বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১, ১১ কার্তিক ১৪২৮, ১৯ রবিউল আউয়াল সফর ১৪৪৩ হিজরী

সারা বাংলার খবর

পাটগ্রামে মৃত নারীকে বাঁচাতে ওঝার নির্মমতা : অবশেষে দাফন

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৪ নভেম্বর, ২০২০, ১০:০৭ এএম

সাপে কাটা মানুষকে বাঁচানোর জন্য ঝাড়ফুঁক ও বিষ নামানোর নামে গ্রাম বাংলায় এখনো অনেক কুসংস্কার প্রথা চালু আছে। এমনকি মৃত ব্যক্তিকেও বাঁচানোর কথা বলে নানা কায়দায় ওঝারা তাদের কর্ম চালিয়ে যায়। যদিও এতে কোনো লাভ হয় না।

লালমনিরহাটের পাটগ্রামে সাপে কাটা নারীকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণার পরও তাকে সমাহিত (কবর) না দিয়ে ওঝা এনে ঝাড়ফুঁকের আয়োজন করা হয়। টানা ২ ঘন্টা ঝাঁড়ফুক শেষে কোনো ফলাফল ছাড়াই মঙ্গলবার দিবাগত রাতে লাশ দাফন করা হয়। সাপে কাটা মৃত তছিরন নেছা (৫০) পাটগ্রাম পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের মির্জারকোর্ট ডাহাহাটির ডাঙ্গা গ্রামের তছলিম হোসেনের স্ত্রী।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার সন্ধ্যায় তছিরন নেছা বাড়ির পাশ্ববর্তী এলাকায় তার মেয়ে কুচলিবাড়ি ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য শেফালী বেগমের বাড়ি থেকে পায়ে হেঁটে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। এ সময় পথে তার পায়ে বিষাক্ত সাপ দংশন করে।

খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। সেখান জরুরি বিভাগের চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোর রাতে তিনি মারা যান। পরিবারে লোকজন লাশ বাড়িতে নিয়ে আসে।

সন্ধ্যায় স্থানীয় এক ওঝা জানান সাপে কাটা ব্যক্তি চেতনাহীন ভাবে কয়েকদিন বেঁচে থাকে। এতে নিহতের পরিবারের লোকজনের মাঝে বিশ্বাস সৃষ্টি হয়। বাড়িতে লাশ কাপড় দিয়ে ঘিরে রাখে। পরে ওঝা মৃত ওই নারীকে পানি খাওয়ানোর চেষ্টা করেন ও দুই ঘন্টা ঝাড়ফুঁক করেন। সেই ওজা লাশের সঙ্গে নির্মম আচরণ করে। কিন্তু অবস্থার কোনো উন্নতি না হলে স্থানীয় লোকজনের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিষয়টি বুঝতে পেরে ওঝা জানান তার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। অবশেষে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ) রাত ৯ টার দিকে তছিরন নেছার দাফনকাজ সম্পন্ন হয়।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন