ঢাকা বুধবার, ২১ এপ্রিল ২০২১, ০৮ বৈশাখ ১৪২৮, ০৮ রমজান ১৪৪২ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

অকার্যকর যন্ত্র ব্যবহারে হাতি উদ্ধার অভিযান ফের ব্যর্থ

প্রকাশের সময় : ১১ আগস্ট, ২০১৬, ১২:০০ এএম

বকশীগঞ্জে ভারতীয় হাতি দলের তা-ব
জামালপুর জেলা সংবাদদাতা : ভারতের আসাম রাজ্য থেকে কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্ত দিয়ে ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদী পথে বন্যার পানিতে ভেসে আসা হাতিটির উদ্ধার অভিযান গতকাল বুধবার সকালে তৃতীয় বারের মতো ব্যর্থ হয়েছে। মোটা চামড়ার বুনো হাতি অচেতন করতে এটির শরীরে টাংকুলাইজার গান দিয়ে প্লাস্টিক ডার্ট নিক্ষেপ প্রক্রিয়াটি অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। অথচ পরপর তিনদফা একই পদ্ধতি ব্যবহার করে হাতি উদ্ধার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করায় এলাকায় হাতি আতঙ্ক বিরাজ করছে। সেই সাথে হাতিটিকে জীবন্ত উদ্ধার করা হবে কিনা এ নিয়েও জনমনে নানা প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সরিষাবাড়ী উপজেলার কামরাবাদ ইউনিয়নের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত ঝিনাই নদী সাঁতরে বুনো হাতিটি ডাঙ্গায় উঠে বুধবার সকাল ১০টায় ওই ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের লোকালয়ে প্রবেশ করে। এ সময় শত শত উৎসুক দর্শনার্থী হাতিটির পিছু নেয়। একই সময় বন্যপ্রাণী পরিদর্শক অসিম মল্লিক-এর নেতৃত্বে টাংকুলাইজার গান নিয়ে দক্ষ শুটার ভেটেরিনারী সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ও ভেটেরিনারী সার্জন ডা: সাইদ হোসেনসহ ছয় জনের একটি হাতি উদ্ধারকারী দল হাতিটি উদ্ধারের জন্য অভিযানে নামেন। এক পর্যায়ে ওইদিন বেলা ১১টায় উদ্ধারকারী দলের সদস্য দক্ষ শুটার ভেটেরিনারী সার্জন ডা: মোস্তাফিজুর রহমান খুব কাছ থেকে টাংকুলাইজার গান দিয়ে হাতিটির শরীরে একটি প্লাস্টিক ডার্ট নিক্ষেপ করেন (প্লাস্টিক ডার্ট হলো হাতি অচেতন করার ওষুধ ভর্তি সিরিঞ্জ)। কিন্তু হাতিটি অচেতন না হয়ে প্লাস্টিক ডার্ট-এর আঘাতে ক্ষিপ্ত হয়ে দিগি¦দিক ছুটাছুটি করতে থাকে। ওই সময় এলাকায় নতুন করে হাতি আক্রমণের আতঙ্ক বেড়ে যায়। একপর্যায়ে হাতিটি কিছুটা শান্ত হয়ে লোকালয় ছেড়ে ওই গ্রামের মাঝে পাট ক্ষেতের পাশের্^ গিয়ে আশ্রয় নেয় এবং ধানের চারা ক্ষেতে থাকে।
এ ব্যাপারে কামরাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান মনসুর আহম্মেদ জানান, প্রায় ১২ দিন যাবত হাতিটি কামরাবাদসহ আশপাশের এলাকায় ছুটাছুটি করায় মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাদের এলাকার মানুষ হাতি আক্রমণের ভয়ে রাত জেগে মশাল জ¦ালিয়ে হাতিটিকে পাহারা দিচ্ছে। এছাড়াও হাতি উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা অকার্যকর প্রক্রিয়ায় হাতি উদ্ধার করতে গিয়ে বারবার হাতিটিকে আঘাত করায় হাতিটি ক্ষেপে উঠছে। এতে মানুষের উপর হাতিটির আক্রমণের আশঙ্কা দিন দিন বেড়েই চলছে।
এ ব্যাপারে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও অপরাধ দমন ঢাকা অঞ্চলের প্রধান বন সংরক্ষক অসিত রঞ্জন পাল জানান, হাতি উদ্ধার কাজে নিয়োজিত টেকনিশিয়ানরা প্লাস্টিক ডার্ট কাজ না করার ব্যাপারে এখনো জানায়নি। তবে তাদের কাছে জেনে হাতিটি উদ্ধারের জন্য অত্যাধুনিক মেটাল ডার্টসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ করে হাতিটি উদ্ধার করা হবে।
বকশীগঞ্জে ভারতীয় হাতির তা-ব
জামালপুর জেলা সংবাদদাতা : জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের যদুরচর গ্রামে বুধবার গভীর রাতে ভারতীয় বুনো হাতির তা-ব চালানোর খবর পাওয়া গেছে।
বকশীগঞ্জ থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারত সীমান্তবর্তী বকশীগঞ্জের কামালপুর ইউনিয়নের যদুরচর গ্রামে বুধবার গভীর রাতে ৩০ থেকে ৩৫টি ভারতীয় বুনো হাতি অতর্কিতে হামলা চালায়। ওই বুনো হাতিগুলো ভারতের গভীর অরণ্য থেকে ভারতের বিলডোবা ক্যাম্প-এর কাছ দিয়ে দুই দেশের সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বালুরচরের পাহাড়ি এলাকা হয়ে কামালপুর ইউনিয়নের যদুরচর গ্রামে প্রবেশ করে। ওই রাতে হাতির দলটি যদুরচর গ্রামের মোস্তফা, সাফিউল, দুলাল, হানিফ ও আঙ্গুরীর বাড়ি-ঘর ও আসবাবপত্র ভাংচুর করে এবং তাদের ঘরে থাকা ধান খেয়ে সাবা করে। ওই সময় এলাকাবাসী হৈ-হুল্লোড় করে মশাল জ¦ালিয়ে এবং ঢাকঢোল পিটিয়ে হাতি তাড়াতে গেলে হাতির আঘাতে যদুরচর গ্রামের মোস্তফার স্ত্রী রতœা বেগম গুরতর আহত হন। আহতকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে।
কামালপুর ইউনিয়নের যদুরচর গ্রামের হোসনে আরা বেগম জানান, রাতে ৩০ থেকে ৩৫টি হাতি তাদের গ্রামে তা-ব চালিয়ে ৫টি ঘর ভেঙে ধান চাল খেয়ে শেষ রাতে চলে গেলেও হাতিগুলো তাদের গ্রামের পাশর্^বর্তী রসুনাকোনা পাহাড়ে অবস্থান করছে। যে কোনো মুহূর্তে হাতিগুলো আবার তাদের গ্রামে প্রবেশ করতে পারে বলেও তিনি জানান।
বকশীগঞ্জ উপজেলার কামালপুর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা এবং বকশীগঞ্জ থানার ওসি আসলাম হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন