ঢাকা বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৬ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

৬০০ কোটি টাকায় ভ্যাকসিন কিনবে বাংলাদেশ

৭ মার্চকে ঐতিহাসিক দিবস ঘোষণার অনুমোদন নিবন্ধন ছাড়া লবণ আমদানিতে জেল-জরিমানা

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৮ অক্টোবর, ২০২০, ১২:০৩ এএম

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের দিনটিকে ঐতিহাসিক দিবস হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। তবে এদিন কোনো ছুটি থাকবে না। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ‘ক’ ক্রমিকের অন্তর্ভুক্ত হবে। সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দফতর, সংস্থা দিবসটি তাদের নিজস্ব কর্মসূচির মাধ্যমে উদযাপন ও বাস্তবায়ন করবে।

এদিকে করোনা প্রতিরোধে ভ্যাকসিন কেনার জন্য বাজেটে একটি প্রকল্পের আওতায় ছয়শ’ কোটি টাকার সংস্থান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) স্বীকৃতি ছাড়া কোনো ভ্যাকসিন নেবে না বাংলাদেশ। মন্ত্রিসভায় এ বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। নিবন্ধন ছাড়া আমদানিসহ লবণের কারবারের জন্য কারাদন্ডের বিধান রেখে আইনের খসড়ায় সায় দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের দিনটিকে ঐতিহাসিক দিবস হিসেবে ঘোষণা এবং দিবসটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপন/পালন সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা পরিপত্রের ‘ক’ ক্রমিকে অন্তর্ভুক্তকরণের প্রস্তাব। দিনটি ঐতিহাসিক দিন সবাই জানেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৃঢ় বলিষ্ঠ নেতৃত্বের নির্দেশনা ও জাতীয় জাগরণের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দেয়া ভাষণে। বঙ্গবন্ধুর দেয়া ৭ মার্চের ভাষণ এই দেশে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার মূল প্রেরণা। এই ভাষণ কেন্দ্র করে স্বাধীনতার চ‚ড়ান্ত মঞ্চ গড়ে ওঠে।

তিনি বলেন, ৭ মার্চের ভাষণের নির্দেশনার আলোকে এদেশের সর্বস্তরের জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে মুক্তিযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। এটার আন্তর্জাতিক গুরুত্বও আছে। ইউনেস্কো এই ভাষণকে মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্ট্রারে অন্তর্ভুক্ত করেছে। সে বিবেচনায় জাতীয় জাগরণ ও স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম প্রেরণার উৎস হিসেবে দিবসটি উদযাপন করার বিষয়টি খুবই প্রাসঙ্গিক। তাই মন্ত্রিপরিষদে প্রস্তাব হিসেবে নিয়ে আসা হয়েছে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এ প্রস্তাবটা দিয়েছে।

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, এ প্রস্তাবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় আছে। যেমন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে সঠিকভাবে উপস্থাপন ও তাৎপর্য তুলে ধরা দিবসটি পালনের যৌক্তিকতা। দিবসটি উদযাপনের মাধ্যমে দেশের জনগণের কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপূর্ণ বিকাশ লালনপালন ও যথাযথ চর্চা করা সম্ভব হবে। সবাইকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পরিপূর্ণ সংস্থাপন করার প্রয়াস বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দফতর, সংস্থা এ দিবসটি তাদের নিজস্ব কর্মসূচির মাধ্যমে উদযাপন ও বাস্তবায়ন করবে। এদিন কোনো ছুটি থাকবে না। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ‘ক’ ক্রমিকের অন্তর্ভুক্ত হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ভ্যাকসিন নিয়ে আজ একটা বিস্তারিত প্রেজেন্টেশন ছিল কেভিড-১৯ সংক্রমণের পর থেকে বিশ্বব্যাপী ভ্যাকসিনের জন্য বিভিন্ন দেশে উঠেপড়ে লেগেছে। ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল হয়েছে ৪৬টি ভ্যাকসিনের আর প্রি-ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে ৯১টির। যারা ভ্যাকসিন তৈরি করছে শুরু থেকেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। আমাদের একটা মানদন্ড হলো ডবিøউএইচও যেটা স্বীকৃতি দেবে না আমরা সেটাকে গ্রহণ করবো না। এটাকে মানদন্ড ধরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ডিপার্টমেন্টগুলো এবং ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানি পার্সোনালি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করছে এখানে উৎপাদনের জন্য।
তিনি বলেন, ভ্যাকসিন কেনার জন্য বাজেটে একটি প্রকল্পের আওতায় ছয়শ’ কোটি টাকার সংস্থান রাখা হয়েছে। অর্থ সচিব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কোনো কারণে যদি ফরেন কারেন্সি নাও পাওয়া যায়, বাজেটে সেটার সংস্থান রাখা হয়েছে। ভ্যাকসিন কেনার জন্য টাকা-পয়সার কোনো সমস্যা হবে না।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আয়োডিনযুক্ত লবণ আইন, ২০২০ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। নিবন্ধন ব্যতীত কেউ লবণ আমদানি, গুদামজাত, ভোক্তা পর্যায়ে পাইকারি সরবরাহ প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিশোধন বা আয়োডিনযুক্ত কারখানা পরিচালনা করে অথবা এর গুণগত মান নিশ্চিত না হয় তাহলে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড হবে বা অর্থদন্ডের বিষয় এ আইনের ৪২ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে অনধিক এক থেকে তিন বছর পর্যন্ত কারাদন্ড এবং ৫০ হাজার টাকা থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড বা উভয়দন্ড দেয়া যাবে একসাথে। এটি মোবাইল কোর্ট আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আইনটির মধ্যে ১৩টি অধ্যায় ও ৫১টি ধারা আছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন