ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ১১ কার্তিক ১৪২৭, ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

কী প্রমাণ করতে চান যোগী আদিত্যনাথ?

ভারতে মুঘল শাসনের ইতিহাসকে অস্বীকার মুসলিমদের কোণঠাসা করার জন্য এটা একটা সুপরিকল্পিত নকশারই অংশ

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১২:০০ এএম

‘মুঘল বাদশাহ্রা’ কখনোই ভারতের নায়ক হতে পারেন না।’ এই মন্তব্য করে আবার নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী যোগী অদিত্যনাথ। তাজমহলের শহর আগ্রায় ‘মুঘল থিমে’ আধারিত একটি মিউজিয়ামের নাম পাল্টে মারাঠা নায়ক শিবাজীর নামে রাখার পর তিনি ওই মন্তব্য করেন।
মুসলিম শাসনের চিহ্ন রয়েছে, এর আগেও আদিত্যনাথের সরকার রাজ্যে এমন বহু জায়গার নাম পাল্টে দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজেও সরাসরি মুঘল শাসকদের আক্রমণ করে বিবৃতি দিয়েছেন। আর ভারতের ইতিহাসবিদরা অনেকেই বলছেন, দেশের সংখ্যালঘু মুসলিমদের কোণঠাসা করার জন্য এটা একটা সুপরিকল্পিত নকশারই অংশ। প্রায় চার বছর আগে আগ্রায় মুঘল আমলের নানা স্মারক ও নিদর্শন নিয়ে একটি মিউজিয়াম তৈরির জন্য শিলান্যাস করেছিলেন রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব। কিন্তু গত সোমবার বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ওই মুঘল মিউজিয়ামের নামকরণ করা হবে দাক্ষিণাত্যের মারাঠা রাজা শিবাজীর নামে। যিনি মুঘলদের বিরুদ্ধে মরণপণ যুদ্ধ করে গেছেন।

এর আগেও মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ দাবি করেছিলেন, মুঘলরা ভারতে হানা দেওয়ার আগে হিন্দুদের আর্থিক শক্তি সারা দুনিয়ার মোট অর্থনীতির এক তৃতীয়াংশেরও বেশি ছিল। কিন্তু তারপর থেকেই তা হু হু করে কমতে শুরু করে। ভারতের ইতিহাস যাকে ‘আকবর দ্য গ্রেট’ নামে চেনে সেই বাদশাহ আকবরও ‘মোটেও কোনও গ্রেট নন’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি।

রাজপুত নায়ক মহারানা প্রতাপকে উদ্ধৃত করে তিনি গত বছরই বলেছিলেন, ‘বিধর্মী ও বিদেশি মুঘলদের কিছুতেই ভারতের বাদশাহ হিসেবে মানা যায় ন।’ তিনি দাবি করেছিলেন ‘আকবরের চেয়ে রানা প্রতাপ ছিলেন অনেক বেশি মহান শাসক ও যোদ্ধা।’ এতেই শেষ নয়, আদিত্যনাথ সরকার এলাহাবাদ শহরের নাম পাল্টে রেখেছে প্রয়াগরাজ। তার আমলেই রাজ্যের আইকনিক মুঘলসরাই রেলওয়ে স্টেশনের নতুন নামকরণ করা হয়েছে বিজেপির তাত্তি¡ক নেতা দীনদয়াল উপাধ্যায়ের নামে।

ভেঙে ফেলা বাবরি মসজিদের জায়গায় রামমন্দির নির্মাণের কাজও শুরু হয়েছে মহাধূমধামে। ভারতের নামী ঐতিহাসিক ও ‘দ্য মুঘলস অব ইন্ডিয়া’ বইয়ের লেখক হরবনস মুখিয়া বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, মুঘলদের উত্তরাধিকার অগ্রাহ্য করার এই সচেতন চেষ্টার মধ্যে দিয়ে আসলে মুসলিমদেরই অপরাধী সাজানোর চেষ্টা করছে বিজেপি।

অধ্যাপক মুখিয়ার কথায়, ‘যে কোনো মেজরিটারিয়ান শক্তির ঠিক এই উদ্দেশ্যটাই থাকে। দেশের সংখ্যালঘুদের অপরাধী সাজাও, তাদের রাক্ষস প্রতিপন্ন করো! ইতিহাসে এ জিনিস আমরা বারবার ঘটতে দেখেছি, সংখ্যালঘুদের শত্রু বানানো হয়েছে এবং ‘দ্য আদার’ হিসেবে প্রান্তিক করে তোলা হয়েছে।‘এজন্যই ভারতের শাসকরা আজ মুঘলদের ইতিহাসে ফিরে গিয়ে বলার চেষ্টা করছেন মুসলিমরা বরাবরই আসলে এরকম। তারা লুণ্ঠনকারী, তারা ভিনদেশি, তারা এই, তারা ওই এবং তারাই সেই ‘দ্য আদার!’

এর আগে আমেরিকায় কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকানদের বিরুদ্ধে ও ১৯৩০ দশকে জার্মানিতে ইহুদীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের চেষ্টা কিছুটা সফল হয়েছিল বলেও জানাচ্ছেন অধ্যাপক মুখিয়া। আর জেএনইউ’র অধ্যাপক ও নেহরু মিউজিয়ামের সাবেক প্রধান ইতিহাসবিদ মৃদুলা মুখার্জির কথায়, এই যে মুঘল-ঘেঁষা নামগুলো বদলে দেওয়া কিংবা ইতিহাস থেকে মুসলিম শাসকদের মুছে ফেলার চেষ্টা। এটা আসলে এক ধরনের ‘এভ্রিডে কমিউনালিজম’ বা দৈনন্দিন সা¤প্রদায়িকতা।

অধ্যাপক মুখার্জি বলেন, ‘আসলে এই যে ‘হিন্দুত্ব প্রোজেক্ট’ বা হিন্দুরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন, সেটা তো সঙ্ঘের ঘোষিত এজেন্ডার মধ্যেই পড়ে। তারা তো খোলাখুলিই বলে যে তারা হিন্দুরাষ্ট্র তৈরি করতে চায়। আর সেই এজেন্ডা বাস্তবায়নের মধ্যে যে গভীর একটা অ্যান্টি-মুসলিম বায়াস বা প্রবল মুসলিম-বিদ্বেষ আছে সেটা তো অস্বীকার করা যায় না।’

তিনি আরো বলেন, এই যে দুম করে এলাহাবাদ শহরের নাম বদলে দিল। মুঘলসরাই স্টেশনের নাম রাখল বিজেপি জনসঙ্ঘের তাত্তি¡ক নেতার নামে। এই ধরনের পদক্ষেপ কিন্তু তারা নিতেই থাকবে। যেটাকে আমরা বলতে পারি ‘এভরিডে কমিউনালিজম’ বা রোজকার সা¤প্রদায়িকতা! উত্তরপ্রদেশ সরকার অবশ্য এই ধরনের সমালোচনায় আদৌ বিচলিত, এমন কোনও লক্ষণ দেখায়নি। উল্টো বিজেপি নেতারা জোর গলায় বলছেন, ভারতে মাত্র ৫০০ থেকে ৬০০ বছরের মুসলিম শাসনের বাইরেও এ দেশের একটা গৌরবময় হিন্দু ইতিহাস আছে। আর সেটা তুলে ধরাটাই বেশি জরুরি। সূত্র : বিবিসি বাংলা।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (11)
Anup Biswas ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ২:৫২ এএম says : 0
ইতিহাস পড়তে গেলে অর্ধেক ব‌ই মুঘল সাম্রাজ‍্যের ইতিহাস পড়তে হয়। মুঘল শাসক রা ভারতে স্থায়ী সাম্রাজ‍্য গড়ে তুলেছিল, কিন্তু পরবর্তী ইংরেজ উপনিবেশ সাম্রাজ‍্য ভারতীয় উপ-মহাদেশ কে শেষ করে গেছে। আর ধর্মীয় বিভেদের মূলে আছে ব্রিটিশরা। যার ফল এখন ভোগ করছি। মানুষের খাওয়া হোক না হোক, ধর্ম এখন সবার আগে।
Total Reply(0)
Salim Altaf ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ২:৫২ এএম says : 0
উনি প্রমান করতে চাচ্ছেন, গোমূত্র পৃথিবীর সবচেয়ে কার্যকর সকল রোগের মহৌষধ এবং উনি একজন বিরাট বড়ো হনু এবং আধুনিক বিশ্বের একজন বিশিষ্ট বুদ্ধি প্রতিবন্ধী
Total Reply(0)
Khan Sharif ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ২:৫২ এএম says : 0
এরা কি করে ভারতে মুঘলদের অবদানের কথা শিকার করবে এগুলো তো এদের কাছ থেকে কখনো আশা ও করা বোকামি। তার কয়েকটি কারণ ও আছে তার প্রথম কারন হচ্ছে এঁরাই ছিলো ব্রিটিশদের দালাল, দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে এদের মধ্যে আছে ধর্মীয় গোঁড়ামি, তৃতীয় কারণ হচ্ছে এদের মধ্যে শিক্ষা দিক্ষা ও অনেক কম লক্ষ করা যায়।
Total Reply(0)
Md Mustafizur Rahman ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ২:৫৩ এএম says : 0
এরাই তো সেই দালালদের উত্তরসূরি যাদের জন্য ১৮৫৭ সালে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে মহাবিদ্রোহ বিফলে গিয়েছিল। মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহ্ নির্বাসনে গিয়েছিল,সেখানেই মারা গেলেন। মজলুম সুলতানের কবরটা পর্যন্ত দেশে হলো না
Total Reply(0)
Shamim Ahmed ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ২:৫৩ এএম says : 0
পাপুয়ানিউগিনি আর ভারতের মধ্যে পার্থক্য থাকতো না যদি না মুঘলরা এই উপমহাদেশে আসতো। হিন্দুদের কুসংস্কার এখনো যেই অবস্থা, আল্লাহ জানে পূর্বে কি ভয়ঙ্কর অবস্থাই না ছিলো।
Total Reply(0)
Zillur Rahaman ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ২:৫৪ এএম says : 0
শাহজাহানের যুগে মুঘল স্থাপত্য এর স্বর্ণযুগে প্রবেশ করে। তিনি অনেক স্মৃতিসৌধ, মাসজিদ, দুর্গ নির্মাণ করেন যার মধ্যে রয়েছে আগ্রার তাজমহল, মোতি মসজিদ, লালকেল্লা, দিল্লি জামে মসজিদ। মুঘলদের অধীনে বাংলা প্রদেশ বিশেষভাবে সমৃদ্ধশালী হয়। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে বাংলার নিয়ন্ত্রণ চলে যাওয়ার আগ পর্যন্ত এই সমৃদ্ধি বজায় ছিল।
Total Reply(0)
Deepto Dhrubo ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ২:৫৪ এএম says : 0
একচোখা নীতি আমাদের সবার পরিহার করা উচিৎ। মুঘলদের আসার পূর্বে ভারতবর্ষ কি ছিল আর আসার পরে কি হয়েছে তার নির্মোহ বিশ্লেষণ করা দরকার এবং বুঝার আবশ্যকতা আছে। মুঘল আমল মানেই স্বর্ণযুগ বা পুর্ন বিপর্যয়, ব্যাপারটা এমন নয়। তবে একথা অনস্বীকার্য , আজকের হিন্দুত্ববাদী মোদী, আদিত্য আর অমিত শাহরা যে ভেদ বিভেদ নীতি নিয়ে দেশ চালাচ্ছে, তাতে কতোটুকু উন্নয়ন আর মানবতা রক্ষা হচ্ছে, সেটা সামগ্রিকভাবে ভারতের সামাজিক আর অর্থনৈতিক ছবির দিকে এক নজর দিলেই বুঝা যায়। তুলনামূলকভাবে আমাদের, বাংলাদেশের জনগনকে মহান রাব্বুল আলামিন অনেক ভালো রেখেছেন।
Total Reply(0)
Jewel Jewel ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ২:৫৫ এএম says : 0
উত্তর প্রদেশ একটা জঙ্গির কারখানা এই কারখানার মালিক যোগি আদিত্য নাথ
Total Reply(0)
salman ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৪:৩৩ এএম says : 0
Goo MUTRO khor JOGI, gayer Jor a ja e boluk na keno INDIA Sadhin korar Obodhan MUSLIM der. INDIAI jaa kisu DEKHAR ase SOB MUSLIM RAJA, BADSHA, MUGHAL der. PORJOTOK raa INDIA ase ai sob dekhar e Jonno. Ak taj Mahal e oder INCOME er kotto poth koray deyese. ...... JOGI raa Sudhu GU, MUT khabar Jonno e Jonmai, valor Jonno na.
Total Reply(0)
Murtahin Billah Jasit ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৯:১৮ এএম says : 0
মি আদিত্য কে আমার প্রশ্ন: হিনদু শব্দটির মানে কি জানেন ? এ নামটি কে দিয়েছে? এর মানে জানা থাকলে তিনি কি করতেন ?
Total Reply(0)
GOPAL CHANDRA DAS ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১০:২৫ এএম says : 0
This tradition is going on forever in the subcontinent, even we see in Turkey today. They are converting church to mosques. In Pakistan Hindu temples are destroyed. In Afganistan the famous Bamian Buddhist sculptures had been destroyed. Now in India the opposite is being to register a historical retaliation against Islam. In Ayodhya it was first a Buddhist monastery/temple, then turned to Babri Mosque, now that structure demolished, fundamentalist Hinduttwabadi Govt. is erecting Ram Temple. We must not forget the great contribution of Akbar the great. He set a new religion based on secularism. But fundamentalist Muslims and Hindus did not care it. India was happy in Akbar's period. Before that India was divided. Rajasthan was divided in many parts. We cannot deny historical truth.
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন