ঢাকা, রোববার, ৩১ মে ২০২০, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০৭ শাওয়াল ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

অবৈধ সরকারের ছাড়পত্র পেয়ে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা এখন বেপরোয়া : রিজভী

প্রকাশের সময় : ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, অবৈধ সরকারের অন্তর্লোকজুড়ে অপরাধের চেতনা। বিগত কয়েক বছর বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও গুপ্তহত্যা সংঘটিত করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে যে ছাড়পত্র দিয়েছিল সরকার, তাতে তারা ব্যাপক সাফল্য অর্জন করে এখন বিবেকহীন অবিশ্বাস্য রকম বেপরোয়া ‘আউট ল’তে পরিণত হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী আহম্মেদ এ মন্তব্য করেন।
মিরপুরে পুলিশি নির্যাতনে এক চা বিক্রেতার মর্মান্তিক মৃত্যুতে নিরাপত্তা বাহিনীর সাম্প্রতিক ভূমিকার সমালোচনা করেন তিনি।
রিজভী বলেন, মিরপুরের ১নং গগুদারাঘাট এলাকায় চা দোকানি বাবুল মাতব্বরের কাছে চাঁদার টাকা না পেয়ে তার গায়ে আগুন লাগিয়ে দগ্ধ করে পুলিশ। গুরুতর দগ্ধ বাবুল মাতব্বর গতকাল (বৃহস্পতিবার) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে মর্মান্তিকভাবে কাতরাতে কাতরাতে ইন্তেকাল করেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি পুলিশশের হাতে গরিব চা বিক্রেতা বাবুল মাতব্বরের মর্মান্তিক হত্যাকা-ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং দোষীদের গ্রেফতারসহ আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছে।
সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ভোটারবিহীন গদি আটকে রাখা শাসকগোষ্ঠী দেশকে চরম অরাজকতার লীলাভূমিতে পরিণত করেছে। সরকারের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে বিরোধী দল নির্মূল করার অভিযানে লেলিয়ে দিয়ে তাদের বুকের মাপটা বড় করে দেয়া হয়েছে।
তিনি অভিযোগ, সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নে সদাতৎপর র‌্যাব-পুলিশ কর্তৃক এখন সাধারণ মানুষকে নানাভাবে হয়রানি করা যেন গা-সওয়া করে দেয়া হয়েছে। চাঁদাবাজি, জুলুম, প্রহার, নিরীহ মানুষকে আটক করে পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে মামলা দেয়া বা ভয় দেখানো, ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়, আদায় না হলে হত্যা করা ইত্যাদি পৈশাচিক অপকর্মে লিপ্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সদস্যরা।
বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিব বলেন, এই সরকারের অন্তর্লোকজুড়ে অপরাধের চেতনা। সেখানে ন্যায়, সভ্যতা, সুবিচারবোধ বলে কিছু নেই। জবাবদিহিতাহীন সরকারের কোনো নৈতিকতাবোধ থাকে না। সরকারের প্রধানমন্ত্রী নিজেও বলেছেন এবং র‌্যাব-পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা নিজ নিজ বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, আপনাদের অস্ত্র দেয়া হয়েছে কি পকেটে রাখার জন্য, নাকি ব্যবহার করার জন্য?
সুতরাং জনগণের ঘামনিংড়ানো পয়সার সেই অস্ত্র শেখ হাসিনার র‌্যাব-পুলিশ প্রয়োগ করছে বিরোধী দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ওপর। যার কারণে মা ও স্ত্রীর কাছ থেকে ছাত্রদল নেতা জনির মতো অসংখ্য সন্তান ও স্বামীকে তারা হত্যা করেছে। ইলিয়াস আলী, সাইফুল ইসলাম হীরু, চৌধুরী আলম, হুমায়ুন কবির ও ঢাকা তেজগাঁও কলেজের ছাত্রদল নেতা জাকিরসহ বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মী ও সংসদ সদস্যকে গুম করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন রিজভী।
তিনি বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর বেআইনি ও দায়িত্বহীন আচরণের কারণে গত জানুয়ারি মাসে গড়ে প্রায় প্রতিদিন একজন করে শিশু নিহত হয়েছে। এছাড়াও রাজনৈতিক ও সামাজিক দুর্বৃত্তায়নে মানুষের গলা কাটা হচ্ছে, কুপিয়ে হত্যা করা হচ্ছে, পুড়িয়ে মারা হচ্ছে, এমনকি পেটের শিশু পর্যন্ত দুর্বৃত্তদের আক্রমণ থেকে রেহাই পাচ্ছে না। এদেশে সাধারণ মানুষের কাছে এখন আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ডিভাইসটা হয়ে পড়েছে আইনের রক্ষকরা ভক্ষকে পরিণত হওয়া।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন