ঢাকা সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ১০ কার্তিক ১৪২৭, ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

আইন ভাঙতে বদ্ধপরিকর জনসন, আইনী পদক্ষেপের ভাবনা ইইউ’র

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৫:৫৫ পিএম

আন্তর্জাতিক আইন ভেঙে উত্তর আয়ারল্যান্ডের শান্তি প্রক্রিয়া বিপন্ন করার অভিযোগ সত্ত্বেও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জনসন প্রস্তাবিত আইন কার্যকর করতে বদ্ধপরিকর। ফলে, এবার ব্রিটেনের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ নেয়ার কথা ভাবছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

ঘরে-বাইরে প্রবল সমালোচনার মুখেও আইন প্রণয়ন করে ব্রেক্সিট চুক্তির কিছু শর্ত ভাঙার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। ব্রিটেনের সংসদে তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ বাজারের অখণ্ডতা নিশ্চিত করতে তার সরকার এই আইন কার্যকর করার পথে এগিয়ে যাবে। চাকুরি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি রক্ষা করতে এবং গোটা দেশে সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতেই তিনি এই পদক্ষেপ নিচ্ছেন বলে জানান তিনি। জনসনের সরকার সত্যি প্রস্তাবিত আইন কার্যকর করতে পারলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ব্রিটেনের বিচ্ছেদ সংক্রান্ত চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাতিল হয়ে যাবে। সেই বোঝাপড়া অনুযায়ী ব্রেক্সিট পুরোপুরি কার্যকর হবার পর ব্রিটেনের উত্তর আয়ারল্যান্ড প্রদেশে শুল্কের ক্ষেত্রে ভিন্ন নিয়ম চালু করার কথা। আইরিশ প্রজাতন্ত্র ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের স্থল সীমানায় নিয়ন্ত্রণ এড়াতেই চুক্তিতে সেই পদক্ষেপ অন্তর্গত করা হয়েছিল। ব্রিটেন সেই শর্ত ভাঙলে উত্তর আয়ারল্যান্ডের ভঙ্গুর শান্তি প্রক্রিয়া হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি রাত ১১ টায় ‘ব্রেক্সিট’ কার্যকরী করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যায় ব্রিটেন। এই বিচ্ছেদ কার্যকরী করতে বেশ কিছু শর্ত নিয়ে ব্রেক্সিট বিল পাশ হওয়ার আগে ইইউ’র সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেন বরিস জনসন। আন্তর্জাতিক আইন মতে ওই চুক্তির শর্ত মানতে বাধ্য দু’পক্ষই। এর মধ্যেই ব্রেক্সিট পরবর্তী বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে ইইউ’র সঙ্গে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে ব্রিটেনের। পারদ আরও চড়িয়ে এবার একতরফাভাবে ‘ব্রেক্সিট চুক্তি’তে বদল ঘটাতে চাইছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। তারপরই রীতিমতো ব্রিটেনের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ করার ভাবনা শুরু করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তাদের অভিযোগ, বরিস জনসনের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের অবমাননা।

এমন প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট মারোস সেফকোভিচ বৃহস্পতিবার লন্ডন সফরে গিয়েছেন। তিনি মঙ্গলবার ব্রিটেনের ব্রেক্সিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মাইকেল গোভের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে গভীর দুশ্চিন্তা প্রকাশ করে ব্রিটেনের কাছে ব্রেক্সিট চুক্তি পুরোপুরি কার্যকর করার আশ্বাস চেয়েছেন। গোভের সঙ্গে মুখোমুখি আলোচনায় তিনি ব্রিটিশ সরকারের প্রকৃত অবস্থান জানতে চান। ইইউ সরকার পরিষদের প্রধান শার্ল মিশেল এক টুইট বার্তায় লিখেছেন, আন্তর্জাতিক আইনভঙ্গের ঘটনা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আস্থা সৃষ্টি করে না।

এমন বিতর্কিত সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ব্রিটেনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও উত্তাল হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক স্তরে ব্রিটেনের ভাবমূর্তি নিয়ে দুশ্চিন্তার পাশাপাশি ক্ষমতার বণ্টন নিয়েও সংশয় দেখা দিচ্ছে। স্কটিশ জাতীয় দলের সংসদ সদস্য আয়ান ব্ল্যাকফোর্ড বলেন, প্রস্তাবিত এই আইনের ফলে স্কটল্যান্ডের পার্লামেন্টের উপর কার্যত আক্রমণ চালানো হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক আইন ভেঙে সরকার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আর্থিক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীভূত করছে। তিনি জনসনের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ করেন। এই অবস্থায় ব্রেক্সিট-পরবর্তী দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি সংক্রান্ত আলোচনাও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এক পক্ষ আইন ভাঙার উপক্রম করায় বোঝাপড়ার কাঠামোর ভীত দুর্বল হয়ে পড়বে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। সূত্র: ডিপিএ, রয়টার্স।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন