ঢাকা শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

ধর্ম দর্শন

প্রশ্ন: ইসলামে শুদ্ধাচারের স্বরূপ কী?

মোঃ আবদুল গনী শিব্বীর | প্রকাশের সময় : ১৫ অক্টোবর, ২০২০, ১২:০২ এএম

উত্তর: ইসলাম কালজয়ী আদর্শ ও জীবন ব্যবস্থার সমন্বিত নাম। ব্যক্তিগত শুদ্ধচারের মাধ্যমে একটি আদর্শ সমাজ, কল্যাণকর রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশ স্বয়ং ইসলামের। আরবীতে শুদ্ধাচারকে ‘তাজকিয়া’ বলে। বাংলায় শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণ ও উৎকর্ষ বোঝায়। যার দ্বারা একটি সমাজের কালোত্তীর্ণ মানদন্ড, নীতি ও প্রথার প্রতি আনুগত্য বোঝানো হয়।
ব্যক্তি পর্যায়ে শুদ্ধাচার এর অর্থ হলো কর্তব্য নিষ্ঠা ও সততা, তথা চরিত্র নিষ্ঠা। সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীদের বলা হয় জনগণের সেবক। কিন্তু বাস্তবে অনেকে যেন একেক জন প্রভু। প্রভুত্বের আসন বানিয়ে বরং জনগণকে সেবাদাসে পরিণত করে। সাধারণ মানুষ সেবক নামক প্রভুর হাতে নানাভাবে, নানা সময়ে হয়রানী ও নিষ্পেষনের শিকার হতে হয়। সরকারী কর্মকর্তা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের বিদ্যমান ধারণা বদলাতে এবং সকল কর্মকর্তা কর্মচারীকে সরাসরি জবাবদিহিতার আওতায় আনার লক্ষ্যেই নেয়া হয় জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল। এই প্রশিক্ষণ গ্রহণ সকল সরকারী কর্মকর্তার জন্য বাধ্যতামূলক। ২০১২ সালে বাংলাদেশ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এই কৌশল প্রয়োগের উদ্যোগ নেয়। দেশের সকল মানুষ যেন সরকারী সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর কাছ থেকে ভাল ব্যবহার ও সময়মতো কাজ বুঝে পায় এবং কোনভাবেই যেন দুর্নীতির মধ্যে জড়িয়ে না পড়ে তা নিশ্চিত করাই এই কর্মসুচীর অন্যতম উদ্দেশ্য।
পবিত্র ইসলাম ধর্মে শুদ্ধাচারের বিষয়ে জোর তাগিদ দেয়া হয়েছে। পবিত্র কুরআন হাদীসে সে বিষয়ে স্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেনঃ নিশ্চয় সাফল্য লাভ করবে সে, যে শুদ্ধ হয়। এবং তার পালনকর্তার নাম স্মরণ করে, অতঃপর নামায আদায় করে। (সুরা আলাঃ ১৪-১৫)। আল্লাহপাক ইরশাদ করেনঃ যে নিজেকে শুদ্ধ করে, সেই সফলকাম হয়। এবং যে নিজেকে কলুষিত করে, সে ব্যর্থ মনোরথ হয়। (আশ শামসঃ ৯-১০) আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেনঃ প্রাচুর্যের লালসা তোমাদেরকে গাফেল রাখে, এমনকি, তোমরা কবরস্থানে পৌছে যাও। (তাকাছুরঃ ১-২)
আল্লাহপাক আরো ইরশাদ করেনঃ নিশ্চয় তাদের প্রত্যাবর্তন আমারই নিকট, অতঃপর তাদের হিসাব-নিকাশ আমারই দায়িত্ব। (গাশিয়াহঃ ২৫-২৬) আল্লাহপাক ইরশাদ করেনঃ কিন্তু যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, তাদের জন্য রয়েছে অফুরন্ত পুরস্কার। (আল ইনশিক্বাক্বঃ ২৫) আল্লাহপাক আরো ইরশাদ করেনঃ হে ঈমানদানগণ! ধৈর্য্য ধারণ কর এবং মোকাবেলায় দৃঢ়তা অবলম্বন কর। আর আল্লাহকে ভয় করতে থাক যাতে তোমরা তোমাদের উদ্দেশ্য লাভে সমর্থ হতে পার। (আলে ইমরানঃ ২০০)
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনঃ আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা প্রত্যেকেই রক্ষক এবং তোমরা প্রত্যেকেই জিজ্ঞাসিত হবে। একজন শাসক সে তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। একজন পুরুষ তার পরিবারের রক্ষক, সে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। একজন স্ত্রী তার স্বামীর গৃহের রক্ষক, সে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে। একজন গোলাম তার মনিবের সম্পদের রক্ষক, সে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। অতএব সাবধান, তোমরা প্রত্যেকেই রক্ষক এবং তোমরা প্রত্যেকেই জিজ্ঞাসিত হবে।
নু‘মান ইবনু বশীর (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ জেনে রাখ, শরীরের মধ্যে একটি গোশতের টুকরো আছে, তা যখন ঠিক হয়ে যায়, গোটা শরীরই তখন ঠিক হয়ে যায়। আর তা যখন খারাপ হয়ে যায়, গোটা শরীরই তখন খারাপ হয়ে যায়। জেনে রাখ, সে গোশতের টুকরোটি হল অন্তর। (মুসলিম ১৫৯৯, আহমাদ ১৮৩৯৬, ১৮৪০২)। মানুষের অন্তরে খোদাভীতিই হলো মুলতঃ শুদ্ধাচারের ইসলামী স্বরূপ।
উত্তর দিচ্ছেন : মোঃ আবদুল গনী শিব্বীর, প্রভাষক, নোয়াখালী কারামাতিয়া কামিল মাদরাসা।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন