ঢাকা শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

ইয়েমেনের একটি প্রজন্ম ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে : জাতিসংঘ

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৭ অক্টোবর, ২০২০, ৭:০৯ পিএম

আরব অঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ ইয়েমেন। দেশটিতে গত পাঁচ বছর ধরে যুদ্ধ চলছে। একসময়ের সমৃদ্ধশালী দেশ ইয়েমেন আজ চরম দুর্ভিক্ষে পতিত, যুদ্ধে বিপর্যস্ত। আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদন জানিয়েছে, ইয়েমেনের একটি প্রজন্ম ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। মারাত্মক খাদ্য সংকটে পড়ে ইতিমধ্যে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে শিশুদের পুষ্টিহীনতার হার মারাত্মকভাবে বেড়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘মারাত্মক ভয়ংকর’ হিসেবে আখ্যায়িত করে ইউনিসেফের ইয়েমেন প্রতিনিধি পিলিপ ডুয়ামিলি বলেছেন, ‘মারাত্মক এই অপুষ্টির কারণে শিশুর মানসিক বিকাশ ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে এটি শুধু একটি শিশুকেই বিপদে ঝুঁকিতে ফেলে না। পুরো একটি প্রজন্মকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে।’
প্রতিবেদনটি বলছে, চলতি বছরে শুধু দক্ষিণ ইয়েমেনেই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের পুষ্টিহীনতার হার ১০ শতাংশ বেড়েছে। সংখ্যার বিচারে যা পাচঁ লাখেরও বেশি। শিশু ছাড়াও প্রায় আড়াই লাখ গর্ভবতী নারী অপুষ্টিতে ভুগছে।
দক্ষিণ ইয়েমেনে সাড়ে দশ লাখেরও বেশি শিশু তাদের পরিবারের সঙ্গে বসবাস করে। এই অঞ্চলটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অধীনে থাকায় জাতিসংঘ সহজে তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। অন্যদিকে উত্তর ইয়েমেনের নিয়ন্ত্রণ করে হুতি বিদ্রোহীরা। ফলে সেই অঞ্চল থেকে কোনো ধরনের তথ্য সংগ্রহ সম্ভব হয় না।
ইয়েমেনে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কো-অর্ডিনেটর লিসি গ্রানডি বলেন, ‘আমরা জুলাই থেকে সতর্ক করে আসছি খুব দ্রুতই খাদ্য সংকটে পড়তে যাচ্ছে ইয়েমেন। যদি যুদ্ধ এখনই শেষ না হয়, খাদ্যাভাবে ইয়েমেনে গোটা একটি প্রজন্ম হারিয়ে যাবে।’
ইয়েমেন কখনো সরকারিভাবে দুর্ভিক্ষের ঘোষণা দেয়নি। তবে জাতিসংঘ বলছে, বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ মানবাধিকার সংকটে আছে দেশটি। দেশটির ৮০ শতাংশ মানুষ আন্তর্জাতিক সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল।
গত পাঁচ বছর ধরে দেশটিতে সউদী সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লিপ্ত ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহী।
অধিকার ও উন্নয়ন বিষয়ক একটি গবেষণা কেন্দ্রের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত পাঁচ বছরে ইয়েমেন যুদ্ধে সরাসরি প্রায় ১৬ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। যার মধ্যে নয় হাজার ৬৮২ জন পুরুষ। দুই হাজার ৪৬২ জন নারী ও তিন হাজার ৯৩১ জন শিশু রয়েছে।
সংস্থাটি আরও বলছে, যুদ্ধের কারণে ইয়েমেনের ১৫টি বিমানবন্দর, ১৪টি সমুদ্র বন্দর, দুই হাজার ৭০০টি মহাসড়ক ও সেতু, ৪৪২টি যোগাযোগ কেন্দ্র, এক হাজার ৮৩২টি সরকারি প্রতিষ্ঠান, চার লাখ ২৮ হাজার ৮০০টি আবাসিক ভবন, ৯৫৩টি মসজিদ, ৩৪৪টি স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও হাসপাতাল, ৯১৪টি স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ১৭৮টি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্র, ৩৫৫টি কারখানা, ৭৭৪টি খাদ্য বিক্রয় কেন্দ্র এবং ৩৭০টি তেল পাম্প স্টেশন হয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খবর : আল জাজিরা

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (1)
rahmat ২৯ অক্টোবর, ২০২০, ৭:১৬ এএম says : 0
এই যুদ্ধের জন্য দায়ী ক্ষমতা লুভি আরব নেতারা
Total Reply(0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন