ঢাকা শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

সম্পাদকীয়

চিঠিপত্র

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে ব্যবহৃত বিদেশি শব্দের অভিধান

| প্রকাশের সময় : ২৫ অক্টোবর, ২০২০, ১২:০২ এএম

ড. মোহাম্মদ হারুন রশিদ সংকলিত ও সম্পাদিত ‘বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে ব্যবহৃত বিদেশি শব্দের অভিধান’ প্রকাশ করেছে। গ্রন্থটি বাংলা একাডেমির অভিধান প্রকাশনার ধারায় একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন। বাংলা ভাষা তার সমৃদ্ধি এবং প্রকাশ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বহু বিদেশি ভাষার শব্দ আত্মীকৃত করে নিয়েছে নিজস্ব নিয়ম-শৃঙ্খলার মাধ্যমে। বিদেশি শব্দ গ্রহণের ফলে বাংলা ভাষার শব্দভান্ডার সমৃদ্ধ হয়েছে। পৃথিবীর কোনো ভাষাই স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। সব ভাষাতেই অন্য ভাষার অনুপ্রবেশ ঘটে থাকে। ভাষার সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে যথাযথভাবে প্রচলিত বিদেশি শব্দের গ্রহণযোগ্যতা অনস্বীকার্য। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে কত বিদেশি শব্দ প্রবিষ্ট হয়েছে ও ব্যবহৃত হচ্ছে তা নিয়ে আজও পূর্ণাঙ্গ কোনো অভিধান রচিত হয়নি। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে ব্যবহৃত সেই সব বিদেশি শব্দের ভান্ডার নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তৃত পরিসরে অভিধান প্রণয়নের তাকিদ ছিল দীর্ঘদিনের। এই বিষয়টির প্রতি লক্ষ রেখেই বাংলা একাডেমি বর্তমান অভিধানটি প্রকাশ করেছে।
ভাষাবিজ্ঞানীদের মতে, যে ভাষা যত বেশি বিদেশি শব্দ আত্মস্থ করতে পারে পৃথিবীতে সেই ভাষার গ্রহণযোগ্যতা তত বেশি। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে প্রায় বিশ রকমের বিদেশি শব্দের ব্যবহার পাওয়া যায়। যেমন: আরবি, ফারসি, উর্দু, হিন্দি, তুর্কি, ইংরেজি, সংস্কৃত, পর্তুগিজ, ফরাসি, ল্যাটিন, হিব্রু, সুরিয়ান, চীনা, জাপানি, ইতালিয়ান, গ্রিক, জার্মান, ডাচ, আর্মেনীয়, রুশ ইত্যাদি। বর্তমান অভিধানটি পাঠ করলে বোঝা যায়, এ ভাষা কত জীবন্ত, প্রাণবন্ত ও সমৃদ্ধ। এ ভাষায় পৃথিবীর প্রায় ৩৫ কোটি মানুষ কথা বলে। জনসংখ্যার বিবেচনায় পৃথিবীতে বাংলা ভাষার অবস্থান এখন চতুর্থ অথবা পঞ্চম। ৫৩৬ পৃষ্ঠার অভিধানটির মূল্য ৪০০ টাকা, বাংলা একাডেমি বই বিক্রয় কেন্দ্রে অভিধানটি পাওয়া যাচ্ছে। ভাষাবিজ্ঞানী, গবেষক ড. মোহাম্মদ হারুন রশিদের এ এক অনন্য সাধারণ অবদান। তাকে আন্তরিক অভিনন্দন। সেই সাথে বাংলা একাডেমিকেও ধন্যবাদ।
- মুহাম্মদ ইসমাঈল

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন