বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১, ১৫ শাওয়াল ১৪৪৫ হিজরী

ব্যবসা বাণিজ্য

গফরগাঁওয়ে পাটের কদর বেড়েছে চড়া দাম পেয়ে খুশি কৃষকরা

প্রকাশের সময় : ১১ আগস্ট, ২০১৬, ১২:০০ এএম

মো. আতিকুল্লাহ, গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) থেকে : গফরগাঁও উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে কিছু কিছু এলাকায় বৃষ্টিপাত কম হওয়ার ফলে এখানকার কৃষকরা পাট জাগ দিতে পারছে না। বেশ  কিছু এলাকার লোকজনকে নতুন পাট বাজারে তুলতে দেখা গেছে।  গত ১৫/২০ বছরের তুলনায় এবার দাম অনেকটা বৃদ্ধি পেয়েছে। ধান চাষের পরিবর্তে পাট চাষের প্রতি কৃষকদের আগ্রহ বেড়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের মধ্যে ময়মনসিংহ জেলায় পাট উৎপাদন বেশি হতো। কিন্তু কালের বির্বতনে পাটের দাম কমে যাওয়ার ফলে এ চাষের প্রতি কৃষকরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিল। একসময় পাটকে সোনালি আঁশ বলা হতো। সালটিয়া গ্রামের মো. আবুল হাসেম ফকির জানান, দিন দিনে পাট চাষের প্রতি কৃষকদের আগ্রহ বেড়েই চলছে। গত বারের তুলনায় দামও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ধারনা করা হচ্ছে পাটের সেই ২৫/৩০ আগের সোনালি দিন ফিরে আসছে। তবে বর্তমান সরকার পাটচাষের প্রতি নজিরবিহীন গুরত্ব দিয়েছে। পাট চাষের প্রতি কৃষকদের আগ্রহ ও উৎসাহ বৃদ্ধি করার জন্য সরকারী ভাবে সুদবিহীন ঝণ দেয়া দরকার। ময়মনসিংহ জেলার মধ্যে গফরগাঁও উপজেলার প্রধান ফসল ছিল পাট ও আর ইক্ষু। কিন্তু কালের বিবর্তনে ইক্ষু চাষ এখন আর কেউ করে না। এ ফসল করতে ব্যাপক খরচ হয়ে থাকে। ইক্ষু করতে প্রায় এক বছর সময় প্রয়োজন হয়ে থাকে।  বর্তমানে ধান, চালসহ সকল ধরনের পাটের ব্যাগ ব্যবহার হয় বলে পাট চাষের প্রতি ঝুঁকে পড়েছে কৃষকরা।  
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এস ফারহানা হোসেন জানান, এবার ১ হাজার  ৫০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করা হয়। গতবারের তুলনায় অনেক বেশি। গত সোমবার (৮ আগস্ট) গফরগাঁও উপজেলায় প্রধান হাট সালটিয়া বাজারে নতুন ভাল পাট প্রতিমণ ১৫শ টাকা থেকে ১৪শ টাকা দরে বিক্রি হয়। এ উপজেলার আবহমান গ্রামবাংলার ছোট-বড় হাট বাজারে নতুন নতুন হরেক রকম জাতের প্রচুর পরিমাণে পাট উঠতে শুরু করেছে। বেচাকেনা এখনো পুরোদমে শুরু হয়নি। তবে আগামী মাসে পুরো দমে বিক্রি শুরু হবে। বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, আমরা লাখ লাখ টাকা দিয়ে পাট ক্রয় করলেও মিল মালিকরা একসাথে টাকা পরিশোধ করে না। ফলে বাধ্য হয়ে কিছু বাকিও পাট বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে ছোট-খাটো ফরিয়া ব্যবসায়ীদের পাট ক্রয় করার জন্য সরকারী ব্যাংকগুলো সহজশর্তে ঝণ দেয়া হলে ভালো হত বলে ব্যবসায়ীরা এ প্রতিনিধিকে জানান।  গফরগাঁও বাজারের বিশিষ্ট পাট ব্যবসায়ী মো. এমাদুল হক (ইন্তুু) জানান, দাম আরও বাড়তে পারে বলেই অনেকেই পাট মজুদ করে রেখেছে। অন্যান্য বারের তুলনায় এবারে পাটের দাম আরও বাড়বে বলে কৃষকরা আশা করছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন