ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ১৩ কার্তিক ১৪২৭, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

সারা বাংলার খবর

নওগাঁয় কলেজ ছাত্রীকে চুলকেটে নির্যাতনের ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী গ্রেফতার

নওগাঁ জেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৬:৩১ পিএম

নওগাঁর নিয়ামতপুরে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে কলেজ ছাত্রীর মাথার চুলকেটে নির্যাতনের ঘটনায় রুপালী (২২) নামের এক নারী গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে মহিলাকে গ্রেফতার করা হয়। আটক মহিলা প্রধান আসামি রায়হানের স্ত্রী। গতকাল স্বামী রায়হানকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ূন কবির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গত সোমবার রাতে এ ঘটনায় ছাত্রীর বাবা বাদি আমিরুল ইসলাম হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর প্রথমে পুলিশ অভিযুক্ত রায়হান (৩০) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করে এবং পরে আজ বুধবার সকালে তার স্ত্রীকেও গ্রেফতার করে। বখাটে রায়হান (২৫) নিয়ামতপুর উপজেলার শ্রীমন্তপুর ইউনিয়নের ঝাজিরা গ্রামের মতিউর রহমানের ছেলে।
উল্লেখ্য, নওগাঁর নিয়ামতপুরে এক কলেজ শিক্ষার্থীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে যায় রায়হানসহ কয়েকজন বখাটে যুবকরা। এরপর বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তারা শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দেয়। এ ছাড়াও শারিরীক নির্যাতন চালিয়ে মোবাইলে সেই ভিডিও ধারন করা হয়। এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় সেই ভিডিও।
কলেজ ছাত্রী সূমী সাংবাদিকদের বলেন, রায়হান এক মাস যাবত আমাকে বিভিন্ন ভাবে উত্যক্ত করতো। বিভিন্ন কু-প্রস্তাব দিত। আমি রাজী না হওয়ায় গতকাল রবিবার বেলা ৩টা হতে ৪টা পর্যন্ত কম্পিউটার প্রশিক্ষন শেষে আমার স্যার নিয়ামতপুর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক কামাল হোসেনের নিকট প্রাইভেটের টাকা দিতে যাই আমি, সেই সময় বালাহৈর জামে মসজিদের কাছে থেকে রায়হান ও তার তিন বন্ধু আমাকে জোরপূর্বক তার ভাড়া বাড়ীতে নিয়ে যায় এবং শারীরিক ভাবে নির্যাতন করে, দেড় ফিট লম্বা মাথার চুল কেটে ফেলে এবং আমার ছবি তুলে হুমকি দেয় যদি এসব কাউকে বলি তাহলে আমাকে মেরে ফেলবে। জানিয়ে কলেজ ছাত্রী সূমী আরো বলেন, আমাকে দু-ঘন্টা ঘরে আটকে রেখে আমার পর্ণছবি তুলে সন্ধ্যা ৭টার পরে থানায় নিয়ে গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে মিথ্যা জবানবন্দি দিতে বাধ্য করে আমাকে ওই বখাটে ও তার লোকজন।
পরে আমার নানা থানায় এসে আমাকে নানা বাড়ীতে নিয়ে যায়। রাত ১২টায় শারীরিক ভাবে বেশী অসুস্থ হলে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে এসে ভর্তি করান। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন