ঢাকা মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

সারা বাংলার খবর

নওগাঁয় চতুর্থ দফা বন্যায় প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল নিমজ্জিত

নওগাঁ জেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১ অক্টোবর, ২০২০, ৬:১৯ পিএম

উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে নওগাঁয় ছোট যমুনা ও আত্রাই নদীতে পানি বৃদ্ধি হয়ে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে জেলার আত্রাই এবং মান্দা উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রুপ নিয়ে কমপক্ষে ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। চতুর্থ দফায় এই বন্যায় জেলার ৪ হাজার ৭৬৭ হেক্টর জমির ফসল নিমজ্জিত হয়েছে।

নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল ৯টার পর থেকে ছোট যমুনা নদীর লিটন ব্রীজে বিপদৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার, মহাদেবপুর আত্রাই নদীতে ২৬ সেন্টিমিটার, মান্দার আত্রাই নদীর জোতবাজার পয়েন্টে ৬২ সেন্টিমিটার, ধামইরহাট উপজেলার আত্রাই নদীর শিমুলতলি ব্রীজে ১২৭ সেন্টিমিটার এবং আত্রাই উপজেলায় আত্রাই রেলওয়ে ষ্টেশন পয়েন্টে বিপদৎসীমার ৫৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
গত জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে বন্যার ভাঙ্গন দিয়ে আত্রাই উপজেলার হাটকালুপাড়া, কালিকাপুর, আহসানগঞ্জ, শাহাগোলা, বিশা, পাঁচুপুর ও ভোঁপাড়ার সাতটি উনিয়ন এবং মান্দা উপজেলার কসব, বিষ্ণপুর ও নুরুল্যাবাদ ইউনিয়ন সম্পূর্ণভাবে প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার মাঠের রোপা আমন ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অধিকাংশ পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। মাটির বাড়িঘর ভেঙ্গে গেছে। বন্যার্ত এলাকায় গো-খাদ্যের সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

আত্রাইয়ের হাটকালুপাড়া ও কালিকাপুর ইউনিয়নের বাড়িঘর কোথাও হাঁটু পানি আবার কোথাও কোমর পানির নিচে। পাকাবাড়ির বাসিন্দারা বাড়ির জিনিসপত্র বিভিন্নভাবে উঁচু করে তার উপর রেখে কোন রকমে বসবাস করছেন। অধিকাংশ পরিবারের রান্না করার ব্যবস্থা নেই। তাদের গৃহপালিত পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বাসীন্দারা।
আত্রাই উপজেলার হাটকালুপাড়া ইউনিয়নের চক-শিমলা গ্রামের ফারুক হোসেন জানান, গত জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে বাঁধ ভেঙে বন্যায় তাদের বাড়ি ঘর ডুবে যায়। এরপর পরিবার নিয়ে প্রায় একমাস বাঁধের উপর আশ্রয় নিয়েছিলাম। আবারও ওই ভাঙা স্থান দিয়ে গত কয়েক দিনে পানি এসে বন্যায় তাদের বাড়িঘর ডুবে টিনের চালা পর্যন্ত পানি উঠেছে। প্রতি বছর বাঁধ ভেঙে তাদের অনেক ক্ষতি হয়ে থাকে। বাঁধ শক্ত ও মজবুত করা হলে বন্যার কবল থেকে রক্ষা পেতাম।
মান্দা উপজেলার বিষ্ণপুর ইউনিয়নের চকরামপুর গ্রামের কৃষক রেজাউল ইসলাম জানান, আমার ৪ বিঘা জমিতে আগস্ট এর মাঝামাঝি সময়ে আমনের চারা রোপন করেছিলাম। বুধবার থেকে নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় বাঁধের ভাঙন দিয়ে আবারও পানি প্রবেশ করে আমার জমির সব আমনের চারা ডুবে গেছে। বন্যার পর আমরা সরকারীভাবে সহায়তা না পেলে এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবো না।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ শামসুল ওয়াদুদ জানান, চতুর্থ দফায় বন্যায় ইতোমধ্যে জেলায় ৪ হাজার ৭৬৭ হেক্টর জমির ফসল নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে রোপা আমণ ৪ হাজার ৬৯১ হেক্টর এবং শাকসবজি ৭৬ হেক্টর। নওগাঁ সদর উপজেলায় ৪০০ হেক্টর, রানীনগরে ৮৩০ হেক্টর, আত্রাইয়ে ১২৫০ হেক্টর, ধামইরহাটে ৩০০ হেক্টর, মান্দায় ১২৫০ হেক্টর, নিয়ামতপুরে ৩৫ হেক্টর, পোরশায় ৭২ হেক্টর , পতœীতলায় ১০০ হেক্টর, মহাদেবপুরে ২০০ হেক্টর, বদলগাছীতে ১০০ হেক্টর জমির রোপা আমণ ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে কৃষকদের ক্ষতির পরিমাণ আরো বৃদ্ধি পাবে।
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ছানাউল ইসলাম জানান, উপজেলার আটটি ইউনিয়নের মধ্যে সাতটি ইউনিয়ন বন্যা কবলিত হয়েছে। তবে হাটকালুপাড়া, কালিকাপুর ও আহসানগঞ্জ ইউনিয়নের পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ। এই উপজেলার প্রায় ১৫ হাজার পরিবারের ৩০ হাজার মানুষ সম্পূর্নভাবে পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। ইতিমধ্যে প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় হাটকালুপাড়া ও কালিকাপুর ইউনিয়নে প্রায় ৫ শতাধিক পরিবারের মধ্যে চাল, ডাল ও তেল সহ শুকনা খাবার বিতরন করা হয়েছে।
মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল হালিম জানান, উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের প্রায় ৫ হাজার পরিবারের ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। তাদের সরকারী সহযোগিতা প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন থেকে ইতিমধ্যেই ত্রান সহযোগিতা বিতরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সঠিক হিসাব পাওয়া যায়নি।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন