ঢাকা বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ০৯ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

বিভিন্ন আইনে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে : শোভাযাত্রার মির্জা ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৩০ অক্টোবর, ২০২০, ১২:০১ এএম

বিভিন্ন আইনে বাংলাদেশের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আজকে বাংলাদেশের সঙ্গে সঙ্গে সারা বিশ্বে গণমাধ্যম কর্মীদের ওপরে একটা চাপ সৃষ্টি শুরু হয়েছে এবং বাংলাদেশে সেই চাপ অনেক বেশি আমরা লক্ষ্য করছি। আমরা মনে করি, গণতন্ত্রের জন্য যে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করা, আইনগুলো তৈরি করা হয়েছে সেই আইনগুলো কখনো স্বাধীন গণমাধ্যমে কাজ করার জন্য উপযোগী নয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) রজতজয়ন্তী উৎসবের শোভাযাত্রার উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি যে, বাংলাদেশে গণমাধ্যম, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, ভিন্নমতকে সহ্য করার যে সহনশীলতা তা ধীরে ধীরে একেবারেই নিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। আমরা এখানে দেখেছি, শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে অনেক সংবাদ কর্মী তাদেরকে নিগৃত হতে হয়েছে, প্রাণ দিতে হয়েছে এবং কারাগারে যেতে হয়েছে। সংবাদ প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। র‌্যাব কর্মকর্তাদের ওপর ‘নিষেধাজ্ঞা’ চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেনেটরদের চিঠির প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকে খুব লজ্জার সঙ্গে আমরা একটা খবর লক্ষ্য করলাম, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের ১০ জন সদস্য তারা তাদের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি দিয়েছে-বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটির হাতে প্রায় ৪‘শ মানুষ বিনা বিচারে নিহত হয়েছেন এবং তা নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে একটা সেঙ্কশন দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে। আমাদের দুঃখ হয়, আজকে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষিতে এই বিষয়গুলো আজকে বিশ্বের কাছে যাচ্ছে, বিদেশের কাছে যাচ্ছে এবং বিশ্ব সভার কাছে যাচ্ছে যা আমাদের জন্য কখনোই সুখকর নয়।

তিনি বলেন, আমরা সবসময় বলে আসছি যে, বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রায় অনুপস্থিত। এখানে মানুষের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করতে হবে, সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করতে হবে। আমরা সবসময় বহুদলীয় গণতন্ত্র, সংসদীয় গণতন্ত্র, গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে এসেছি । আমরা এটা অতীতে প্রমাণও করেছি।

ডিআরইউ‘র চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রশংসা করে মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে যে বিভাজনের চিন্তাভবনার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে সর্বক্ষেত্রে , শুধু রাজনীতি অঙনে নয়, সর্বক্ষেত্রে তার একটা কুফল আমরা দেখতে পারছি। যার ফলে সমাজ বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে, মানুষ বিভক্ত হচ্ছে এবং এটা আমাদের জন্য খুব বেশি সুখকর বিষয় নয়, আমাদের ভবিষ্যতের জন্য তা খুব আনন্দময় বিষয় নয়। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি এখন পর্যন্ত তারা যেভাবে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য আশার একটা আলো দেখায়।

পরে বিএনপি মহাসচিব রিপোর্টার্স ইউনিটির শোভাযাত্রার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। বর্ণাঢ্য এই শোভাযাত্রায় পুরনোর ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়িও যুক্ত হয়। শোভাযাত্রাটি সেগুনবাগিচার কার্যালয় থেকে কাকরাইলের ডিপ্রোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট এসে শেষ হয়।

শোভাযাত্রায় রজতজয়ন্তী কমিটির চেয়ারম্যান শাহজাহান সরদার, ডিআরইউর সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ চৌধুরীসহ ডিআরইউ নেতৃবৃন্দ।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন