ঢাকা মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২১, ০৫ মাঘ ১৪২৭, ০৫ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

দুর্নীতিমুক্ত ও সুশাসন বাংলাদেশ গড়তে টিআইবির আহবান

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৮ নভেম্বর, ২০২০, ১২:০১ এএম

করোনা সংকটকালে স্বাস্থ্য খাতে সংঘটিত অনিয়ম ও দুর্নীতি, নারী ও শিশুর প্রতি ক্রমশ সহিংসতা বৃদ্ধি এবং গণমাধ্যমের ওপর প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক চাপ বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর সদস্যদের বার্ষিক সভায় অংশগ্রহণকারী সদস্যবৃন্দ।
একইসাথে, কোভিড-১৯ এর ন্যায় বৈশ্বিক বিপর্যয় মোকাবিলা ও টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তরুণদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত; কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ প্রতিষ্ঠানের বিকাশ; ব্যাংকিং খাতের প্রতি সাধারণের আস্থা ফেরাতে সুস্থ ও নিরাপদ ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে একটি সুশাসিত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জোরালো আহŸান জানিয়েছেন ২০১৯-২০২০ বার্ষিক সভায় অংশগ্রহণকারী সদস্যগণ। গতকাল বৃহস্পতিবার এক ভার্চুয়াল সভায় টিআইবির সাথে স্বেচ্ছাসেবারভিত্তিতে দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে সম্পৃক্ত বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার ৪৪ জন সদস্য অংশগ্রহণ করে এসব কথা বলেন।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এর সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন টিআইবির সাধারণ পর্ষদে সদস্যদের নির্বাচিত প্রতিনিধি কাজী মো. মোরতুজা আলী। সভায় উপস্থাপিত ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে টিআইবি পরিচালিত গবেষণা, অধিপরামর্শমূলক ও প্রচারণাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক হিসাবের সর্বোচ্চ মানসম্পন্ন নিরীক্ষা প্রতিবেদন সম্পর্কে সদস্যগণ ইতবাচক মন্তব্যের পাশাপাশি সার্বিক কার্যক্রমের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
সভা শেষে এক ঘোষণাপত্রে উপস্থিত সদস্যবৃন্দ সারা বিশ্বের ন্যায় করোনার সময়ে বাংলাদেশেও নারীর প্রতি সহিংসতা বেড়ে যাওয়া এবং ন্যায় বিচার নিশ্চিতের অভাবে ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য অপরাধ মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ প্রেক্ষিতে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা ও ধর্ষণ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে অপরাধীর যথাযোগ্য শাস্তি নিশ্চিত করার জোরালো আহŸান জানান সদস্যবৃন্দ। একইসাথে, দুর্নীতিগ্রস্ত স্বাস্থ্য খাতের সংকট কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে আরো গভীরতর হয়েছে বলে মন্তব্য করার পাশাপাশি করোনা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে দুর্নীতির নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং তা ব্যবহার করে নিজেদের আখের গোছাতে সুযোগসন্ধানী, দুর্নীতিবাজ, দুর্নীতির সুবিধাভোগীরা পরস্পর যোগসাজশে দুর্নীতির মহোৎসবে নেমেছে।
সরকার করোনাভাইরাস মোকাবিলার বদলে এ সংক্রান্ত কার্যক্রম নিজ নিয়ন্ত্রণে রাখাটাকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছে এবং এক ধরনের সংকোচনমূলক নীতি অবলম্বন করেছে। ফলে, তথ্য নিয়ন্ত্রিত হয়েছে এবং স্বাস্থ্যখাতে জনগণের অভিগম্যতা কমে গেছে বলে মন্তব্য করেন তাঁরা। সম্মুখসারির সকল স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রাপ্য প্রণোদনা দ্রæত বিতরণের ব্যবস্থা এবং দেশজুড়ে প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সহযোগিতার জন্য সরকারি বিভিন্ন কার্যক্রমের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করারও আহŸান জানান অংশগ্রহণকারীগণ।
দেশে মৌখিকভাবে স্বাধীন সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং মুক্ত গণমাধ্যমের প্রচার থাকলেও বাস্তবে প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক উভয় পদ্ধতিতেই গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের যথেচ্ছ ব্যবহার জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ অন্যান্য বিভিন্ন আইনের চাপে গণমাধ্যম নিজেও ‘সেল্ফ সেন্সরশিপে’ গুটিয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছে, যা স্বাধীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ধারণা ও বিশেষ করে স্বাধীন বাংলাদেশের চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক। গণমাধ্যমের ওপর চাপ গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত, যা আত্মঘাতীমূলক ও বুমেরাং হতে বাধ্য। তাই অবিলম্বে মুক্ত সাংবাদিকতার পথ উন্মুক্ত করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সকল মহলের কাছে জোর আহŸান জানান সদস্যবৃন্দ।
কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে সদস্যবৃন্দ বলেন, একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থাকে বলা হয় জবাবদিহিতার প্রথম ও অপরিহার্য উপাদান। জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার অন্যতম সূচক নির্বাচন পদ্ধতি। একটি প্রশ্নবিদ্ধ জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারি দলের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন এবং নিয়মরক্ষার প্রধান বিরোধীদল হওয়ায় সরকারের জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় তাদের জোরালো ভূমিকার ঘাটতি দৃশ্যমান। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন যে একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সেই সত্যটাও কমিশন সংশ্লিষ্টরা সম্ভবত ভুলে গেছেন। বাংলাদেশে একসময় নির্বাচন যে একটি উৎসব হিসেবে বিবেচিত হতো, তা বর্তমান কমিশন যাদুঘরে পাঠাবার বন্দোবস্ত পাকাপোক্ত করেছেন বলে প্রতীয়মান হয়েছে। এমন বাস্তবতায় প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, দুর্নীতি দমন কমিশন, বিচার ব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশন ও মানবাধিকার কমিশনের নিরপেক্ষতা, বস্তুনিষ্ঠতা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করার দাবি জানান সদস্যরা।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (1)
Jack Ali ২৭ নভেম্বর, ২০২০, ৫:০৫ পিএম says : 0
In order to root out crime from every sector in our society then there is only one solution that we must rule our Beloved Country By the Law of our Creator Who Created us from a drop of despise water.
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন