ঢাকা সোমবার, ২৩ নভেম্বর ২০২০, ০৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ০৭ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ : যাবজ্জীবন কারাদন্ড সেই মজনুর

আমি ধর্ষণ করিনি, আমারে ছাইড়া দেন : মজনু

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২০ নভেম্বর, ২০২০, ১২:০১ এএম

রাজধানীর কুর্মিটোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক ছাত্রীকে ধর্ষণ মামলার একমাত্র আসামি মজনুর যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। যাবজ্জীবন কারাদন্ডের পাশাপাশি মজনুকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল বিকেল ৩টায় ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক বেগম মোসাম্মৎ কামরুন্নাহার এ রায় ঘোষণা করেন। তবে রায় ঘোষণার আগে আদালতের এলজালে দাঁড়িয়ে মজনু বলেন, আমি ধর্ষণ করিনি। মিলন, দুলাল, ইয়াছিন, আলামিন- এই চারজন ধর্ষণ করেছে। তাদের ধরেন।

এদিকে, রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি আফরোজা ফারহানা আহম্মেদ অরেঞ্জ বলেন, ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ মামলার একমাত্র আসামি মজনুর যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়ায় আমরা সন্তুষ্ট। এ রায়ে আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি। তবে সরকার থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত মজনুর আইনজীবী রবিউল ইসলাম বলেন, রায়ে আমরা ন্যায়বিচার পাইনি। রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে যাব।

আদালতে মজনুর আকুতি: গতকাল মামলার রায় ঘোষণার জন্য কঠোর পুলিশ পাহারায় তাকে আদালতে তোলা হয়। এসময় মজনু বলেন, ভাই আমাকে ছেড়ে দেন। আমি এতিম, অসহায়। আমারে মারলে আল্লাহ অনেক শাস্তি দিবে। আমাকে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। আমি নির্দোষ। আমারে ছেড়ে দেন। আমি বাড়ি যামু গা, আমি আর থাকব না। আমি রিকশা চালাই, ভ্যান চালাই। আমি দুর্বল মানুষ। আমারে বিনাদোষে ধরে এনেছে। আল্লাহ বিচার করব রে। আমার নাম মজনু। আমি পাগল মজনু। আমারে এক বছর বিনা দোষে আটকে রেখেছে।

ছেড়ে দেয়ার আকুতি জানিয়ে মজনু বলেন, আজকে ছেড়ে দেন। আমারে অনেক অত্যাচার করেছে। আমার পক্ষে কেউ নাই। আমারে ছাইড়া দেন। আমি ব্রিজ থেকে লাফ দেবো। পুলিশকে হুমকি দিয়ে মজনু বলেন, আমার চোখের পানি শুকিয়ে গেছে। আমি ধর্ষণকারী না। আমারে তাড়াতাড়ি ছাইড়া দেন। না হলে অবস্থা খারাপ হবে। হাতের হ্যান্ডকাফ একবার খুলে দে। কত পুলিশ আছে দেখে নেব।

কি ঘটেছিল সেই দিন: গত ৫ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৫টায় কুর্মিটোলায় বান্ধবীর বাসায় যেতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে ওঠেন ওই ছাত্রী। বাস থেকে কুর্মিটোলা এলাকায় নামার পর অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন তার মুখ চেপে ধরে। এতে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। এরপর তাকে উপর্যুপরি ধর্ষণ করা হয়। রাত ১০টার দিকে চেতনা ফেরার পর তিনি সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে বান্ধবীর বাসায় যান। বান্ধবীকে ঘটনা জানান। এরপর সহপাঠীরা তাকে আবাসিক হলে নিয়ে আসেন। পরে রাত ১২টার দিকে তাকে ঢামেক হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করেন সহপাঠীরা।

পরদিন সকালে অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে ওই ছাত্রীর বাবা ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি উত্তর)। এছাড়া এ ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতাদের দাবিতে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। এক পর্যায়ে ৮ জানুয়ারি মজনুকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। ৯ জানুয়ারি সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে মজনুকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পুলিশকে অনুমতি দেন আদালত। ১৬ জানুয়ারি ধর্ষণের দায় স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন অভিযুক্ত।

গত ১৬ মার্চ ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে মজনুর বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক আবু বক্কর। ২৬ আগস্ট ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক বেগম মোসাম্মৎ কামরুন্নাহার ভার্চুয়াল আদালতে মজনুর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। গত ১২ নভেম্বর ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক বেগম মোসাম্মৎ কামরুন্নাহার উভয়পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য ১৯ নভেম্বর দিন ধার্য করেন। মামলার ২৪ সাক্ষীর মধ্যে ২০ জনের সাক্ষ্য দিয়েছেন। ১৩ কার্যদিবসে মামলাটির বিচার কার্যক্রম শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (6)
আঃ আলীম ২০ নভেম্বর, ২০২০, ২:৫৮ এএম says : 0
নুসরাত হত্যার বিচার কার্যকর হয়না কেনো?
Total Reply(0)
Ovizit Halder ২০ নভেম্বর, ২০২০, ৩:০০ এএম says : 0
আমার মনে হয় লোকটা আসলে মানসিক ভারসাম্য হিন।
Total Reply(0)
Shohanur Rahman Shohan ২০ নভেম্বর, ২০২০, ৩:০০ এএম says : 0
কখনো বিশ্বাস করতে পারছি না যে এই মানুষ একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর পড়ুয়া মেয়েকে ধরষন করতে পারে জানিনা কি হচ্ছে তবে যাই হোক উপরে আল্লাহ একমাত্র সাক্ষী যিনি সঠিক বিচারক অবশ্যই যে পাপী সে আজ হোক কাল অবশ্যই তার পাপের শাস্তি পাবে তা যেই হোক
Total Reply(0)
Mohammad Ruhul Amin ২০ নভেম্বর, ২০২০, ২:৫৮ এএম says : 0
ধন্যবাদ বিচার ব্যবস্থাকে অাসামী কে তার পাপ্য শাস্তি প্রদানের জন্য, সেই সাথে একটা কথা টাকাওলা বা ক্ষমতাবান ধর্ষক গুলো অাগাম জামিন পায় কেমনে?
Total Reply(0)
Md Jahurul Islam ২০ নভেম্বর, ২০২০, ২:৫৭ এএম says : 0
মনে হচ্ছে ছেলেটা অসুস্থ
Total Reply(0)
parvez ২০ নভেম্বর, ২০২০, ৭:০৬ এএম says : 0
" মামলার ২৪ সাক্ষীর মধ্যে ২০ জনের সাক্ষ্য দিয়েছেন " অর্থাৎ তারা ধর্ষণ হতে দেখেছেন ! ২০ জনে মিলে ১ জনকে ঠেকাতে পারল না ?
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন