ঢাকা রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ৮ কার্তিক ১৪২৭, ০৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

অভ্যন্তরীণ

দখলে ও দূষণে কাজলী নদী

মো. সাহাব উদ্দিন, গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ) থেকে | প্রকাশের সময় : ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১২:০২ এএম

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বাউসিয়ার ভেতরে এঁকেবেঁকে বয়ে গেছে কালেরসাক্ষী কাজলী নদীটি। নদীর পাড়ঘেঁসে গড়ে উঠেছে আদি জনবসতি। আগে এখানকার মানুষ নদীটিকে আর্শীবাদ মনে করতেন। বর্তমানে এটি স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে বিষের ভান্ডারে পরিণত হচ্ছে। নদীটির তীঁরে গড়ে উঠেছে আনোয়ার সিমেন্ট সিট ও ম্যানস ফি পেপার মিলস দু’টি ভারী শিল্পকারখানা। শিল্পকারখানার তরল ও অপচনশীল বর্জ্য বইছে কাজলী নদীতে। বর্তমানে কারখানার ময়লা পড়ে ভরাট হয়ে গেছে। এক সময় নদীটি ছিল গভীর ও খরস্রোতা। দেশের উত্তর-দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তর নৌ-যোগাযোগ পথ ছিল এ নদীটি। পণ্য পরিবহনে নদীটির গুরুত্ব ছিল খুবই বেশি। তাছাড়া নিত্যনৈমিত্তিক পন্য সামগ্রী পরিবহনে একমাত্র নৌপথ এই কাজলী নদী। আনোয়ার সিমেন্ট শিট মনস ফি পেপার মিলসের বর্জ্য নদী ও আশপাশে জমে ভরাট হয়ে থাকায় বর্তমানে মানুষ নৌপথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। নদীটিতে জোয়ার-ভাটার সুযোগে থাকে কল-কারখানার মালিকরা। জোয়ার আসলেই মিলসের বর্জ্য ছাড়তে থাকে। আনোয়ার সিমেন্ট শিট মিলসের ময়লা নির্গত হলে নদীর পানি সাদা এবং ম্যানস ফি পেপার মিলসের ময়লা নির্গত হলে নদীর পানি কালো কুচকুচে রঙ ধারণ করে। ৫/৬ বছর আগে নদীর পানি ব্যবহার করা গেলেও এখন তা করা যায় না।
এ ব্যাপারে মিলস কর্তৃপক্ষের সাথে কয়েকবার সাক্ষাৎ করার চেষ্টা করলেও যোগাযোগ পাওয়া যায়নি। শিল্প বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সরকারের নীতিমালা অমান্য করে এসব শিল্পবর্জ্য অপরিশোধিতভাবে সরাসরি ফেলার কারণে ইতোমধ্যেই পানি মারাত্মক দুষিত হয়ে পড়েছে। পূর্ব নয়াকান্দি গ্রামের গোপাল বর্মন, মতিলাল, হরিপদ ও হারুন খাঁ বলেন, আমাদের জীবন ও জীবিকার সাথে প্রত্যক্ষ আর্শীবাদ হিসেবে জড়িয়ে রয়েছে নদী। আজ জীবন ও জীবিকার পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। পানি দূষণের ফলে নদীতে মৎস্য প্রজনন বিপন্ন হয়ে গেছে। কৃষিকাজে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। নদীর তীরবর্তী জমিগুলোর উর্বরতা হ্রাস পেয়ে ফসল উৎপাদন কমে যাচ্ছে।
এদিকে এলাকার মানুষের জীবন ও জীবিকার তাগিদে কাজলী নদীর দূষণ, দখলমুক্তকরণ ও নদী খনন জরুরি। একই গ্রামের বাসিন্দা রুহিদাস বর্মন বলেন, আমরা গত ৫ ফেব্রুয়ারি এলাকাবাসী বাউসিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে মাধ্যম করে গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি আবেদন দেন। এছাড়া সদয় অবগতির জন্য গজারিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান, ব্যবস্থপনা পরিচালক আনোয়ার সিমেন্ট শিট লিঃ, ম্যানজ ফি পেপার মিলস লিঃ ও নিউহোপ এগ্রোটেক লি. অনুলিপি দেই। শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বেচ্ছাচারীতে কর্মকান্ড বন্ধ করে অবিলম্বে নদীটির উপরোক্ত সমস্যা সমাধানরে জন্য জোর দাবি করছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে জানার জন্য শিল্প-কারখানায় দায়িত্বরত কর্মকর্তারা কথা বলতে নারাজ এবং ঢাকায় অবস্থিত প্রধান কার্যালয়ের দোহাই দিয়ে এড়িয়ে যান।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন