ঢাকা শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ১৪ কার্তিক ১৪২৭, ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

অভ্যন্তরীণ

সউদী খেজুর চাষে বরিশালে সফলতা

বরিশাল ব্যুরো : | প্রকাশের সময় : ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১২:০০ এএম

খাটি সউদী জাতের খেজুর গাছের আবাদে সফল হয়েছেন বরিশালের উজিরপুরের ধামসর গ্রামের মামুন হাওলাদার। দীর্ঘ ১৮ বছরের প্রবাস জীবন কাটিয়ে ২০১৫ সালে বামরাইলের নিজ ভিটায় ফিরে সউদী জাতের খেজুরের আবাদ শুরু করেছেন। আবাদের ৫ বছরের মধ্যেই সফলতা মুখ দেখেছেন তিনি। তার বাগানের খেজুর ইতোমধ্যে খাবার উপযোগী হয়েছে। প্রতিদিনই তার বাগানের সউদী খেজুর দেখতে দূর দুরান্ত থেকে মানুষ আসছে। ইতোমধ্যে উৎপাদিত এ খেজুরের বাজার মূল্য প্রায় ৫০ হাজার টাকা বলে মামুন জানিয়েছে।
আগামীতে তার বাগানে রোপন করা দুশ’ গাছেই ফলন আসলে বছরে অন্তত ১০ লাখ টাকার খেজুর বিক্রি করার লক্ষ্য রয়েছে মামুনের। তবে ইতোমধ্যে তিনি নিজ বাগানেই উৎপাদিত বেশ কিছু চারাগাছ বিক্রি করেছেন। বিক্রিই পাশাপাশি অন্যকে এ জাতের খেজুর চাষে সব ধরণের সগযোগিতার কথাও জানান তিনি। তার স্বপ্ন দক্ষিণাঞ্চল সউদী খেজুর আবাদে মডেলে পরিনত হোক। আর বড় স্বপ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশ সউদী জাতের খেজুর উৎপাদনে সয়ম্ভরতা অর্জন করুক।
তিনি জানান, দীর্ঘ ১৮ বছর সউদী আরবের বিভিন্নস্থানে চাকরি করার সুবাদে সেদেশের খেজুরের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েন। সুযোগ পেলেই খেজুর বাগানে ঘোরাঘুরি করে এর আবাদ প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান আহরণ করেছেন। দেশে ফেরার আগে থেকেই বিভিন্ন মাধ্যমে সউদী খেজুর গাছের চারা দেশে পাঠাতে শুরু করেন তিনি। নিজে ২০১৫ সালে সউদী প্রবাস জীবনের ইতি টেনে দেশে ফেরার সময়ও আরো বেশ কিছু চারা সংগ্রহ করে নিয়ে আসেন।
এরপরে আর পেছনে ফিরে তাকায়নি মামুন । প্রবাসে বহু কষ্টে অর্জিত প্রায় ১০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে সে গড়ে তুলেছে সউদী জাতের দুইশত খেজুর গাছের বাগান। আর বহু কষ্টের সে বাগান ইতোমধ্যেই তাকে সফলতা এনে দিতেও শুরু করেছে। সম্পূর্ণ নিজ অভিজ্ঞতায় ভর করে সীমাহীন ঝুঁকি নিয়ে গড়ে তোলা বাগানের বেশকিছু গাছে খেজুর ধরেছে। গাছে গাছে থোকা থোকা খেজুর মামুনের চোখে আশার আলো আর মুখে উজ্জল হাসি নিয়ে এসেছে ইতোমধ্যে। বাগানে আরো বেশ কিছু চারা গাছ বিক্রির উপযোগী হয়েছে।
তার মতে, দক্ষিণাঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকার মাটি এ খেজুর গাছের জন্য উপযোগী। তবে এজন্য নিবিড় পরিচর্যা প্রথম শর্ত। সে এ পর্যন্ত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বা কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে তেমন কোন সহায়তা নেয়নি বা পায়নি।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাকির হোসেন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, দক্ষিণাঞ্চলের মাটিতে সউদী জাতের খেজুর আবাদ ও উৎপাদন সম্ভব। মামুনসহ যে কেউ এ ধরনের কারিগরি সহায়তা চাইলে তা করা হবে বলেও জানান কৃষি কর্মকর্তা।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (2)
ম নাছিরউদ্দীন শাহ ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১০:৪২ এএম says : 0
স্বনির্ভর অর্থনীতির চাকা গতিশীল করতে প্রামীন অর্থনীতি শক্তিশালী করতে হবে। খেজুর অত্যন্ত শক্তিশালী শারীরিক পুষ্টিকর খাদ‍্য। আবার মর্যাদাবান রমজানে মুসলমানদের জন‍্য অত্যন্ত জনপ্রিয় ইফতার সামগ্রী। কৃষি সম্প‍্রসারণ অধিদপ্তর কৃষি গবেষণা ইনষ্টিউট থেকে সার্বক্ষণিক সহযোগী সহযোগিতা প্রয়োজন। সৌদিয়ার খেজুরের মিষ্টি খুসবু বাংলাদেশী খেজুরের মধ্যে পরিপক্কতা পরিপূর্ণতা আনার অবশ্যই চেষ্টা করতে হবে। ধন্যবাদ।
Total Reply(0)
Babul Ahmed ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ২:৩৬ পিএম says : 0
I like to cultivate the Saudi Khazoor. How i will get the plant. Pls. help me, Help me
Total Reply(0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন