ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ১৩ কার্তিক ১৪২৭, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

আসছেই ইয়াবার চালান

ক্ষণে ক্ষণে রুট ও কৌশল বদল চট্টগ্রামে র‌্যাবের অভিযানে উদ্ধার ২ লাখ ৬৫ হাজার

রফিকুল ইসলাম সেলিম | প্রকাশের সময় : ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১২:০৩ এএম

হঠাৎ বেড়ে গেছে ইয়াবার পাচার। কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী টেকনাফসহ বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ধরা পড়ছে বড় বড় চালান। সোমবার রাতে র‌্যাব-৭ চট্টগ্রামের পৃথক দুটি অভিযানে ধরা পড়েছে সোয়া ১৩ কোটি টাকা মূল্যের দুই লাখ ৬৫ হাজার ১৩০ পিস ইয়াবা। এর মাত্র দুইদিন আগে আরও দেড় লাখ ইয়াবা ধরা পড়ে র‌্যাবের অভিযানে। পুলিশ এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের হাতেও প্রতিনিয়ত ধরা পড়ছে ইয়াবার চালান।
র‌্যাব পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, স্থল এবং সাগর উভয় পথেই ইয়াবা আসছে। নানান কৌশলে ইয়াবা পাচার হচ্ছে চট্টগ্রাম হয়ে সারাদেশে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে রুট এবং কৌশল পাল্টাচ্ছে মাদকের কারবারিরা। টেকনাফ সীমান্তে কড়াকড়ির কারণে বান্দরবান সীমান্ত হয়ে ইয়াবার চালান আসা বেড়ে গেছে। তবে সাগর পথেও ইয়াবার বড় চালান আসছে।

বাংলাদেশকে টার্গেট করে মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী এলাকায় গড়ে ওঠা কারখানায় উৎপাদিত এ নেশার ট্যাবলেট নানা কৌশলে বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছে। চোরাচালানি সিন্ডিকেটের হাত হয়ে তা ছড়িয়ে পড়ছে সারাদেশে। নতুন নতুন রুটে ইয়াবা আসছে। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে কিছু চালান ধরা পড়লেও অধিকাংশ চালান নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে যাচ্ছে। এতে দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা বাড়ছে। সেসাথে বাড়ছে অপরাধ প্রবণতা, সামাজিক অস্থিরতা।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন ইনকিলাবকে বলেন, ইয়াবার পাচার ঠেকাতে পুলিশ বাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কিভাবে এ মাদক ঠেকানো যায় তা নিয়ে নতুন করে চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। মাদকের আগ্রাসন ঠেকাতে সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টা জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুলিশের পাশাপাশি এ সর্বনাশা নেশার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

র‌্যাব-৭ চট্টগ্রামের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল মো. মশিউর রহমান বলেন, স্থল এবং সাগর উভয় পথেই ইয়াবার চালান আসছে। গতকালের অভিযানে যে দুই লাখ ৬৫ হাজার ইয়াবা ধরা পড়ে তার একটি চালান টেকনাফ থেকে স্থলপথে এবং অপর একটি চালান সাগর পথে চট্টগ্রাম আসে। পাচারকারিরা ক্ষণে ক্ষণে রুট এবং কৌশল বদল করছে জানিয়ে তিনি বলেন, তবে এখনও সাগর পথে ইয়াবার চালান বেশি আসছে।

র‌্যাব-পুলিশের কর্মকর্তারা জানায়, আগে সরাসরি মিয়ানমার থেকে সাগর পথে আসা ইয়াবার চালান পতেঙ্গায় খালাস হতো। এখন রুট বদল হয়ে আনোয়ারা এবং বাঁশখালীতে এসব চালান খালাস হচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে সাগর পথে সরাসরি নারায়ণগঞ্জ এমনকি বরিশালের বিভিন্ন এলাকায়ও ইয়াবার চালান খালাস করার ঘটনা ধরা পড়েছে। সড়ক পথেও রুট বদল করছে পাচারকারীরা। টেকনাফ সীমান্তে কড়াকড়ির কারণে বান্দরবান সীমান্ত হয়ে এখন ইয়াবার চালান আসছে। চালান আনার ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কের বদলে বিভিন্ন আঞ্চলিক এবং গ্রামীণ সড়ক ব্যবহার করছে চোরাকারবারিরা। এমন কয়েকটি চালান ধরাও পড়েছে বাঁশখালী, পটিয়া, লোহাগাড়া এলাকায়।
এদিকে নগরীর বাকলিয়া ও আনোয়ারায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবার দুটি বড় চালান উদ্ধার করে র‌্যাব। এ সময় গ্রেফতার করা হয় তিন মাদক পাচারকারীকে।

সোমবার রাতে নগরীর বাকলিয়ায় চেকপোস্ট বসিয়ে একটি ট্রাকে তল্লাশি চালায় র‌্যাব। ট্রাকে চালকের আসনের পেছনে বিশেষ কৌশলে লুকানো ১০ কেজি ওজনের এক লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
এ সময় ট্রাকে থাকা মো. জমির উদ্দিন (৩৬) ও মো. রমজান আলীকে (২৫) গ্রেফতার করা হয়। তাদের দুজনের বাড়ি কক্সবাজার জেলার রামু এলাকায়। এ সময় ট্রাকটি (ঢাকা মেট্রো-ট- ২৪-২৭৫৯) জব্দ করা হয়। গ্রেফতার মো. জমির উদ্দিনের বিরুদ্ধে কক্সবাজার জেলার রামু থানায় ডাকাতি এবং চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধে চারটি মামলা রয়েছে।

আনোয়ারা উপজেলার দোভাষীর ঘাটে মিয়ানমার থেকে বঙ্গপোসাগর হয়ে ইয়াবার একটি বড় চালান খালাস করছে এমন খবর পেয়ে সেখানে অভিযানে যায় র‌্যাব। সেখান থেকে মো. কামরুজ্জামান (৩০) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার দুই সহযোগী পালিয়ে যায়। র‌্যাব জানায়, কামরুজ্জামানের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে দোভাষীর বাজারের একটি গোডাউনে কার্টুনে রক্ষিত ৪০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে অভিযানের সময় পালিয়ে যাওয়া মো. সরওয়ার আলমের (৪১) বাড়ি থেকে এক লাখ ২৫ হাজার ১৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, কামরুজ্জামান ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমার থেকে ইয়াবা এনে অভিনব কৌশলে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের কাছে বিক্রি করে আসছিল। র‌্যাবের অভিযানে শনিবার এক লাখ ৫৪ হাজার ইয়াবাসহ মহানগরী ও জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার হয় আট মাদক ব্যবসায়ী।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন