ঢাকা সোমবার, ২৩ নভেম্বর ২০২০, ০৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ০৭ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

সেবাবঞ্চিত মানুষ

সারা দেশে ডিসি অফিসের কর্মচারীদের কর্মবিরতি

পঞ্চায়েত হাবিব | প্রকাশের সময় : ২০ নভেম্বর, ২০২০, ১২:০২ এএম

আগামী রোববার বিভাগীয় কমিশনারদের ডেকেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়

গত ৫ ডিসেম্বর প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশের মাধ্যমে দেশের জেলা প্রশাসক (ডিসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) কার্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের পদ ও পদবি পরিবর্তনের সমাধন ২০ বছব ধরে হয়নি। ২০০১ সাল থেকে পদবি পরিবর্তন ও বেতন স্কেল সমন্বয় করার দাবি জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ কালেক্টরেট সহকারী সমিতি (বাকাসস)।

গতকাল বৃহস্পতিবার পদবি ও বেতন গ্রেড পরিবর্তনের দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মবিরতি পালন করছেন কালেক্টরেট অফিসের সহকারীরা। এদিকে কর্মবিরতি পালনের কারণে সকল ডিসি, ইউএনও এবং ভ‚মি থেকে সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এদিকে সমস্যা সমাধনের আগামী রোববার আট বিভাগীয় কমিশনরাদের নিয়ে মিটিং করবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বলে জানা গেছে।

গ্রেড বৈষম্য নিপাত যাক-কর্মচারীরা মুক্তিপাক এ সেøাগানে দেশের ৬৪টি জেলা প্রশাসন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও সহকারী কমিশনার ভ‚মি এর কার্যালয়ের কর্মচারীরা পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করে আসছে। গত ৫ ডিসেম্বর থেকে। টানা ১৪ দিনের পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালনের কারণে সাধারণ মানুষ নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দাবি বাস্তবায়নে কর্মবিরতি থেকে শুরু করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের এখনো সাড়া মেলেনি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরে ৮ বছর আগে ২০১১ সালে পদ-পদবি পরিবর্তন সংক্রান্ত সার-সংক্ষেপে প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিলেও তা আজও আলোর মুখ দেখেনি। এমন অবস্থায় দাবি আদায়ে চলতি মাসজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাকাসস। এর মধ্যে দাবি পূরণ না হলে গত ৫ ডিসেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ-সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। তা এখনো চলছে।

গতকাল রাজধানীর ধানমন্ডি ভ‚মি অফিসে নামজারি করতে আসার আবু ফাত্তা ইনকিলাবকে বলেন, আন্দোলন চলছে সে কারণে কোনো কাজ করছে না। সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) অফিসার গেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে। আর কেউ কথা শুনে না। সহযোগিতা চাইলে কর্মচারীরা বলেন, আন্দোলন চলছে পড়ে আসেন। ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এমন অবস্থা ফাইল নিয়ে যাওয়ার কর্মচারীকে পাওয়া যায় না বলে জানিয়েছেন কেরানীগঞ্জ থেকে ডিসি অফিসে আসা খাতিজা বেগম। তবে একই অবস্থা সারাদেশের ডিসি ইউএনও এবং ভ‚মি থেকে সেবাবঞ্চিত হচ্ছেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. আলী কদর বলেন, মাঠপর্যায়ের কর্মচারীদের পদ-পদবি পরিবর্তন ও বেতন-ভাতা উন্নীতকরণসহ নানা ধরনের দাবি রয়েছে। ইতোমধ্যে তাদের পদোন্নতির পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রশাসনিক কর্মকর্তার পদ বাড়ানো হয়েছে যা শিগগিরই প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটিতে উপস্থাপন করা হবে।

জানা গেছে, সারাদেশের বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় (ডিসি) অফিস, ইউএনও অফিস এবং সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) কার্যালয়ে কর্মরত ১১ থেকে ১৬ (দ্বিতীয় ও তৃতীয়) গ্রেডের কর্মচারীর পদ-পদবি সচিবালয়ের আদলে পরিবর্তনের দাবি দীর্ঘদিনের। একইসঙ্গে বেতন গ্রেড উন্নীতকরণের দাবি জানিয়ে আসছেন। বাংলাদেশ কালেক্টরেট সহকারী সমিতি (বাকাসস) ব্যানারে ২০০১ সাল থেকে আন্দোলন করে আসছেন ভুক্তভোগীরা। এ বিষয় নিয়ে একাধিক বার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির মাধ্যমে আশ্বাস দিলেও এখনও তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ আন্দোলনকারীদের। তাদের মতে, পদ-পদবি ও বেতন স্কেল সমন্বয় সংক্রান্ত প্রস্তাবের সার-সংক্ষেপে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ২০১১ সালের ১৯ জুন অনুমোদন দেন। এরপর তা বাস্তবায়নের জন্য ২০১৩ সালের ৩ জুলাই সুপারিশ করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। একই বছরের ডিসি সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডিসিদের মুক্ত আলোচনায় বিষয়টি উপস্থাপন করা হলে ২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এটি বাস্তবায়নে ২০১৪ সালের ১৭ জুন চিঠি দেয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ২০১৮ সালে ২৩ এপ্রিল প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে জন প্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। একই বছরে ডিসি সম্মেলনের মাধ্যমে মাঠ প্রশাসনে কর্মরত কর্মচারীদের বেতন গ্রেড অনুযায়ী প্রতিটি পদের নাম পরিবর্তন, অথবা মাঠ প্রশাসনে কর্মরত ৩য় শ্রেণির কর্মচারীদের সচিবালয়ের কর্মচারীদের ন্যায় পদোন্নতির বিষয়টি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কার্যবিবরণীতে স্বল্পমেয়াদি ১নং ক্রমিকে ও মধ্যমেয়াদি ১নং ক্রমিকে লিপিবদ্ধ করা হয়, যা বাস্তবায়নে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু বাস্তবে এখন পর্যন্ত এর কোনো ফল পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ কালেক্টরেট সহকারী সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. আকবর হোসেন ইনকিলাবকে বলেন, দেশের উন্নয়ন বাস্তবায়ন ও গতিশীল রাখতে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের একটি ভ‚মিকা রয়েছে। কিন্তু অন্যান্য দফতরের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের পদ-পদবি ও গ্রেড উন্নীত হলেও বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার ভ‚মি কার্যালয়ের কর্মরত তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের পদ-পদবি ও বেতন গ্রেড উন্নীত হয়নি। তাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন ছাড়া আমাদের সামনে বিকল্প আর কিছুই নেই। তিনি বলেন, আমরা জনগণের সেবা দেয়ার জন্য সব সময় কাজ করে আসছি। অথচ আমাদের সেবায় কেউ এগিয়ে আসে না। সকলেই আমাদের বঞ্চিত করে।

বাংলাদেশ কালেক্টরেট সহকারী সমিতির কেন্দ্রীয় মহাসচিব আনোয়ার হোসেন ইনকিলাবকে বলেন, সারাদেশে আমাদের আন্দোলন চলছে। এর মধ্যে সাধারন মানুষ সেবাবঞ্চিত হতে পারে। আমরা এটা ইচ্ছাকৃতভাবে করতে চাইনি। দাবি না মানা পর্যন্ত চলবে।
গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জে জেলা প্রশাসনের অধীন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীরা ২য় দিনের মতো কর্মবিরতি পালন করেছে। এ সময় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কালেক্টরেট সহকারী সমিতির সহ-সভাপতি শেখ হাফিজুর রহমান কালেক্টরেট সহকারী নুর ইসলাম খান, কামরুজ্জামান, নাহিদা বেগম, জেসমিন সুলতানা, পলাশ সরকার প্রমুখ। কুড়িগ্রাম : কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে চতুর্থ দিনের কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ কালেক্টরেট সহকারী সমিতি কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি এবিএম রিয়াজুল আলম রাফি, সাধারণ সম্পাদক ফনিন্দ্র নাথ সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হাসানসহ সংগঠনের অন্যান্যরা।

নেত্রকোনা : দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে নেত্রকোনায় কর্মবিরতি পালন করছেন বাংলাদেশ কালেক্টরেট সহকারী সমিতি (বাকাসস) নেত্রকোনা জেলা শাখার। কালেক্টরেট ভবনে কর্মরত সকল কর্মচারী সকালে ২ ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করেন।
মাদারীপুর : বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও সহকারী কমিশনারের (ভ‚মি) কার্যালয়ে কর্মরত তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের পদবি পরিবর্তন ও বেতন গ্রেড উন্নীতকরণের দাবিতে অবস্থান করে সমাবেশ করেন কর্মচারীরা।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন