ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ১১ কার্তিক ১৪২৭, ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

সারা বাংলার খবর

ধর্ষণের পর হত্যা সৈয়দপুরে গৃহবধূ আকলিমা হত্যার রহস্য উদঘাটন

আদালতে জড়িত দুইজনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান

সৈয়দপুর (নীলফামারী) উপজেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ৩০ আগস্ট, ২০২০, ১০:১১ এএম

নীলফামারীর সৈয়দপুরে তিন সন্তানের জননী গৃহবধূ আকলিমা হত্যা রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। ঘটনার পাঁচ দিনের মাথায় ঘটনাস্থলের অদূরে পাওয়া একটি সিগারেটের প্যাকেটের ছেঁড়া অংশের সূত্র ধরে তদন্ত চালিয়ে ওই রহস্য উদঘাটন করেছে সৈয়দপুর থানা পুলিশ। সেই সঙ্গে আকলিমাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় জড়িত তিনজনের মধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছে সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের কাঙ্গালুপাড়ার আব্দুল করিমের ছেলে আনারুল ইসলাম (৩৫) এবং একই এলাকার মতিয়ার রহমানের ছেলে মো. শুভ (২০)। গ্রেপ্তারকৃতরা গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তাদের নীলফামারী জেলা হাজতে পাঠানো হয়েছে। তবে এ ঘটনায় জড়িত কাঙ্গালুপাড়া এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে হৃদয় (২০)পলাতক রয়েছে। গতকাল শনিবার সৈয়দপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার পালের সাথে কথা হলে তিনি এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। 

এদিকে. গতকাল শনিবার নীলফামারী জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এ বিষয়ে প্রেসব্রিফিং করেছেন নীলফামারী জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান বিপিএম পিপিএম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ঘটানর তদন্তে গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে হাতে লেখা চিরকুট ও এক টুকরো পেন্সিল উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে উদ্ধার হওয়া ওই চিরকুটের সাথে নিহত আকলিমার কোমড়ে পাওয়া চিরকুটের মিল পাওয়া যায়। এরই সূত্রে ধরে পুলিশ আকলিমা হত্যার রহস্য উন্মোচনসহ ওই ঘটনায় জড়িত তিনজনের মধ্যে দুইজনকে গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে।
হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন প্রসঙ্গে থানা পুলিশ জানায়, গত ২২ আগস্ট সকালে উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের স্বাদুপানি মৎস্য গবেষণা উপকেন্দ্রের পেছনে একটি ১১ হাজার ভোল্টের বৈদ্যুতিক খুঁটির নিচ থেকে তিন সন্তানের জননী গৃহবধূর আকলিমা বেগমের (২৫) লাশ উদ্ধার করেন পুলিশ। এ সময় লাশের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। উদ্ধার করা হয় লাশের কোমড়ে থাকা ডারবি সিগারেটের ফয়েল প্যাকেটের উল্টো দিকে লেখা সুইসাইড নোট ও এক টুকরো পেন্সিল। এ ঘটনায় পুলিশ ধারণা করে সে আত্মহত্যা নয়, তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। এদিকে এ ঘটনায় ২৩ আগস্ট হত্যা মামলা করে নিহতের মা মমতাজ বেগম। এতে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে নিহত আকলিমার স্বামী শরিফুল ইসলামকে (২৮) দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার হাবড়া এলাকার রসুলপুরের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদিকে সিগারেটের প্যাকেটের ফয়েল কাগজে লেখা সুইসাইড নোট ও পেন্সিল উদ্ধারের সূত্র ধরে
সৈয়দপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার পালের নির্দেশনায় ও থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবুল হাসনাত খান এবং পুলিশ পরিদর্শক আতাউর রহমানের সার্বিক সহযোগিতায় মামলার রহস্য উদঘাটনে ব্যাপক তদন্ত চালায় থানার উপ-পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. সাহিদুর রহমানসহ তার দল। এ তদন্তের অংশ হিসেবে থানার দুই চৌকষ পুলিশ সদস্য হিমেল ও শাকিল রাখাল বেশে পর পর দুই দিন ঘটনাস্থলসহ আশেপাশের এলাকায় অবস্থান নেয়। এ সময় লাশ উদ্ধারের ঘটনাস্থলের অদুরে বাঁশঝাড় থেকে সিগারেটের প্যাকেটে লেখা একই ধরণের চিরকুট উদ্ধার করে তারা। সুইসাইড নোটটির হাতের লেখা আকলিমার কিনা তা জানতে তিনি যে মাদ্রাসা থেকে ৮ বছর আগে দাখিল পাশ করেছিল সে মাদ্রাসায় যায় পুলিশের দলটি। সেখানে তারা হাতের লেখা মিলিয়ে দেখে চিরকুটের লেখাটি আকলিমার নয়। পরে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সন্দিগ্ধ আসামি আনারুল ও শুভকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসায় গ্রেপ্তারকৃতরা জানান, তারা দুই জনসহ হৃদয় নামে অপরজন আকলিমাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে তাদের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে নিহত আকলিমা বাঁধা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ধর্ষণকারীরা তাঁকে মেরে ফেলে। পরে আনারুল একটি সুইসাইড নোট লিখে আকলিমার কোমড়ে গুজে রাখে এবং সে আত্মহত্যা করেছে প্রচার চালানোর জন্য গলায় রশি বেঁধে কামারপুকুর ইউনিয়নের বালাডাঙ্গা বাঁশঝাড়ের পাশে বৈদ্যুতিক খুটির পাশে ফেলে রাখে তারা।
সৈয়দপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার পাল জানান,গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামিকে গত শুক্রবার নীলফামারী আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে । সেখানে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছে তারা। তিনি বলেন, সৈয়দপুর থানার সকল কর্মকর্তা ও সদস্যদের বিরামহীন পরিশ্রমের কারণেই ঘটনার পাঁচদিনের মধ্যে আকলিমা হত্যার রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে। তিনি আরো বলেন এ ঘটনায় জড়িত পলাতক অপর আসামি হৃদয়কে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এদিকে, গতকাল শনিবার হত্যার রহস্য উদঘাটনের বিষয়ে নীলফামারী জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রেসব্রিফিং করেছেন নীলফামারী জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান বিপিএম-পিপিএম।
এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবুল বাশার মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, সৈয়দপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার পালসহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন ।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (1)
Abdur ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১:০৪ পিএম says : 0
Pls hang these culprits without any delay. This hang should take effect immediately. In sha ALLAH , it will motivate bad people to stop crimes.
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন