(0)
Zahangir Khan ১০ আগস্ট, ২০২০, ৩:০০ এএম says : 0
আমাদের আসলে দরকার গন জাগরণ ও গন সচেতনতা সব অনাচার অবিচার এর বিরুদ্ধে বর্তমান যুবসমাজের ভুমিকা রাখা। কোন খারাপ কাজ নিজে করব না কাউকে করতে দেব না। নিজে ঘুষ খাব না কাউকে খেতে দেব না ।এই প্রতিজ্ঞা নিয়ে আজকের তরুণ প্রজন্ম এগিয়ে যাওয়া ছাড়া আমাদের মুক্তি নাই।
Total Reply(0)
সিরাজ ১০ আগস্ট, ২০২০, ৩:৪৭ এএম says : 0
সৎ স্ত্রী নয়, এরা আরো অনেকের নামেও সম্পদ গড়ে তুলে
Total Reply(0)
আব্দুর রাজ্জাক ১০ আগস্ট, ২০২০, ৩:৩২ এএম says : 0
তার মত এরকম আরো অনেক অফিসার আছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হোক
Total Reply(0)
সুজন ১০ আগস্ট, ২০২০, ৩:৩৪ এএম says : 0
এভাবে অবৈধ সম্পদ করার জন্য অনেকে নানা অপকর্মে জড়িত হচ্ছে
Total Reply(0)
খোরশেদ আলম ১০ আগস্ট, ২০২০, ৩:৩৬ এএম says : 0
তার সকল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হোক
Total Reply(0)
মনসুর আহমেদ ১০ আগস্ট, ২০২০, ৩:৩৭ এএম says : 0
সরকারি সকল কর্মকর্তাদের প্রতি বছর অর্থের হিসাব নেওয়া দরকার
Total Reply(0)
Jaker ali ১০ আগস্ট, ২০২০, ১০:২০ এএম says : 0
Ei bishesh dhoroner lokder bishesh subidha dewai Tara mathai uthe bosese
Total Reply(0)
Unit chief ১০ আগস্ট, ২০২০, ১০:২২ এএম says : 0
Goyenda agency er kase ki kono tottho silo na? Dhora porar por ekhon flash Kora hosse
Total Reply(0)
Liakat Ali ১০ আগস্ট, ২০২০, ১০:২৫ এএম says : 0
Awamilig government er eder proti durbolota OC prodip der lut korar sujog kore disse
Total Reply(0)
Nannu chowhan ১০ আগস্ট, ২০২০, ৬:৫৪ এএম says : 0
Shob chaite ashchorjjo lage jokhon khomotashin kono ashamike ba oporadhi konovabe feshe greptar hoy tokhonoi dudok totpor hoy er age ki dudok ghorar ghash katen?era shoboi durnitibaj eder eakjoner shathe arekjoner jog shutro royese ebong ihai shotto eai karone bangladesh amader jonogoner probittir har dhongsher mukhe....
Total Reply(0)
parvez ১০ আগস্ট, ২০২০, ৯:৩৯ এএম says : 0
" তবে অদৃশ্য ইশারায় সেই অনুসন্ধান ধামাচাপা পড়ে ছিল।" ...... এবার ও যে হবে না, সে গ্যারান্টি কোথায় ?
Total Reply(0)
Md.Ziaur Rahman ১০ আগস্ট, ২০২০, ১১:০২ এএম says : 0
সরকারি সকল কর্মকর্তাদের প্রতি বছর অর্থের হিসাব নেওয়া দরকার
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন