ঢাকা বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ০৯ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

সীমান্ত থেকে কুর্দি সশস্ত্র গ্রুপ প্রত্যাহার না হলে হামলা

পাল্টা হামলায় সিরীয় বাহিনীর ১৫ যোদ্ধা নিহত

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৩০ অক্টোবর, ২০২০, ১২:০১ এএম

রাশিয়ার বিমান হামলার জবাবে তুরস্কপন্থী সিরিয়ার বিদ্রোহীদের পাল্টা হামলায় মস্কো সমর্থিত দেশটির সরকারি বাহিনীর ১৫ যোদ্ধা নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার যুদ্ধ পর্যবেক্ষণ সংস্থা এ কথা জানায়। খবর এএফপির। সিরিয়ার সর্বশেষ প্রধান বিদ্রোহী ঘাঁটি ইদলিবে তুরস্ক সীমান্তবর্তী ফিলাক আল-শাম শাখার একটি প্রশিক্ষণ শিবিরে মস্কোর সোমবারের বিমান হামলায় ৭৮ বিদ্রোহী যোদ্ধা নিহত এবং ৯০ জনের বেশি আহত হয়। ইদলিবভিত্তিক আঙ্কারা সমর্থিত আমব্রেলা গ্রুপ ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট (এনএলএফ) পাল্টা হামলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে। এ ফ্রন্টে ফিলাক আল-শাম রয়েছে। ব্রিটেনভিত্তিক যুদ্ধ পর্যবেক্ষণ সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানায়, ইদলিবের দক্ষিণ ও পূর্বে সরকার নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন এলাকায় এনএলএফের বোমা হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় সরকারপন্থী ১৫ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এনএলএফ মুখপাত্র সাজি মোস্তফা এএফপিকে বলেন, বিশেষ করে ইদলিব প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চল এবং হামা প্রদেশের উত্তরাঞ্চলে সরকারি অবস্থান লক্ষ্য করে ‘এনএলএফ তাৎক্ষণিতভাবে হামলা চালায়। তিনি বলেন, পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং এ হামলা আরও জোরদার করা হবে। অপরদিকে, সীমান্ত থেকে যদি কুর্দি সশস্ত্র গ্রুপকে প্রত্যাহার করা না হয় তাহলে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে নতুন করে সামরিক হামলা শুরুর হুমকি দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যিপ এরদোগান। তিনি বলেছেন, সীমান্ত এলাকায় কুর্দি যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে সামরিক হস্তক্ষেপের বৈধতা আছে তার দেশের। বুধবার দেশের পার্লামেন্টে ক্ষমতাসীন দলের এমপিদের উদ্দেশে তিনি বক্তব্য রাখছিলেন। এদিন তিনি ওই অঞ্চলে টেকসই শান্তি স্থাপন চাইছে না বলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। এ সপ্তাহের শুরুর দিকে সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইদলিব প্রদেশে তুর্কি সমর্থিত সিরিয়ান বিদ্রোহীদের টার্গেট করে বিমান হামলা চালায় রাশিয়া। এ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে এরদোগান বলেন, যদি সব সন্ত্রাসীকে প্রত্যাহার করে নেয়া না হয়, তাহলে আমি প্রতিশ্রুতি দিয়ে আবারও বলছি, যেকোনো সময় সেখানে হস্তক্ষেপ করার বৈধ অধিকার আছে আমাদের এবং এমন হামলা চালানোর প্রয়োজনীয়তার বিষয় আমরা অনুধাবন করতে পারছি। কয়েকদিন আগে সীমান্তবর্তী প্রদেশ হাতাইয়ের একটি শহরে পুলিশ ধাওয়া করলে সন্দেহভাজন এক কুর্দি যোদ্ধা নিজেকে বোমায় উড়িয়ে দেন। এ সময় দ্বিতীয় একজনকে হত্যা করে পুলিশ। সরকারি ভাষ্যে বলা হয়েছে, এরা সিরিয়া থেকে তুরস্কে প্রবেশ করেছিল। এর আগে সোমবার প্রথম বিমান হামলায় হত্যা করা হয় কয়েক ডজন যোদ্ধাকে। এ বিষয়ে এরদোগান বলেন, সিরিয়ান ন্যাশনাল আর্মি ফোর্সের প্রশিক্ষণ সেন্টারকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এর মধ্য দিয়ে এমন এক ইঙ্গিত দেয়া হচ্ছে যে, এই অঞ্চলে টেকসই শান্তি ও স্বস্তি প্রয়োজন নেই। উল্লেখ্য, জাবালে দেইলা এলাকায় তুরস্কের মদতপুষ্ঠ সশস্ত্র গ্রুপের সবচেয়ে বড় ক্যাম্পে ওই হামলায় কমপক্ষে ৩৫ জন নিহত হন। ইদলিবে একেই সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্চে সেখানেই তুরস্ক-রাশিয়ার মধ্যস্থতায় একটি চুক্তি হয়েছিল। তারপর সেই এলাকায় এত বড় হামলায় ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছেন এরদোগান। সিরিয়া, ককেসাস ও লিবিয়ায় আঙ্কারার সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে রাশিয়া ও তুরস্কের মধ্যে সম্পর্কে ক্রমাগত টান ধরেছে। কারণ, ওইসব অঞ্চলে মস্কোরও স্বার্থ আছে। সিরিয়ার দিক দিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ সরকারের প্রধান সমর্থক হলো রাশিয়া। অন্যদিকে বিরোধী দলীয় কিছু অংশকে সমর্থন করে তুরস্ক। তুরস্ক সমর্থিত ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট নামের জোটে রয়েছে ১১ ফ্রি সিরিয়ান আর্মির অংশ। তাদেরকে সমর্থন দেয় আঙ্গারা। তবে তারা তাদের নেটওয়ার্কের বাইরে রাখে হায়াত তাহরির আল শাম’কে। আল কায়েদার সঙ্গে তাদের আগে সম্পর্ক ছিল। তারাই উত্তর পশ্চিমাঞ্চলীয় সিরিয়ান প্রদেশের সবচেয়ে বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এখন। ২০১৬ সাল থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিরিয়ায় বড় তিনটি অভিযান চালিয়েছে তুরস্ক। এর মধ্য দিয়ে তারা সীমান্ত এলাকা থেকে আইসিসপন্থি কুর্দি যোদ্ধাকে সরিয়ে দিয়েছে। গত বছর তারা একটি নিরাপদ জোন সৃষ্টির জন্য সিরিয়ান কুদি যোদ্ধাদের সরিয়ে দিতে সেখানে যোদ্ধা পাঠায়। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সঙ্গে তারা আলাদাভাবে এই হামলা স্থগিত রাখার চুক্তি করে। এসব চুক্তিতে কুর্দি মিলিশিয়াদের প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। অনলাইন আল-জাজিরা, আনাদোলু।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন