ঢাকা সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬ আশ্বিন ১৪২৭, ০৩ সফর ১৪৪২ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

ইন্টারনেটের আয় বেড়েছে বাংলালিংকের

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১১ আগস্ট, ২০২০, ১২:০২ এএম

করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যে দেশে ইন্টারনেটের ব্যবহার বেড়েছে। সর্বত্রই ব্যবহার হচ্ছে তথ্য-প্রযুক্তির। ফলে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) ইন্টারনেট থেকে আয় বেড়েছে মোবাইল ফোন অপারেটর বাংলালিংকের। গতবছরের একই সময়ের তুলনায় এবার অপারেটরটির ডাটা থেকে আয় বেড়েছে ৩০ দশমিক ৩ শতাংশ। এই সময়ে ডাটার গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। গতকাল সোমবার দ্বিতীয় প্রান্তিকের ব্যবসায়িক ফলাফলের উপর আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এতথ্য জানান প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এরিক অস। 

তিনি বলেন, এই বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ডেটা থেকে বাংলালিংক-এর আয় গত বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় ৩০ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফোরজি নেটওয়ার্কে বাংলালিংক-এর চলমান বিনিয়োগ এই বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বিশেষ ভাবে সহায়তা করেছে। উন্নত ও দেশব্যাপী স¤প্রসারিত এই নেটওয়ার্কের কারণে বাংলালিংক-এর ডেটা ব্যবহারকারীর সংখ্যা ও ডেটা ব্যবহারও গত বছরের একই প্রান্তিক সাপেক্ষে যথাক্রমে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ ও ৭৯ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এরিক জানান, দ্বিতীয় প্রান্তিকে বাংলালিংক-এর সেলফ-কেয়ার অ্যাপ ও ভিডিও স্ট্রিমিং অ্যাপ "টফি"-এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে যথাক্রমে ৫৮ শতাংশ ও ৬২ শতাংশ। তিনি বলেন, টেলিকম খাতের উপর করোনা মহামারীর সামগ্রিক প্রভাবের ফলে বাংলালিংক-এর মোট আয় ও গ্রাহক সংখ্যা দ্বিতীয় প্রান্তিকে হ্রাস পেয়েছে। তবে এই সময়ে ডেটা ব্যবহারকারীর সংখ্যা ও ডেটা থেকে আয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছে বাংলালিংক।
এরিক অস বলেন, মহামারি, সাইক্লোন ও বন্যার কারণে সৃষ্ট বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে গ্রাহকসেবা অব্যাহত রাখতে আমাদেরকে আরও বেশি সচেষ্ট হতে হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়েই কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও গ্রাহকসেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখার লক্ষ্যে আমরা ‘হোম অফিস’ মডেল কার্যকর করেছি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত বছর বাংলালিংকের দ্বিতীয় প্রান্তিকে মোট রাজস্ব আয় ছিল ১১ দশমিক ৫ বিলিয়ন টাকা, যা এই বছরে দ্বিতীয় প্রান্তিকে হয়েছে ১১ দশমিক ১ বিলিয়ন টাকা। অর্থাৎ মোট রাজস্ব আয় কমেছে। গত বছরে দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইন্টারনেট ডেটা থেকে আয় ছিল ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন টাকা, যা এই বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে হয়েছে ২ দশমিক ৯ বিলিয়ন টাকা। এছাড়া চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বাংলালিংকের ৩ কোটি ২১ লাখ গ্রাহকের মধ্যে ২ কোটি ১৮ লাখ গ্রাহক ডেটা ব্যবহার করছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। গত বছর দ্বিতীয় প্রান্তিকে গ্রাহক প্রতি ডেটা ব্যবহার ছিল ১ হাজার ২৫০ এমবিপিএস, যা এ বছরে একই সময়ে দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ২৪০ এমবিপিএস। এ হিসাবে ডেটা ব্যবহার বেড়েছে ৭৯ দশমিক ২ শতাংশ।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-কে এরিক অস সিগনিফিক্যান্ট মার্কেট পাওয়ার গাইডলাইন (এসএমপি) বাস্তবায়নের জন্য স্বাগত জানান। এই উদ্যোগকে তিনি টেলিকম খাতে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা সৃষ্টির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করেন । ভবিষ্যতে নতুন ও উন্নতমানের ডিজিটাল সেবা ও প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গ্রাহকদের ডিজিটাল অভিজ্ঞতাকে আরও বেশি উপভোগ্য করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
এসময় ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে আরও যুক্ত ছিলেন বাংলালিংক-এর চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান, চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার জেম ভেলিপাসাওগøু, সেলস অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন অফিসার জুবায়েদ উল ইসলাম ও প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের অন্যান্য সদস্যরা।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন