ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮ আশ্বিন ১৪২৭, ০৫ সফর ১৪৪২ হিজরী

খেলাধুলা

সেপ্টেম্বরেই ইংল্যান্ড সফরে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া

ঘণ্টায় ১০০ মাইল গতি তুলতে তৈরি হচ্ছেন স্টার্ক

স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৫ আগস্ট, ২০২০, ১২:০১ এএম

মূল সূচি অনুসারে সিরিজটি হওয়ার কথা ছিল গত জুলাই মাসে। কিন্তু বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় তখন তা স্থগিত করা হয়। সেই সময়েই অবশ্য মহামারির ধকল পার করে ইংল্যান্ডে ফেরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। তারপর থেকেই দুপক্ষে চলে আলোচনা। অবশেষে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে আগামী সেপ্টেম্বরেই ইংল্যান্ড যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। গতকালই সিরিজটি নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)।

সম্প্রতি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সফলভাবে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলেছে ইংলিশরা। বর্তমানে পাকিস্তানের সঙ্গে আরেকটি তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে লড়ছে দলটি। করোনার কারণে দর্শকশূন্য মাঠ ও জৈব সুরক্ষিত পরিবেশে খেলা আয়োজন করে ইংল্যান্ড সফল হওয়ায় সিরিজ খেলতে ভরসা পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

প্রকাশিত নতুন সূচিতে জানানো হয়েছে, সাউদাম্পটনে টি-টোয়েন্টি সিরিজের ম্যাচগুলো হবে আগামী ৪, ৬ ও ৮ সেপ্টেম্বর। টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষ করে অস্ট্রেলিয়ার ওয়ানডে স্কোয়াড যাবে ম্যানচেস্টারে। ওল্ড ট্র্যার্ফোডে ১১, ১৩ ও ১৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে তিন ম্যাচের সিরিজ। ইসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টম হ্যারিসন সিরিজটি নিশ্চিত করায় অস্ট্রেলিয়ানদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান, ‘সিরিজটি আয়োজনে ইতিবাচক সাড়া দেওয়ায় ইংল্যান্ডের সকল খেলোয়াড়, কর্মকর্তাদের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা।’

সিরিজ খেলতে আগামী ২৪ অগাস্ট ইংল্যান্ডে পৌঁছাবে অস্ট্রেলিয়া দল। টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরুর আগে ডার্বিশায়ারে প্রস্তুতি নেবে তারা। সেখানে দুই সংস্করণের জন্যই প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে অ্যারন ফিঞ্চের দল। অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের ইংল্যান্ডে ভ্রমণ করার ক্ষেত্রে কোয়ারেন্টিনে থাকার নিয়ম নেই। সেদিক থেকে স্বস্তিতে থাকবেন অজি ক্রিকেটাররা।

এই সিরিজ নিশ্চিত হওয়ায় আইপিএলের প্রথম দু-তিন ম্যাচে না-ও খেলতে পারেন স্টিভেন স্মিথ-প্যাট কামিন্সরা। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতে শুরু হবে প্রতিযোগিতাটির দ্বাদশ আসর। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ শেষ করে দুবাই পৌঁছে ছয় দিনের আইসোলেশনে থাকতে হবে অস্ট্রেলিয়ার তারকাদের। তবে ইংল্যান্ডে গতির ঝড় তুলতে প্রস্তুত হচ্ছেন আরেক তারক পেসার মিচেল স্টার্ক।
ঘণ্টায় ৯৯ মাইল ছাড়িয়েছিলেন দুবার, কিন্তু কাছে গিয়েও ম্যাজিক ফিগার ১০০ মাইল স্পর্শ করা হয়নি স্টার্কের। শোয়েব আখতার, ব্রেট লি ও শন টেইটের পর ইতিহাসের চতুর্থ বোলার হিসেবে এই গন্ডি পেরুতে চান তিনি। সেজন্য শরীরকে প্রস্তুত করতে খাটছেন এই অস্ট্রেলিয়ান।

রেকর্ড রাখার পর থেকে ইতিহাসের প্রথম বোলার হিসেবে ঘণ্টায় ১০০ মাইলের ন্ডিি ছাড়িয়েছিলেন পাকিস্তানের শোয়েব আখতার। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২০০৩ বিশ্বকাপের এক ম্যাচে ঘণ্টায় ১০০.১ (১৬১.৩ কিমি/ঘণ্টা) গতিতে বল করেন গতি তারকা শোয়েব। ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে দ্রুতগতির বল হিসেবে টিকে আছে এই রেকর্ড। ২০০৫ সালের গতিতে শোয়েবের প্রতিদ্বন্দ্বী অস্ট্রেলিয়ার ব্রেট লি ঘণ্টায় ১০০.১ মাইল গতিতে বল করেন (১৬১.১ কিমি/ঘণ্টা) ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একই গতিতে বল করেন অস্ট্রেলিয়ারই শন টেইট।

এদের পাশে বসার অনেক কাছে চলে গিয়েছিলন স্টার্কও। পাঁচ বছর আগে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘণ্টায় ৯৯.৭ মাইলে (১৬০.৪ কিমি/ঘণ্টা) বল করেন তিনি। এরপর আরও একবার ৯৯ মাইলে বল করেছিলেন তিনি। সেটা মনে করিয়েই বললেন গতির ম্যাজিক ফিগারে যেতে এখনো উদগ্রীব তিনি, ‘এটা করতে পারা হবে দারুণ ব্যাপার। দুইবার আমি কাছাকাছি গিয়েছিলাম। এটা করতে গিয়ে দুবারই চোট পাই। কাজেই ১০০ মাইল গতি তুলতে আমাকে প্রস্তুতি নিতে হবে। অতিরিক্ত জিম করতে হবে, বাড়তি বিশ্রাম নিয়েও শরীরকে তৈরি করতে হবে।’ দলের পরিকল্পনা মেনে লাইন-লেন্থে মন দিতে গিয়ে অনেক সময় গতিতে ছাড় দেন পেসাররা। ইংল্যান্ডে গত অ্যাশেজে একই মানসিকতায় খেললেও এখন আর গতিতে ছাড় দেওয়ার চিন্তা নেই বাঁহাতি স্টার্কের, ‘আমি প্রচন্ড জোরে বল করতে চাই এর সঙ্গে আর আপোস করব না।’
গতি আর স্কিল বাড়াতে খেলার ম্যানেজমেন্টটাও দেখছেন স্টার্ক। আইপিএল খেলার সুযোগ থাকলেও সেটা নিচ্ছেন না তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কথা ভেবে নিজেকে তৈরি করছেন ৩০ বছর বয়েসী পেসার।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন