ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ১১ কার্তিক ১৪২৭, ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

সারা বাংলার খবর

লক্ষ্মীপুরে সড়ক-ব্রীজ-বাধ ভেঙ্গে বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ, পানি বন্দি লক্ষাধিক মানুষ

লক্ষ্মীপুর জেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২৩ আগস্ট, ২০২০, ৪:৩৯ পিএম

টানা বৃষ্টি আর মেঘনার অস্বাভাবিক জোয়ার পানিতে লক্ষ্মীপুরে কমলনগরে মতিরহাট-তোরাবগঞ্জ সড়ক, নবীগঞ্জ-চরলরেন্স সড়কে ব্রীজ ও বুড়িরঘাট নদীতীর রক্ষা বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে জেলার সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে কয়েকটি এলাকার। পাশাপাশি নতুন করে প্লাবিত হয়েছে অন্তত ২০টি গ্রাম। পানিবন্দি হয়ে চরম দুভোর্গে রয়েছে এসব এলাকার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ।

পানি উন্নয়ন বোর্ড,স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসী জানায়, বৈরী আবহাওয়া এবং গত কয়েকদিন ধরেই লক্ষ্মীপুরে নদ-নদী গুলোতে পানির চাপ বেড়েই চলছে। হঠাৎ শুক্রবার ও শনিবার দু-দফার জোয়ারের পানির চাপে তোরাবগঞ্জ-মতিরহাট সড়কের ৩০০ মিটার সড়ক ভেঙ্গে পানি ডুকে পড়েছে কয়েকটি এলাকায়। এতে করে জেলা-উপজেলার সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। একই অবস্থায় নবীগঞ্জ-চরলরেন্স সড়কের ব্রীজ ধসে পড়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

অন্যদিকে সদর উপজেলার বুড়িরঘাট এলাকায় ৫০০ মিটার নদীর তীররক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে প্লাবিত হয় কয়েকটি গ্রাম। ফলে এসব এলাকার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগে দিন কাটছে। ঘরের মালামাল, হাঁস-মুরগি, পুকুরের মাছ ও গবাদি পশু হারিয়ে এসব এলাকার মানুষ এখন দিশেহারা। কোন প্রকার ত্রাণ তো দূরের কথা তাদের জন্য শুকনো খাবারও পৌঁছেনি বলে অভিযোগ করে ক্ষতিগ্রস্তরা। ফলে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটছে তাদের।

স্থানীয়রা জানায়, এসব এলাকার একমাত্র যাতায়তের মাধ্যম এ সড়ক। পাশে জেলার সবচেয়ে বড় মাছের আড়ৎ মতিরহাটঘাট। এ হাটে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিনিয়ত কয়েক হাজার মানুষের আসা যাওয়া ছিল। হঠাৎ এ সড়ক, পাশে ব্রীজ ও নদীর তীররক্ষা বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে যাওয়া বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। এতে করে চরম দূর্ভোগের মধ্যে পড়তে হয়েছে। দ্রুত যদি এসব সমস্যা সমাধান না করা হয়,তাহলে মেঘনার ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশংকা করছে এসব এলাকার মানুষ।

পানিবন্দি ও দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে কমলনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন বাপ্পী বলেন,দ্রুত সড়ক সংস্কার ও ব্রীজ নির্মানের উদ্যোগ নেয়ার জন্য কাজ চলছে। আশা করি আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এসব সমস্যা সমাধান করার আশ^াস দেন তিনি। ক্ষয়-ক্ষতির তালিকা তৈরি করা হচ্ছে, জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে ত্রাণের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রামগতি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শরাফ উদ্দিন আজাদ সহেল বলেন, রামগতি উপজেলায় প্রায় ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে রাস্তাঘাট,কালর্ভাট, আমনের আবাদ ও বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি হয়। পাশাপাশি এসব এলাকার মানুষের দুর্ভোগ চরমে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, মেঘনার তীব্র স্রোতের কারনে সড়ক ও বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় প্লাবিত হয়। ভাঙ্গন কবলিত স্থানগুলো দ্রুত মেরামত করা হবে।

জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল বলেন, অস্বাভাবিক জোয়ারে লক্ষ্মীপুরে বেশ কয়েকটি এলাকায় প্লাবিত হয়। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্তদের পূর্নাবাসন ও ত্রান কার্যক্রমের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে নগদ টাকা,শুকানো খাবার ও সাড়ে তিনশ মে.টন চাল মজুদ রাখা হয়েছে। সবাইকে ত্রানের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন