ঢাকা, শনিবার, ৩০ মে ২০২০, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০৬ শাওয়াল ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

ভাষা আন্দোলন স্বাধীনতার ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছে : প্রধান বিচারপতি

প্রকাশের সময় : ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, ভাষা আন্দোলন আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছে। এ আন্দোলন এ ভূখ-ের মানুষদের পরম সম্মানিত করেছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে টিএসসি অডিটরিয়ামে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। দর্শন ও আইনের মধ্যে সুদৃঢ় সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, দর্শন ও আইন একটি আরেকটির পরিপূরক। ন্যায়বিচারের ধারণা দর্শন থেকে এসেছে। গণতন্ত্রের বিকাশে রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণে আইনের প্রয়োগের পাশাপাশি দর্শনের ভূমিকা কোনো দিক থেকেই কম নয়। রাষ্ট্রের চিন্তার এমন কোনো দিক নেই যেখানে দর্শনের প্রতিফলন ঘটেনি। প্রধান বিচারপতি বলেন, জ্ঞান-বিজ্ঞানে গৌরবের শীর্ষে পৌঁছানোর জন্য কোনো সংক্ষিপ্ত পথ নেই। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে প্রযুক্তিভিত্তিক সুযোগ-সুবিধা অত্যাধুনিক ও সময়ের সাথে সংগতিপূর্ণ হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু ইন্টারনেট সুবিধা দিলে হবে না, উচ্চগতিসম্পন্ন ই-বুক, রিসার্চ বুক, ই-জার্নাল, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রবন্ধের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। এর মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিজ্ঞানচর্চা ও গবেষণা প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের সার্বিক উন্নয়নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অনন্য অবদান রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরো বলেন, ভাষার এ মাসে ভাষা আন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারী সবার প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। এ আন্দোলন এ ভূখ-ের মানুষদের পরম সম্মানিত করেছে। একজন ভালো আইন বিশেষজ্ঞ হতে হলে তাকে অবশ্যই দর্শন বিজ্ঞানে পারদর্শী থাকতে হবে। একটি বিশ্ববিদ্যালয় দেশের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে কর্মশালা, উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার পাদপীঠ। শিক্ষাই জীবনের আলোকবর্তিতা। এর মাধ্যমে মানুষ নিজেকে চিনতে পারে। আমার বিশ্বাস, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গুণগত শিক্ষা বিস্তারের মাধ্যমে একটি সৃমদ্ধিশালী দেশ নির্মাণে নিরন্তর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। প্রধান বিচারপতি বলেন, আশা করব দ্বন্দ্ব, সংঘাত, কুসংস্কার ও সাম্প্রদায়িকতাসহ জাতির বিভিন্ন সংকট সমাধানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তথা দেশের দার্শনিক সমাজ অনেক প্রতিকূলতা ও বৈপরীত্যের মাঝেও অতীতের মতো জাতিকে পথ দেখাবে। জাতির প্রয়োজনের রক্ষাকবচে ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে। প্রফেসর ড. সহিদ আকতার হোসাইন বলেন, জীবন মানে দর্শন। জীবনে যদি দর্শন না থাকে তাহলে তা অর্থহীন। দর্শন ছাড়া কোনো শিক্ষা প্রকৃত শিক্ষা হতে পারে না। আজকে আমাদের অবক্ষয়ের কারণ হচ্ছে, আমরা দর্শন থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছি। বিভাগের চেয়ারম্যান ড. প্রদীপ রায়ের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. আখতারুজ্জামান। এছাড়া বক্তব্য রাখেন বিভাগের প্রবীণ প্রফেসর ড. আমিনুল ইসলাম ও অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা মো. লুৎফর রহমান। দিনব্যাপী এই মিলনমেলায় অংশ নিয়েছেন দর্শন বিভাগের প্রায় ১৩শ প্রাক্তন শিক্ষার্থী। ৮ম এই পুনর্মিলনীর স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে সৌহার্দ্য ও স্মৃতির বন্ধনে আবদ্ধ আমরা/ এসো মিলি প্রাণের আনন্দে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন