ঢাকা রোববার, ২৪ জানুয়ারি ২০২১, ১০ মাঘ ১৪২৭, ১০ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

মানবপাচারে জড়িত দুই এয়ারলাইন্স

সংবাদ সম্মেলনে সিআইডি

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২ ডিসেম্বর, ২০২০, ১২:০০ এএম

বাংলাদেশ থেকে মানবপাচারের সঙ্গে বিদেশি দুটি এয়ারলাইন্সের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে সিআইডি। এয়ারলাইন্স দুটির পাঁচ/সাত জন কর্মকর্তাকে সিআইডি সদর দফতরে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সিআইডি’র প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে মানবপাচারের সঙ্গে বিদেশি দুটি এয়ারলাইন্স জড়িত। যাদের দেশ থেকে পাচার করা হয়েছে, তাদের সবাইকেই ভিজিট ভিসা বা কনফারেন্স ভিসায় নেয়া হয়েছে। কিন্তু এসব ভিসায় কেউ কোনও দেশে গেলে তাদের রিটার্ন টিকিট থাকার কথা। কিন্তু কোনও ব্যক্তি রিটার্ন টিকিট নেননি। এটা এয়ারলাইন্সের ত্রæটি। তাদের কর্মকর্তারা জড়িত। পাচার হওয়া অধিকাংশ ব্যক্তি এই দুটি এয়ারলাইন্সে গেছেন। আমরা এয়ারলাইন্স দুটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কথা বলেছি। তারাও স্বীকার করেছেন, এমন হওয়ার কথা না। তবে এয়ারলাইন্স দুটির নাম বলেননি সিআইডি প্রধান।

তিনি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মানবপাচারের জড়িত পলাতক ছয় বাংলাদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করেছে ইন্টারপোল। গত ১৮ অক্টোবর বাংলাদেশ পুলিশ ইন্টারপোলের কাছে ছয় মানবপাচারকারীকে গ্রেফতারে সহায়তা চায়। গত ২৭ নভেম্বর ইন্টারপোল রেড নোটিশ জারি করে। এখন পর্যন্ত ছয় জনকেই পাওয়া গেছে যাদের সংশ্লিষ্টতা আছে। আরও কেউ বিদেশে তাদের মতো আছে কিনা তাও আমরা খতিয়ে দেখছি। ইন্টারপোল যাদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করেছে তারা হলেন-মিন্টু মিয়া, তানজিমুল ওরফে তানজিদ, জাফর ইকবাল, নজরুল ইসলাম মোল্লা, শাহাদাত হোসেন ও স্বপন। এদের মধ্যে নজরুলের বাড়ি মাদারীপুরে, শাহাদাতের বাড়ি ঢাকায়, বাকি চার জনের কিশোরগঞ্জে। তানজিমুল বর্তমানে ইতালিতে রয়েছে।

সিআইডি প্রধান বলেন, গত ২৬ মে লিবিয়ায় ২৬ জন বাংলাদেশিকে হত্যার ঘটনার পর মানবপাচারের ২৬ মামলার মধ্যে ২৫টি মামলা তদন্ত করছে সিআইডি। এখন পর্যন্ত ১৭১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হবিগঞ্জে দায়ের করা একটি মামলার অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে। গ্রেফতার আসামিদের মধ্যে ৪২ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ২০১৯ সালের মে মাস থেকে বিভিন্ন সময় ৩৮ জন বাংলাদেশি নাগরিককে লিবিয়ায় পাচার করা হয়। তাদের ইতালি ও স্পেনে পাঠানোর কথা বলে লিবিয়ার বেনগাজীতে নিয়ে যাওয়া হয়। মুক্তিপণের জন্য গত ২৬ মে নির্বিচারে গুলি করে ২৬ জনকে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় মানবপাচারের অভিযোগে সারাদেশে ২৬টি মামলা হয়। এর মধ্যে সিআইডি বাদী হয়ে তিনটি মামলা করে। বাকিগুলো ভুক্তোভোগীদের পরিবার করে। এয়ারলাইন্স দুটির নাম প্রকাশ না করলেও সিআইডি প্রধান বলেছেন, সেগুলো বাংলাদেশের কোনো কোম্পানি নয়। ‘ওয়ানওয়ে’ টিকিটে দেশ ছাড়ার বিষয়টি বিমানবন্দরে কর্মরত পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) কর্মকর্তাদের চোখ এড়াল কী করে? জানতে চাইলে সিআইডির প্রধান বলেন, অভিবাসন পুলিশকে তারা ভুয়া ফিরতি টিকিট দেখিয়েছিলেন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন