ঢাকা শুক্রবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২১, ০১ মাঘ ১৪২৭, ০১ জামাদিউল সানী ১৪৪২ হিজরী

খেলাধুলা

বার্সায় এটাই মেসির শেষ মৌসুম!

স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২১ নভেম্বর, ২০২০, ১২:০১ এএম

বার্সেলোনার সঙ্গে লিওনেল মেসি চুক্তি নবায়ন করবেন? বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রিভালদোর তা মনে হচ্ছে না। বেশ কিছু কারণে চলতি মৌসুম শেষেই মেসি ন্যু ক্যাম্প ছাড়বেন বলে আশঙ্কা করছেন সাবেক এই ফুটবলার। স্প্যানিশ পরাশক্তি বার্সার সঙ্গে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড মেসির মধুর সম্পর্ক আর নেই। গত মৌসুমের শেষে ক্লাব ছাড়তে চেয়েছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে রেকর্ড ছয়বারের ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকা থেকে গেলেও চুক্তি নবায়নের বিষয়ে কোনো অগ্রগতির খবর নেই। আগামী বছরের জুনে শেষ হয়ে যাচ্ছে দুপক্ষের মধ্যকার চুক্তির মেয়াদ। ফলে মেসি ইংলিশ পরাশক্তি ম্যানচেস্টার সিটি নাকি ফরাসি চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেইন্ট জার্মেইতে (পিএসজি) যোগ দেবেন? এ নিয়ে চলছে অনেক জল্পনা-কল্পনা।

তাছাড়া, করোনাভাইরাসের কারণে আর্থিকভাবে ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বার্সেলোনা। তাদের দশা কল্পনাতীত করুণ। বিশাল আর্থিক ঘাটতি পোষাতে খেলোয়াড়দের বেতন ব্যাপক আকারে কমাতে হবে তাদেরকে। নইলে আগামী জানুয়ারিতে দেউলিয়াও হয়ে যেতে পারে ক্লাবটি!
বর্তমানে ৭০ কোটি পাউন্ডেরও অধিক দেনা রয়েছে বার্সার। দলটির খরচের সিংহভাগ ফুটবলারদের বেতন-ভাতায় ব্যয় হয়। তাই পারিশ্রমিক বাবদ তারা যে ১০০ কোটি পাউন্ড খরচ করে, তাতে লাগাম টানতে চাইছে কাতালানরা। সবমিলিয়ে ১৭ কোটি পাউন্ডের কিছু বেশি পরিমাণ অর্থ বাঁচাতে হবে তাদেরকে। এই লক্ষ্য অর্জনে ক্লাবটির সব খেলোয়াড়কে বেতনের ন্যূনতম ৩০ শতাংশ কমাতে হবে।
ঋণের বোঝা বইতে থাকা বার্সেলোনার পক্ষে বাড়তি বেতন তো দূরের কথা, মেসিকে তার বর্তমান বেতনে ধরে রাখার সামর্থ্যও নেই ক্লাবটির। কিছু দিন আগে এমনটাই জানিয়েছিলেন ক্লাবটির সভাপতি হওয়ার দৌড়ে থাকা টনি ফ্রেইজা। সবকিছু মিলিয়ে রিভালদো মনে করছেন, দুপক্ষের মধ্যে নতুন চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা ক্ষীণ, ‘বার্সেলোনা ইতোমধ্যে একবার বেতন কাটার বিষয়ে খেলোয়াড়দের সঙ্গে সমঝোতা করেছে এবং ফের সকলের বেতন কাটার চেষ্টা করেছে যা স্কোয়াড বাতিল করে দিয়েছে। সুতরাং, খেলোয়াড়দের জন্য এটা নতুন কিছু নয়। কিন্তু বেতন বাড়ানোর বদলে কমিয়ে দিয়ে মেসির সঙ্গে নতুন চুক্তি নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বিষয়টি কঠিন হবে।’
বেটফেয়ার নামকে বাজিকর প্রতিষ্ঠানের ক্রীড়া বিষয়ক ওয়েবসাইটে লেখা কলামে তিনি আরও বলেছেন, ‘অবশ্যই, অন্য ক্লাব থেকে মেসির আরও ভালো প্রস্তাব থাকবে। তাছাড়া, গত মৌসুমের শেষে সে দল ছাড়ার চেষ্টাও করেছিল। আমি জানি না, আমাদের বোর্ড তাকে কীভাবে বুঝিয়ে সিদ্ধান্ত বদল করাবে।’ ৩৩ বছর বয়সী মেসির বার্সেলোনায় থাকার পথও দেখছেন রিভালদো। তবে তা সংকীর্ণ হওয়ায় আশাবাদীদের দলে থাকতে চাইছেন না তিনি, ‘আমার মতে, এই মৌসুমে কেবল চ্যাম্পিয়ন্স লিগ বা লা লিগা জিতলে অথবা কোমান দলকে সুন্দর ফুটবল খেলাচ্ছেন দেখলে হয়তো মেসি তার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে পারে। দুর্ভাগ্যবশত, আমি আশঙ্কা করছি, এটাই ক্লাবের হয়ে তার শেষ মৌসুম।’
আবার এদিকে ইউরোপের সংবাদমাধ্যমে মৃদু গুঞ্জন, আগামী জানুয়ারিতেই মেসিকে পেতে আবারও ঝাঁপিয়ে পড়বে ম্যানচেস্টার সিটি। বার্সায় মেসি যে দিনে দিনে বিরক্ত হয়ে উঠছেন, তা স্পষ্ট। বার্সাও মেসিকে যেতে দিলে আর্থিকভাবে কিছুটা স্বস্তিই পাবে। সে হিসেবে জানুয়ারিতে মেসির বার্সা ছাড়ার একটা সম্ভাবনা তো দেখা যাচ্ছে! কিন্তু সেটিও সম্ভব নয় বলেই জানিয়ে দিচ্ছে স্প্যানিশ দৈনিক মার্কা। বার্সেলোনার এই অন্তঃবর্তীকালীন বোর্ডের মেসিকে বিক্রি করার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও নেই বলে জানাচ্ছে মার্কা।
গত আগস্টেই বার্সা ছাড়তে চেয়েও চুক্তির বেড়াজালে আটকে থাকতে হয় মেসিকে। কিন্তু গতবছর চ্যাম্পিয়নস লিগে লজ্জার বিদায়ের পর বার্সার বড় শিরোপা জিততে চাওয়ার ইচ্ছা আর সেটির প্রক্রিয়ার (স্পোর্টিং প্রজেক্ট) ওপরই মেসির ভরসা ভেঙে গেছে। তার চুক্তি এই মৌসুম শেষেই শেষ। আবার মেসিকে বিক্রি করলে আর্থিকভাবে বার্সা একটু হাঁফ ছেড়ে বাঁচবে। করোনার কারণে ক্ষতি সামলাতে সব ক্লাবেই এবার বেতনের সীমা বেঁধে দিয়েছে স্প্যানিশ লিগ কর্তৃপক্ষ। মেসি চলে গেলে তার কর-পরবর্তী পাঁচ কোটি ইউরো বেতনের দায় থেকে কিছুটা বাঁচবে বার্সা, সে ক্ষেত্রে লা লিগার বেঁধে দেওয়া সীমা মানতে সুবিধা হবে। যদিও মেসি চলে গেলে বার্সার আর্থিক ক্ষতিও হবে। কদিন আগে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল, শুধু মেসির কারণেই মৌসুমে ৩০ কোটি ইউরো আয় হয় বার্সার!
কিন্তু মেসিকে বার্সা বিক্রি করতে পারবে কি? ক্লাবের গঠনতন্ত্র তো সেই অনুমতি দেয় না। অন্তর্র্বতীকালীন বোর্ডের খেলোয়াড় বিক্রি করার ক্ষমতাই নেই। ‘অন্তঃবর্তীকালীন বোর্ড আগের বোর্ডের ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে, তবে সেসব শুধু ক্লাবের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা আর ক্লাবের স্বার্থরক্ষার মধ্যে সীমিত’- এমনটাই লেখা বার্সার নীতিমালায়। অর্থাৎ প্রতিদিনের সাধারণ কার্যক্রম আর পরবর্তী সভাপতি নির্বাচন আয়োজনের মধ্যে অন্তবর্তীকালীন বোর্ডের ক্ষমতা সীমিত। কোনো চুক্তি সই করা বা খেলোয়াড় বিক্রি করার সিদ্ধান্ত তাদের আওতাধীন নয়। আগামী ২৪ জানুয়ারি বার্সেলোনার সভাপতি নির্বাচন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন