ঢাকা মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২১, ০৫ মাঘ ১৪২৭, ০৫ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

এক প্রকল্প শেষ না করলে অন্য প্রকল্পে একই প্রতিষ্ঠানকে কাজ নয়

ঘাস চাষ শিখতে কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরে কাটছাঁট হচ্ছে একনেক সভায় শেখ হাসিনা

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৬ নভেম্বর, ২০২০, ১২:০২ এএম

চলমান কাজ শেষ করার পরই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরবর্তী কাজ পাবে বলে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১০ হাজার ৭০২ কোটি টাকা ব্যয়ের সাতটি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সম্মেলন কক্ষে এই বৈঠকে গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালে যুক্ত হয়ে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় শেষে পরিকল্পনা বিভাগের সিনিয়র সচিব আসাদুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। ঘাস চাষ শিখতে কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরে কাটছাঁট হচ্ছে।

পরিকল্পনা বিভাগের সিনিয়র সচিব বলেন, এক ঠিকাদারের একাধিক কাজ পাওয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তুলে ধরে সিনিয়র সচিব বলেন, আমাদের অনেক প্রকল্পে বিশেষত নির্মাণ প্রকল্পে দেরি হয়ে যায়। এই দেরির একটা কারণ হলো এক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান অনেকগুলো কাজ পেয়ে থাকে। মুষ্টিমেয় প্রতিষ্ঠান কাজ করে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কে কতগুলো কাজ পেয়েছে, কাজ সময়মতো শেষ করেছে কি না, কোন সময় শেষ করেছে এসবের একটা তালিকা সব মন্ত্রণালয় তৈরি করবে এবং তা প্রকাশ করতে হবে। চলমান কাজ শেষ করলে পরের কাজ পাবে। এর দুটি উদ্দেশ্য একটা হলো আমাদের নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে নির্মাণ কাজের জন্য, মুষ্টিমেয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমিত থাকব না। দ্বিতীয়ত সময়মতো আমাদের নির্মাণ কাজ শেষ হবে। সিনিয়র সচিব বলেন, রাস্তা বাড়ানো হচ্ছে। রাস্তাকে টেকসই এবং ভালো রাখার জন্য রাস্তার পাশে জলাধার কিংবা বৃষ্টির পানি নামার ব্যবস্থা করতে হবে। রাস্তার পাশে গাছ লাগাতে হবে। বিশেষত হাইওয়ের পাশে বিশ্রামের ব্যবস্থা করতে হবে। বিশেষত যারা লং ড্রাইভ করেন বা দীর্ঘসময় ধরে রাস্তায় থাকেন তাদের বিশ্রামের ব্যবস্থা করতে হবে।

ঘাস চাষাবাদের কৌশল শিখতে ৩২ কর্মকর্তার বিদেশ যাওয়ার প্রস্তাব নিয়ে ব্যাপক আলাপ-আলোচনার পর প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপাসন শেখ হাসিনা প্রশিক্ষণের নামে এই বিদেশ সফরে কর্মকর্তার সংখ্যা কমানো নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান সচিব। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের খুরুশকুল বিশেষ আশ্রয়ণ’ প্রকল্পেরও অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ প্রকল্প সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরে আসাদুল ইসলাম বলেন, এ প্রকল্প সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এখানে যারা জলবায়ু উদ্বাস্তু কিংবা বিমানবন্দর সম্প্রসারণ করার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের তালিকা করতে হবে। তাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। ওখানে যে আবাসন তৈরি হয়েছে, সেই আবাসনে তাদের পুনর্বাসন করতে হবে। তালিকাভুক্তদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। কারণ, এমনও হতে পারে সরকারি আবাসন তৈরি হয়েছে দেখে অন্যান্য জায়গা থেকে লোকজন এসে সেখানে আবাসনের জন্য চেষ্টা করতে পারে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং একসেস টু সার্ভিসেস (আইডিইএ) (২য় পর্যায়) প্রকল্পের বিষয়ে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরে সচিব বলেন, আমাদের জাতীয় পরিচয়পত্র, ভোটার তালিকা, অন্যান্য রেজিস্ট্রেশন বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ করছে। এটার যেন একটা সমন্বিত কাঠামো দাঁড়ায় সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। ফলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এটা নিয়ে কাজ করছে। এনআইডি রেজিস্ট্রেশন, সবার আইডেন্টিটি যেন থাকে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু ভোটার তালিকা নয়। যেখানে এ কাজটা সমন্বিত হয়, সবার জন্য সুবিধার হয় এবং কার্যকরভাবে করা যায়, সেরকম একটা প্রতিষ্ঠানে এটা ব্যবস্থাপনার জন্য তিনি দায়িত্ব দিয়েছেন।

সভায় ১০ হাজার ৭০২ কোটি টাকা ব্যয়ের সাতটি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৬ হাজার ৪৫৯ কোটি টাকা এবং ৪ হাজার ২৪২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা প্রকল্প সহায়তা থেকে যোগান দেওয়া হবে। অনুমোদন পাওয়া অন্যান্য প্রকল্পগুলো হচ্ছে, প্রাণিপুষ্টির উন্নয়নে উন্নত জাতের ঘাস চাষ সম্প্রসারণ ও লাগসই প্রযুক্তি হস্তান্তর প্রকল্প। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ১০১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। খুরুশকুল বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্প। এতে ব্যয় হবে এক হাজার ৩৩৩ কোটি ৬১ লাখ টাকা। ওয়েস্টার্ন ইকোনমিক করিডোর অ্যান্ড রিজিওনাল এনহ্যান্সমেন্ট প্রোগ্রাম ( ফেস-১),রুরাল কানেক্টিভিটি মার্কেট অ্যান্ড লজিস্টিক ইনফ্রেস্ট্রাকচার ই¤প্রুভমেন্ট প্রজেক্ট। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ১৮০ কোটি টাকা। উই কেয়ার- ফেজ-১: ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক (এন-৭) উন্নয়ন প্রকল্প এর ব্যয় ৪ হাজার ১৮৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা। পায়রা বন্দরের কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সুবিধাদির উন্নয়ন (২য় সংশোধিত) প্রকল্প। এতে ব্যয় হবে ৩ হাজার ৩৫০ কোটি ৫১ লাখ টাকা। শেখ হাসিনা তাঁতপল্লী স্থাপন প্রথম পর্যায় (১ম সংশোধিত) প্রকল্প। এই প্রকল্পটিতে ৫৪ কোটি টাকা বেড়ে মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০৭ কোটি টাকা।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (5)
Ahsan Faruk ২৫ নভেম্বর, ২০২০, ২:৩৬ এএম says : 0
কিভাবে ঘাস খেতে হয় তা শেখার জন্য উনাদেরকে বিদেশ পাঠানো হোক ।
Total Reply(0)
জসিম ২৫ নভেম্বর, ২০২০, ২:৩৬ এএম says : 0
কিছু বলার নেই।
Total Reply(0)
জসিম ২৫ নভেম্বর, ২০২০, ২:৩৭ এএম says : 0
দেশের এই করুণ অবস্থায় এমন প্রকল্প অনুমোদন কি খুব জরুরী ?
Total Reply(0)
নয়ন ২৫ নভেম্বর, ২০২০, ২:৩৮ এএম says : 0
আশা করি সবাই মানীয় প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনা মেনে চলবেন।
Total Reply(0)
পথিক ২৫ নভেম্বর, ২০২০, ২:৩৯ এএম says : 0
এভাবে দেশের টাকা অপচয়ের কোন মানে আছে কি ?
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন