ঢাকা সোমবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২১, ০৪ মাঘ ১৪২৭, ০৪ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

দুর্নীতির ব্যাপকতায় স্বাধীনতার চেতনা বিলীন হয়ে গেছে

বিএফইউজে প্রতীকী অনশন কর্মসূচিতে গয়েশ্বর

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৪ নভেম্বর, ২০২০, ১২:০০ এএম

দেশে দুর্নীতির ব্যাপকতায় স্বাধীনতার চেতনা বিলীন হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, আজকে স্বাধীনতা গান আমরা শুনছি, প্রতিদিন মিডিয়াতে প্রচারিত হয়। একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীকে আমরা বর্বরবাহিনী বলি আমাদের মা-বোনের ইজ্জতের ওপরে হামলা করেছে বলে। আজকে যারা মা-বোনের ওপর হামলা করে, নির্যাতন করে, তাদের অপমান করে তারা পাকিস্তানি বাহিনীর সমতুল্য বা তার চেয়ে বেশি। সরকারি দলের লোকের স্বাধীনতার চেতনা আর যৌন চেতনাকে এক মাপে পরিমাপ করে। সেই কারণে যৌন চেতনায় তাদের লজ্জাবোধ হয় না। যাদের লজ্জা হয় না তাদের লজ্জা দেয়ার ভাষা থাকে না, তবে গায়ে আঘাত করলে কিন্তু ব্যাথা পায়।

গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) একাংশ আয়োজিত প্রতীকী অনশন কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন। কারাবন্দি সম্পাদক আবুল আসাদ, সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজী, ফটো সাংবাদিক শফিকুল ইসলামসহ আটক সাংবাদিকদের মুক্তি ও সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর-রুনি হত্যার বিচারের দাবিতে তিন ঘণ্টার এই প্রতীকী অনশন হয়।

গয়েশ্বর বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে গত ১২ বছরে কখন যে মনের বা চোখের বাইরে গণতন্ত্র শব্দের পরিবর্তে প্রতিস্থাপিত হয়েছে শেখ হাসিনা। অর্থাৎ গণতন্ত্র নয়, হাসিনাতন্ত্র। এই আদলেই দেশ চলছে, এই আদলেই দেশি-বিদেশীদের সাথে বন্ধুত্ব চলেছ। সেই কারণে হাসিনাতন্ত্রের মধ্যে গণতন্ত্র জান বেসুর হবে। এই হাসিনাতন্ত্র যদি প্রতিরোধ করতে না পারেন বা পতন ঘটাতে না পারেন তাহলে গণতন্ত্র পুনর্বাসিত হবে না, গণতন্ত্র সংবিধানে প্রতিস্থাপিত হবে না। সেই কারণে গণতন্ত্র যেখানে থাকে সেখানে কিন্ত সকল মানুষ বা পেশার মানুষ অধিকারহীন হয়। সে সাংবাদিক হোক আর অন্যকিছু হোক।

সাংবাদিক সমাজের বিভক্তির প্রসঙ্গ টেনে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, পেশাগত কারণে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকা দরকার। কিন্তু আমরা দেখছি রাজনৈতিক দলগুলোর চেয়ে সাংবাদিকদের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক বিরোধ বেশি। সে কারণে যখন নির্যাতন আসে সাংবাদিকরা এক সুরে এক কন্ঠে কথা বলতে পারে না। না বলার কারণে অত্যাচারের স্টিমরোলারটা সাংবাদিকদের ওপরে যত্রতত্র হচ্ছে।

তিনি বলেন, সাগর-রুনির ঘটনায় তো অনেক কিছু হওয়ার কথা। আমরা দেখলাম ওই ঘটনার ক্ষতিপুরণ বাবদ একজন নেতা পুরস্কৃত হয়েছেন। সাগর-রুনির হত্যার বিচারের বিষয়ে ৭৬ বার সময় পিছিয়েছে। আজকে একজন সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা হলে অন্যান্য সংবাদপত্রের সম্পাদকরা কি তার প্রতিবাদে রাস্তায় নামছেন? নামেন নাই। একজন সাংবাদিকের ওপরে আঘাত আসলে সকল সংবাদপত্রের সাংবাদিক যদি একসঙ্গে হয় তাহলে আঘাত করতে সরকার ভয় পায়।

তিনি বলেন, আপনারা জাতির বিবেক, আয়না বলা হয় সেখানে জাতিকে চেনা যায়। আপনারা সত্যের অনুসন্ধানী, আপনাদের কেউ কেউ যদি অপকর্মকে সমর্থন করেন, একটি গোষ্ঠির অন্যায় কাজকে সমর্থন করেন এবং টকশোতে গিয়ে তাদের (সরকার) পক্ষে নানা যুক্তিতর্ক দিয়ে তাদের কাজকে বৈধ করতে চায়। সাংবাদিক হোক, পুলিশ হোক, যেই হোক যারা শেখ হাসিনার দল করতে চান, সেই রাজনীতি করতে চান-আপনি নিজের পরিচয় বাদ দিয়ে সেই দলে যোগ দিন তখন মানুষের কোনো কথা থাকবে না।

বিএনপির এই নেতা বলেন, আপনি পুলিশে চাকরি করবেন আর কাজ করবেন আওয়ামী লীগের মতো তারপরে আপনাকে সালাম দিতে হবে কেনো? আপনি সাংবাদিক আপনাকে সালাম করি, সম্মান করি, আমরা সবসময় আপনাদের সামনে মাথা নিচু করে থাকি। কারণ আপনারা এই জাতির জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন। জনগণের পক্ষে যারা রাজনীতি করেন তাদের পক্ষে থাকবেন না, যারা জনগণের অধিকার টুটি চেপে ধরে তাদের পক্ষে থাকবেন তাহলে এই পেশাটা ছেড়ে এর চেয়ে ভালো ভালো পেশায় অনেক রোজগারের জায়গা আছে সেখানে গেলে বোধহয় সবচেয়ে ভালো।

সাংবাদিক নেতা শফিউল আলম দোলন ও আল-আমিনের পরিচালনায় প্রতীক অনশনে বক্তব্য রাখেন বিএফইউজের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, বর্তমান সভাপতি এম আবদুল্লাহ, নয়া দিগন্তের সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বিএনপির শামীমুর রহমান শামীম, বিএফইউজের মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন, সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, ডিইউজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাকের হোসাইন, জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি ইলিয়াস হোসেনসহ সাংবাদিক নেতারা।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন