ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১০ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

অভ্যন্তরীণ

মেঘনায় বালু উত্তোলন অব্যাহত

হাইকোর্টের আদেশ অমান্য

মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন মোল্লা, কুমিল্লা উত্তর থেকে | প্রকাশের সময় : ২৫ অক্টোবর, ২০২০, ১২:০১ এএম

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার ৬নং সেনেরচর-চালিভাঙা মোৗজা ও নারায়নগঞ্জের সোনাগাঁও-আড়াইহাজার উপজেলার আওতাধীন মেঘনা নদীর ১নং সাতমারা চরেরগাও মৌজার অভ্যন্তরে বালু উত্তোলন না করার জন্য মহামান্য হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ রয়েছে। এই আদেশ থাকা সত্তে¡ও স্থানীয় ‘বালুদস্যু সিন্ডিকেট’ স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন করছে বলে এলাকাবাসীর বিস্তর অভিযোগ। ফলে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প ইকোনোমিক জোন, স্থানীয় বাজার, মসজিদ ও গ্রামের পর গ্রাম মেঘনা নদী ভাঙন আতঙ্কে স্থানীয় মানুষ দিশেহারা। মেঘনার ভাঙনের কবলে পরে বসতভিটে হারিয়ে বহু পরিবার এরই মধ্যে নিঃস্ব হয়েছে। এ অঞ্চল থেকে বালু উত্তোলনের ফলে উক্ত গ্রামের শত শত পরিবার নদী ভাঙনের যন্ত্রনা সইতে হচ্ছে। ফলে নদী ভাঙন থেকে রক্ষার্থে বালুদস্যুদের বিরুদ্ধে স্থানীয় লোকজন দফায় দফায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বরাবরে আবেদন-নিবেদন করে আসছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নদী ভাঙন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে কয়েকবার বালু উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ জারি করলেও স্থানীয় প্রশাসনকে আর্থিক ম্যানেজ করে বালুদস্যু সিন্ডিকেট বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখে চলেছে।
সরজমিন নদী ভাঙন কবলিত কয়েকটি গ্রামে গেলে এসব তথ্য চিত্র ফুটে উঠে। এদিকে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে চলতি মাসে বালু উত্তোলনকারী জনৈক নুরুল আমিন সত্ত্বাধিকারী মেসার্স নার্গিস ট্রেডার্স-এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট পিটিশন নং ৭২৫০/২০২০, তারিখ ২০/২০/২০২০ইং দায়ের করলে হাইকোট ১নং সাপমারা চরেরগাঁও ও ৬নং সেনেরচর মৌজার অভ্যন্তরে বালু উত্তোলন না করার নির্দেশ দেন। কিন্তু ওই বালুদস্যু সিন্ডিকেট হাইকোর্টের নির্দেশের তোয়াক্কা না করে বালু উত্তোলন অব্যাহত চালিয়ে যাচ্ছে।
বাড়ি-ঘর ও ফসলি জমি নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়া শত শত পরিবার উপায়ন্তর না দেখে অতি সম্প্রতি বালুদস্যুদের ড্রেজারে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এরপর বালুদস্যুরা আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং ভিন্ন কৌশলে রাতের অন্ধকারে বালু উত্তোলন অব্যাহত রাখে।
এলাকাবাসী আরো জানান, বালুদস্যু সিন্ডেকেটের নেতৃত্বে আছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ সরকার। বালুদস্যু সিন্ডিকেট এতোই ভয়ঙ্কর যে, সাংবাদিকরা ঘটনাস্থল থেকে সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের মুখে তাড়া খেয়ে পালিয়ে আসতে হচ্ছে।
মেঘনা উপজেলা চেয়ারম্যান রতন সিকদার জানান, বালুদস্যুরা সরকারের আদেশ-নির্দেশকে তোয়াক্কা করে না। তারা চোরাপথে রাতের আধারে বালু উত্তোলন করছে। তিনি বলেন, হাইকোর্টের আদেশ মানতে হবে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন