ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ১৩ কার্তিক ১৪২৭, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

আমি কবরে আসামি হই কী করে!

রাজশাহী ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ৩ অক্টোবর, ২০২০, ১২:৩২ এএম

ব্যবসায়ী বাবলুর মৃত্যু হয়েছে আট বছর আগে ২০১১ সালে। মৃত্যুর আট বছর পর তাকে শ্রম আইনের মামলায় আসামি করা হয়েছে। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান প্রদির্শন অধিদফতর রাজশাহী বিভাগীয় শ্রম আদালতে মামলাটি করেছে। এনিয়ে আদালত পাড়ায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে বলছেন, মৃত ব্যক্তিকে আল্লাহ কথা বলার সুযোগ দিলে হয়তো নিশ্চিত তিনি বলতেন-আমি কবরে আসামি হই কি করে!

বিষয়টি আদালতের নজরে এলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন। সম্প্রতি একই আদালতে আট বছরের এক শিশুকে আসামি করে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান মামলা করে। আসামী মৃত ব্যাক্তি এ বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হলে শ্রম আদালতের চেয়ারম্যান সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ গোলক চন্দ্র বিশ্বাস মামলার অভিযোগকারী কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের রাজশাহী কার্যালয়ের শ্রম পরিদর্শক আজহারুল ইসলামকে কারন দর্শানোর নির্দেশ দেন।

মামলার আইনজীবী সাইফুর রহমান খান রানা জানান, মামলার আসামি নগরীর সাহেব বাজার জরিপট্টির স্মৃতি স্বরুপ বাস্ত্রালয়ের মালিক মো. বাবলু ২০১১ সালের ২ নভেম্বর মারা যান। কিন্তু মামলার অভিযোগকারী সাপ্তাহিক ছুটির দিনে দোকান খোলা রাখার অভিযোগ এনে বাবলুর বিরুদ্ধে যে মামলা দায়ের করেন তাতে দোকান খোলা রাখার তারিখ হিসাবে উল্লেখ রয়েছে ২০১৯ সালের ৫, ১২, ও ১৯ জুলাই এবং ১১ অক্টোবর।

মামলা দায়েরের আট বছর আগে আসামি মৃত ব্যাক্তির কারণে মামলা চালিয়ে যাওয়ার কোন আইনগত প্রয়োজনীয়তা না থাকায় গত ২০ সেপ্টেম্বর আদালত আসামিকে অভিযোগের দায় থেকে অব্যাহতি এবং মামলা নথিজাতের আদেশ দেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি শুক্রবার ছুটির দিন দোকান বন্ধ না রাখার অভিযোগ এনে রাজশাহী পবা উপজেলার পূর্ব পুঠিয়াপাড়া গ্রামের জনাব আলীর আট বছরের ছেলে জুবাইর আহমেদকে আসামি করে মামলা করেছে কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর। মামলাটি বর্তমানে রাজশাহী শ্রম আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের রাজশাহীর উপ-মহা-পরিচালক মাহফুজুর রহমান ভ‚ইয়া বলেন, আট বছরের শিশুকে আসামি করার ঘটনাটি দোকান মালিকের অবহেলার কারণে হয়েছে। কারন দোকানের সাইনবোর্ডে এই শিশুর নাম লেখা হয়েছিল। সেই নামেই নোটিশ পাঠিয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। কিন্তু মালিক কোন জবাব না দেয়ার কারনেই ওই শিশু মামলার আসামি হয়ে যায়।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন