ঢাকা বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ০৯ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

সারা বাংলার খবর

৬০০ টাকার এলপিজি গ্যাস ৯০০ টাকা

রূপগঞ্জে ভোগান্তিতে গ্রাহক

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) উপজেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ৩০ অক্টোবর, ২০২০, ১২:০১ এএম

সম্প্রতি পেট্রোলিয়াম করপোরেশন এবং জ্বালানী মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত এলপিজি গ্যাস ১২ লিটার জারের মূল্য ৬ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও রূপগঞ্জে মানা হচ্ছে না এ নিয়ম। সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মিদশার কথা জানালেন খুচরা বিক্রেতারা। এতে যেসব এলাকায় গ্যাস লাইন পৌঁছেনি সেসব এলাকার হোটেল মালিক ও সাধারণ গ্রাহকরা অতিরিক্ত মূল্য দিয়ে গ্যাস ক্রয় করতে বাধ্য হচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিধি না মেনে মুদি দোকানসহ সাধারণ ব্যবসায়ীরা খুচরা বিক্রি করছে এলপিজি গ্যাস। এসব গ্যাসের মাঝে রয়েছে যমুনা, বসুন্ধরা, তিতাস, ওমেরাসহ বিভিন্ন কোম্পানির বোতল বা জার জাতীয় গ্যাস। আবার এসব গ্যাসের এলাকাভিত্তিক সরবরাহের জন্য রয়েছে সাব ডিলার। তারা যত্রতত্র এসব গ্যাসের মজুদ করে সিন্ডিকেটের বেঁধে দেয়া নির্ধারিত মূল্যে দোকানে সরবরাহ করছে। অভিযোগ রয়েছে, রাতের আঁধারে রাজধানীর আশপাশের সিএনজি স্টেশন বা পাম্পের জ্বালানী গ্যাস মাত্র ৩শ’ টাকায় রিফিল করে ওই ডিলারদের গোডাউনে রাখা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার ভ‚লতা এলাকার একটি স্টেশন কর্মচারী জানায়, রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার, নরসিংদীর মাধবদীসহ আশপাশের এলাকার ডিলাররা রাত হলেই নির্ধারিত সময়ে তাদের পিকআপ নিয়ে আসে গ্যাস পাম্পে। এসব পিকআপে ১২ লিটার বোতল ছাড়াও থাকে অধিক পরিমাণের বিভিন্ন জার। ১২ লিটার বোতল প্রতি নেয়া হয় ৩শ’ টাকা। তিনি বলেন, এসব গ্যাসই চলে যায় বাজারের বিভিন্ন মুদি দোকানে।
ভক্তবাড়ি বাজারের মুদি দোকানী ইউসুফ বলেন, আমরা ১২ লিটার বোতলের কোম্পানি ভেদে ৭৭০ টাকা থেকে ৮শ’ টাকায় ক্রয় করে থাকি। এতে গ্রাহকের কাছ থেকে ৮শ’ থেকে ৯শ’ টাকা বিক্রি করে থাকি। এখন শুনতাছি সরকার ৬০০টাকা খুচরা দাম নির্ধারণ করেছেন। এসব নিয়ে ডিলারদের সাথে বাকবিতন্ডা হয়। তারা নাকি কম মূল্যে ক্রয় করতে পারেন না । তাই আমাদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করে। এতে গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে ৮শ‘র উপরে মূল্য নিতে হবে।
উপজেলার পাইকারী এলপিজি গ্যাস সরবরাহকারী আক্তারুজ্জামান বলেন, ৬শ’ টাকার ১২ লিটার জারের গ্যাস বিক্রির কথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছি। বাস্তবে এমন নির্দেশনা আমরা পাইনি। হাট বাজারে সরবরাহ করতে আমাদের পরিবহন ব্যয় বেড়ে যায়।
মধূখালী এলাকার বাসিন্দা মাহিরা তাসফি প্রভা বলেন, রূপগঞ্জের পূর্বাচল কামতা এলাকায় একটি গ্যাস ফিল্ডের গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়। এটি দেশের জ্বালানী গ্যাসের চাহিদা পূরণে সহায়ক হলেও এলাকাবাসীকে এ সংযোগে অন্তর্ভুক্ত না করায় দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ছিল। এর মাঝে এ এলাকায় এলপি গ্যাসের এমন অতিরিক্ত মূল্য রাখা খুবই বেদনাদায়ক।
এসব বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ নুসরাত জাহান বলেন, অতিরিক্ত মূল্যে এলপি গ্যাস ক্রয় করতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ গ্রাহক বিষয়টি জানলাম। সিন্ডিকেট বিষয়ে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তাছাড়াও ডিলারদের সঙ্গে আলোচনা করে কিংবা অভিযোগের প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন