ঢাকা শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

সড়ক দুর্ঘটনার খবর দিয়ে দিন শুরু হয়

আলোচনা সভায় ওবায়দুল কাদের

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৫ অক্টোবর, ২০২০, ১২:০০ এএম

সড়ক দুর্ঘটনার খবর শুনলেই দগ্ধ হই অদেখা দহনে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, সড়ক দুর্ঘটনা এখনও আমাদের বড় দুর্ভাবনা। কিছু পদক্ষেপ সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যাগতভাবে কমিয়ে আনলেও প্রতিদিনই ঘটছে অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনা। আমার প্রতিটি সকাল শুরু হয় দুর্ঘটনার সংবাদ দিয়ে। তখন নিজেকে খুবই অপরাধী মনে হয়। দগ্ধ হই অদেখা দহনে। তবে আমরা থেমে নেই। আমাদের অবিরাম প্রচেষ্টা অনেকটাই ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনছে।
গতকাল শনিবার ব্র্যাক ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, এক সময়ের মরণফাঁদ নামে খ্যাত ঢাকা টু আরিচা মহাসড়কের বø্যাকস্পট ডিভাইডারসহ সরলীকরণ করায় সেখানে দুর্ঘটনা অনেকটাই নেই বললেই চলে। এ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আমরা দেশব্যাপী ১২১টি বø্যাকস্পট চিহ্নিত করেছি। ডিভাইডার থাকলে মুখোমুখি সংঘর্ষ এড়ানো যায়। এ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বিগত এক দশকে প্রায় সাড়ে চারশ’ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা হয়েছে। একই সাথে প্রায় সাড়ে চারশ’ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ কাজ চলমান রয়েছে। ধীরগতিতে গাড়ি চলার জন্য নির্মাণ কাজ হচ্ছে স্বতন্ত্র লেনে।

বিগত কয়েক বছরে যোগাযোগ অবকাঠামো অনেক উন্নয়ন হয়েছে উল্লেখ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, আধুনিক সড়ক ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে উন্নত বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও চালু করা হয়েছে রোড সেফটি অডিট। ঢাকা মহানগরী আশপাশের জন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি পরিবহন পরিকল্পনা ছিল না। আমরা জাইকার সহায়তা নিয়ে প্রণয়ন করেছি দীর্ঘমেয়াদি স্ট্র্যাটিজি ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান। শুধু তাই নয় আমরা প্রণয়ন করেছিল দীর্ঘমেয়াদি রোড মাস্টারপ্ল্যান। এছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে ৬টি রুট নিয়ে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক তৈরির টাইম বাউন্ড অ্যাকশন প্ল্যান চ‚ড়ান্ত করা হয়েছে। এখন চলছে একটি মেট্রো রেল রুট এর কাজ। শীঘ্রই শুরু হবে আরও দুটো রুট এর কাজ।

নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণের প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণে প্রয়োজন দক্ষ ও প্রশিক্ষিত চালক। এ বাস্তবতা উপলব্ধি করে সরকার পেশাজীবী গাড়িচালকদের প্রশিক্ষণের সুবিধা বাড়িয়ে চলেছে। বিগত দুই অর্থ বছরে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে প্রায় এক লাখ ৭৫ হাজার পেশাজীবী চালকের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী গাড়িচালকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি ডোপ টেস্ট এর ওপর জোর দিয়েছেন। একই সাথে মালিকদের মানবিক হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

নারী গাড়ি চালক তৈরির বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা এখন নারী গাড়িচালক তৈরির সুযোগ বাড়াচ্ছি। নারী গাড়িচালক তৈরির কার্যক্রম ব্র্যাক-ই প্রথম শুরু করে। গাড়ি চালনায় পুরুষদের তুলনায় নারীরা অধিক সাবধানী এবং ট্রাফিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই সরকার অধিকাংশ নারী চালকের সংখ্যা বাড়াতে চাই। তিনি আরো বলেন, আমরা প্রত্যেকেই সড়ক ব্যবহারকারী। তাই সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। সড়ক নিরাপত্তায় সরকারের বাস্তবায়নাধীন কার্যক্রম সফল বাস্তবায়নের পাশাপাশি আইনের কার্যকর ব্যবহার এবং জনসচেতনতা বাড়ালে পূরণ হবে আমাদের নিরাপদ সড়কের প্রত্যাশা।

এসময় ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বব্যাংকের এক্টিং কান্ট্রি ডিরেক্টর মিজ দান্দান চেন, ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ, ব্র্যাক রোড সেফটি প্রোগ্রাম পরিচালক আহমেদ নাজমুল হোসাইন, বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র ট্রান্সপোর্ট স্পেশালিস্ট দীপন বোস প্রমূখ।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন