ঢাকা শুক্রবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২১, ০১ মাঘ ১৪২৭, ০১ জামাদিউল সানী ১৪৪২ হিজরী

সম্পাদকীয়

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ রুখতে চীনের কৌশল

অজয় কান্তি মন্ডল | প্রকাশের সময় : ৪ ডিসেম্বর, ২০২০, ১২:০৮ এএম

সবুজ অরণ্য, আকাশচুম্বী সুউচ্চ পর্বতমালা, এঁকেবেঁকে চলা নদী আর সমুদ্র পরিবেষ্টিত চীনের ফুজিয়ান প্রদেশ। ১,২৩,১০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকার প্রদেশটির উত্তরে চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশ, পশ্চিমে জিয়াংশি এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে গুয়াংডং প্রদেশ উত্তর-পূর্ব দিকে পূর্ব চীন সাগর, পূর্বে তাইওয়ান স্ট্রেইট এবং দক্ষিণ-পূর্ব দিকে দক্ষিণ চীন সাগর।

ফুজিয়ানের জনসংখ্যা প্রায় চার কোটি। যেটা অনেকের কাছে বেশ নগন্য মনে হতে পারে। প্রদেশটির সমতল ভূমির অভাব হওয়ায় সমগ্র আয়তনের তুলনায় জনসংখ্যার বসতি একটু কম। ফুজো ফুজিয়ান প্রদেশের সর্ববৃহৎ শহর এবং সকল প্রশাসনিক কাজের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ায় ফুজিয়ানের রাজধানী হিসেবে পরিচিত। পাহাড়ের মধ্যমনি ফুজো শহর, পাহাড়ি জনপদ এবং নদনদীতে পরিপূর্ণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বিচিত্র এক মিলনকেন্দ্র এই শহর। তাই তো পাহাড়ি সৌন্দর্যসহ প্রাকৃতিক উদারতা উপভোগের জন্য ভ্রমণ পিয়াসুদের সহজেই নজর কাড়ে ফুজো শহর।
আবহাওয়া এবং জলবায়ুগত দিক দিয়ে বাংলাদেশের সাথে ফুজিয়ানের বেশ মিল আছে। ফুজিয়ানে শীতের ব্যাপ্তিকাল একটু বেশি ছাড়া বাকি সময়টাতে বাংলাদেশের সাথে খুব বেশি পার্থক্য খুঁজে পাওয়া যায় না। ভরা শীতের শেষ রাতে মাঝমধ্যে তাপমাত্রা ৪-৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে গেলেও বাকি সময় ১০-১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ভিতর সীমাবদ্ধ থাকে। গরমের সময় তাপমাত্রা ২৫ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ভিতর ওঠানামা করে। বাদবাকি সময়ে তাপমাত্রা দেশের শরৎ বা হেমন্তকালের মতো মনে হবে। বর্ষাকাল এবং হেমন্তকাল নামে এদের এখানে আলাদা কোনো ঋতু না থাকলেও শরতের সময়ে প্রকৃতির ভিতর হেমন্তের কিছু সুস্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায়। আর শীতের বেশিরভাগ সময় গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি ঋতুচক্রে বর্ষাকালের অনুপস্থিতি কাউকে বুঝতে দেয় না।

ফুজিয়ান প্রদেশ সম্পর্কে উপরের প্রাকৃতিক এবং ভৌগোলিক বর্ণনা দেওয়ার একটাই কারণ, সেটা বাংলাদেশের করোনা ভাইরাসের সার্বিক পরিস্থিতি এবং এখানকার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোকপাত করা। সবারই জানা, করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি স্থল চীন হলেও এখন কিন্তু এটি আর চীনের বিষয় নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া অত্যাধিক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বিশ্বের নামকরা রোগতত্ত¡ গবেষণা কেন্দ্রগুলো হিমশিম খেয়ে যাচ্ছে এই ভাইরাসের প্রতিরোধক এবং প্রতিষেধক আবিষ্কার নিয়ে। প্রতিষেধক আবিষ্কারের ব্যাপারে অনেকেই আশার বাণী শোনালেও কবে নাগাদ এটি সাধারণ জনগণ হাতে পাবে তার সঠিক তথ্য এবং পরিসংখ্যান এখনও অজানা। উপরন্তু সেই প্রতিরোধক প্রয়োগের পরে কত দিন নাগাদ মানুষের শরীরে এর কার্যকারিতা বলবৎ থাকবে সেটাও ভাববার বিষয়। কেননা গবেষকরা ইতোমধ্যে এই ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্স আবিষ্কার করে ভালভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, ভাইরাসটি বারবার তার জিনগত বৈশিষ্ট্য নিজ থেকেই পরিবর্তন করতে সক্ষম। এজন্য এটি সহজেই অনুমেয় যে, এই ভাইরাসের প্রতিরোধক আসলেও ভাইরাসের জিনোম সিকুয়েন্স পরিবর্তনের সাথে সাথে প্রতিরোধকেরও আপডেট দরকার হবে। আমার ছোট্ট জ্ঞানে যতটুকু বুঝি, ভ্যাকসিন আসা মানেই এই ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে পরিত্রাণ পাব, এমন ভাবাটা আমাদের বোকামি ছাড়া আর কিছুই হবে না। তাই এমনটা ভেবে আনন্দে আত্মহারা হয়ে যাওয়ার মতো কোনো বিশেষ পরিস্থিতি এখনো তৈরি হইনি।

একটি জিনিস আরও পরিষ্কার করে বললে এমন দাঁড়ায়, বিশ্বে প্রায় ৭৭৫ কোটি মানুষ আছে। ভ্যাকসিন যদি পুরোপুরিভাবে এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে সক্রিয় হয় তাহলে উৎপাদন কোম্পানিগুলো এই ৭৭৫ কোটি ভ্যাকসিন উৎপাদনের পরেই বিশ্বের সবাই হাতে পাবে এবং এই ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে আসবে। সেটাও কিন্তু অনেক সময়ের ব্যাপার। ভালোভাবেই আঁচ করা যায় অন্তত পক্ষে আমাদের দেশের দ্বারপ্রান্তে উঁকি দেওয়া শীত মৌসুম শেষ হওয়ার আগে নয়। এটাও গবেষণায় প্রমাণিত, নিম্ন তাপমাত্রা করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের জন্য সবচেয়ে ভালো পরিবেশ। এর ফলও ইতোমধ্যে আমাদের দেশসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটা দেশে দেখা যাচ্ছে। সেজন্য অনেক দেশ ইতোমধ্যে লক ডাউনের মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চীনে করোনার উৎপত্তিস্থল হলেও বিশ্বের ভিতর কিন্তু চীনই এর বিস্তার প্রতিরোধে সবচেয়ে বেশি সফল। সবার মনে প্রশ্ন জাগাটাই স্বাভাবিক, কীভাবে চীন এই দুঃসাধ্য সাধন করছে? এককথায় বলতে গেলে বলতে হবে, জনগণের শৃঙ্খলতায়। সরকারের আইনের প্রতি জনগণের শ্রদ্ধা এবং নিজেদের স্ব স্ব অবস্থান হতে সচেতনতাই সম্ভব করেছে চীনকে করোনার থাবা থেকে মুক্ত রাখতে। এখন একটু ব্যাখ্যা করেই বলি।

আমাদের বসবাসের প্রদেশ আবহাওয়া এবং জলবায়ুগত দিক থেকে বাংলাদেশের অনুরূপ হলেও এখানে ভাইরাসের প্রতিদিনকার আক্রান্তের সংখ্যা বিগত ৬ মাস ধরে শূন্যের কোঠায়। সবার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটাই এখানকার বাস্তবতা। এখানকার অফিস আদালত, শিক্ষা কার্যক্রম সবকিছুই চলছে তার স্বাভাবিক নিয়মে। সবদিক থেকে চিন্তা করলে বলা যায়, এখানে অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাকা ভালভাবেই সচল রয়েছে। এছাড়া মানুষের দৈনন্দিন চলাফেরায়ও এই করোনা ভাইরাসের কোনরকম প্রভাব এখন লক্ষ করা যায় না।

সবকিছু স্বাভাবিক নিয়মে চললেও ফুজিয়ান প্রদেশসহ গোটা চীন কীভাবে ভাইরাসের সংক্রমণের প্রভাব থেকে মুক্ত? আমাদের সাথে এদের পার্থক্যটা তাহলে কোথায়? হ্যাঁ, পার্থক্য আছে এক জায়গাতে, সেটা হলো, আমজনতার ভিতরে। এরা চাইনিজ আর আমরা বাঙালি। এরা নিয়ম শৃঙ্খলা না ভেঙে সুচারুভাবে নিয়ম মেনে চলতে জানে আর বাঙালি এদের উল্টো। আমাদের দেশে র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি, আনসার বাহিনী নামিয়ে জনগণের মাস্ক পরাতে, স্বাস্থ্যবিধি মানতে বাধ্য করা লাগে। আর এখানে জনগণ নিজ থেকেই সেগুলো করে। আমাদের দেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জেল জরিমানা করা লাগে কিন্তু এদের কাছে মোবাইলের একটা সচেতনাতামূলক খুদে বার্তাই যথেষ্ট। তাহলে এককথায় বলতে পারি, সরকারের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে সরকারের বেঁধে দেওয়া কিছু রুটিন মাফিক নিয়ম-নীতি মেনে চললেই চীনাদের মতো সুফল শুধুমাত্র আমরা না, বিশ্বের যেকোন দেশ পেতে পারে। আসুন, এখন এদের নিয়ম-নীতি নিয়ে একটু আলোকপাত করি।

আমার পরিচিত একজনের স¤প্রতি শাংহাই (চীনের আধুনিক বাণিজ্যিক প্রদেশ) যাওয়ার কথা ছিল। বিমানের টিকিট করা। হঠাৎ জানা গেল, শাংহাইয়ে একজনের ভাইরাসের সংক্রমণের খবরে প্রদেশটির সাথে অন্যান্য প্রদেশের তাৎক্ষণিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে তার শাংহাই যাওয়ার শিডিউলেও কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। এখন প্রশ্ন হতে পারে কোথা থেকে, কে, কীভাবে নিয়ে এলো ভাইরাসের এই সংক্রমণ? জানা গেল, সংক্রমিত ব্যক্তি বাইরে থেকে স¤প্রতি শাংহাই এসেছে। কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে তাকে সনাক্ত করে আইসোলেশানের ব্যবস্থাসহ যাবতীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। জরুরি ভিত্তিতে শাংহাইয়ের সাথে অন্যান্য প্রদেশের যোগাযোগ সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। কিন্তু সেটা খুবই অল্প দিন। কর্তৃপক্ষ সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করার পরে দুইদিনের মধ্যে আবার শাংহাইয়ের সাথে অন্যান্য প্রদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা সচলসহ সবকিছু স্বাভাবিক হয়েছে।

চীনের এক প্রদেশ থেকে অন্য প্রদেশে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সেই পূর্বের নিয়ম বহাল আছে। চীনে কিছু কিছু প্রদেশে মাঝেমধ্যে ২/১ জনের নতুন করে সংক্রমণ হওয়ার খবর পাওয়া যায়। যে সব প্রদেশে এই সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়, সেসব প্রদেশ থেকে অন্যান্য প্রদেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে অনেক বেশি কড়াকড়ি থাকে। কেউ সেসব প্রদেশ থেকে অন্য প্রদেশে যাতায়াত করলে তাকে বাধ্যতামূলক নিজের করোনা টেস্ট করাতে হবে। এজন্য ওই প্রদেশ থেকে ফেরা সবাইকে বিমানবন্দর বা ট্রেন স্টেশন থেকে সরাসরি পাঠিয়ে দেওয়া হয় হাসপাতালে। সেখানে নমুনা দিয়ে আসার পরে পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার আগ পর্যন্ত তাকে থাকতে হবে আইসোলেশানে। একদিন পরে পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ পাওয়ার সাথে সাথে এই আইসোলেশানের মেয়াদ শেষ হবে অর্থাৎ তাকে তার নিজ ঠিকানায় যেতে দেওয়া হবে। আর যদি দুর্ভাগ্যক্রমে ফলাফল পজেটিভ হয় তাহলে কর্তৃপক্ষ তখন খুবই সজাগ হয়ে যায়। ওই ব্যক্তির কাছ থেকে তথ্য নেওয়ার পাশাপাশি তার মোবাইল ট্র্যাকিং করার মাধ্যমে বিচরণের সর্বত্র চিরুনি তল্লাশি করা হয়। অর্থাৎ সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা সমস্ত ব্যক্তিদের খুঁজে করোনা পরীক্ষা করানো হয়। সেক্ষেত্রে এমনটি হতে পারে যে, তাকে বহনকৃত বিমান, ট্রেনের নির্দিষ্ট বগি বা যেকোন পাবলিক পরিবহনের সমগ্র যাত্রী খুঁজে বের করে তাদের করোনা পরীক্ষা করানো। চীনাদের কাছে কতবেশি জনের পরীক্ষা করা হলো সেটা কোনো বিষয় না। এদের রেকর্ড আছে, দশ দিনে উহান শহরে সকল জনগণের (এক কোটি বিশ লাখ) করোনা পরীক্ষা করানোর। মূল বিষয় হলো ভাইরাসের সংক্রমণের উৎপত্তিস্থল উদঘাটন করা এবং বিস্তার রোধে যাবতীয় পদক্ষেপ নেওয়া।

বিশাল জনগোষ্ঠীর এই দেশে কীভাবে প্রতিটা মানুষের চলাচলকে কর্তৃপক্ষ তদারকি করে সেই প্রশ্নটা সবার মনে জাগাটাই স্বাভাবিক। এখন আসি সেই সম্পর্কে। এখানে প্রতিটা মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার জন্য মোবাইল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা আছে। প্রত্যেকের মোবাইল নাম্বারের বিপরীতে নির্দিষ্ট এই মোবাইল অ্যাপে সবাই তাদের প্রতিদিনকার চলাফেরা আপডেট দেওয়া বাধ্যতামূলক। অ্যাপটিতে নিজেদের স্ব স্ব স্বাস্থ্য কোড পরীক্ষার জন্য একটি কিউ আর কোডের ব্যবস্থা আছে। কিউ আর কোডটি যখন তখন যে কেউ অ্যাপে প্রবেশ করে পরীক্ষা করতে পারে।

কিউ আর কোডটিতে প্রবেশ করলে যথাক্রমে সবুজ, হলুদ এবং লাল এই তিন রঙ বিশিষ্ট কোড দেখায়। সবুজ কোড দেখানোর অর্থ বিপদ মুক্ত অর্থাৎ তার স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কোনো সমস্যা না থাকায় তার কোথাও ভ্রমণে বাঁধা নেই। এরপর আছে হলুদ কোড। কেউ কোনো সংক্রমিত এলাকা থেকে এলে তার কোডটি হলুদ দেখায়। সেক্ষেত্রে তাকে করোনা পরীক্ষা করানোর পরে ফলাফল পাওয়ার আগ পর্যন্ত এই কোডটি হলুদ থাকে। টেস্টের ফলাফল নেগেটিভ এলে সবুজ এবং পজেটিভ এলে লাল হবে। লাল হওয়ার অর্থ তাকে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে যতদিন পর্যন্ত না করোনা থেকে তিনি মুক্ত হন। সারাদিনে জনগণ তাদের বসবাসকৃত শহরের ভিতরে থাকলে অর্থাৎ তাদের বসবাসের এলাকা থেকে দূরে কোথাও ভ্রমণ না করলে কিউ আর কোডটি সবুজ রঙ দেখায়। কোডগুলোর রং কী ধরনের হবে সেটা সংক্রমিত এলাকা চিহ্নিত করে তবেই কর্তৃপক্ষ মোবাইল নেটওয়ার্কে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত করে।

এখন আশা করি সবার কাছে পরিষ্কার কীভাবে চীনা প্রশাসন খুব সহজেই সবার চলাফেরাকে মনিটরিং করে। কেউ কোথাও ভ্রমণ না করলেও উক্ত অ্যাপটি মোবাইলে ব্যবহার করে সবাইকে প্রতিদিনকার নিজেদের স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য যেমন আজ আদৌ বাইরে গিয়েছিল কিনা, গেলে কোথায়, আজ নিজের শরীরের তাপমাত্রা কত, সাধারণ কোনো কফ বা সর্দি আছে কিনা, বিগত ১৪ দিনে আইসোলেশানে ছিল কিনা, বিগত ১৪ দিন করোনা পজেটিভ কোনো ব্যক্তির সাথে মেলামেশা বা সাক্ষাৎ করেছে কিনা ইত্যাদি তথ্য প্রতিদিন রাত ১২টার আগে পূরণ করে সাবমিট করা লাগে। অনেকের কাছে এসব শুনে বেশ ঝামেলাপূর্ণ মনে হতে পারে। কিন্তু না এগুলো একেবারেই সহজ। ১১ থেকে ১২টা প্রশ্ন আছে অ্যাপটিতে। সেই প্রশ্নগুলোর উত্তরের অপশনে হ্যাঁ অথবা না অপশন আছে। হ্যাঁ সিলেক্ট করলে দুই এক কথা লেখা লাগে আর না সিলেক্ট করলে কিছুই লেখা লাগে না। সেজন্য খুবই দ্রুত এটা হয়ে যায়। আর এটা সাবমিট করতে সর্বোচ্চ চল্লিশ সেকেন্ড থেকে এক মিনিট সময় লাগে।

যদিও বাইরে থেকে বহন করে নিয়ে আসা ব্যতীত প্রদেশের ভিতর বা শহরের ভিতর নিজ থেকেই এই ভাইরাসের সংক্রমণ সম্ভব না, তারপরেও কর্তৃপক্ষকে প্রতিনিয়ত রুটিন করে প্রতিরোধমূলক বেশ কিছু কর্মকান্ড করতে দেখা যায়। যেমন, মাস্ক পরা ব্যতীত যেকোন গণ পরিবহনে চলাচল এবং জনাকীর্ণ এলাকায় ঘোরাফেরা নিষিদ্ধ। সুপার মল, ব্যাংক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশদ্বারগুলোতে সবার তাপমাত্রা মেপে এবং মাস্ক পরিধানপূর্বক তবেই প্রবেশের অনুমতি দেয়। জনগণ ও খুবই নম্রতার সাথে প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া নিয়ম-নীতিকে মান্য করে চলতে দেখা যায়। না চলে উপায়ও নাই। কেননা চীনে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের পিক টাইমে সবাই প্রায় চার মাসের মতো বাসায় বন্দি ছিল। তাই চীনা জনগণ মনে করে, হাত পা গুঁটিয়ে বাসায় বন্দি থাকার চেয়ে এই সামান্য নিয়ম-নীতি মেনে চলা তাদের কাছে অনেক দায়িত্ববোধের ব্যাপার।

প্রতিটা মৃত্যু নিঃসন্দেহে এক একটি পরিবারের জন্য বেদনাদায়ক। প্রতিদিন আতঙ্কে দিনাতিপাত করার চেয়ে মুক্ত এবং স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার স্বাধীনতা সবারই প্রাপ্য। বাংলাদেশে শীত আসন্ন। সেই সাথে প্রতিদিন আবার লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনারা নতুন সংক্রমণ এবং মৃত্যু দুটোই। মানুষের কাছে তার নিজের জীবনের মূল্য সব থেকে বেশি। সেই বাস্তবতাটুকু মেনে নিয়ে সরকারের কঠোর হওয়ার চেয়ে আসুন আমরা নিজেদের অবস্থান হতে সচেতন হই। ভালো-মন্দ সমালোচনা বাদ দিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে শিখি। আপনার সচেতনতা দেখে আপানার পাশের জনও সচেতন হবে সেটা নিশ্চয়ই ভাবা যায়। আপনি সংক্রমিত হলে আপনার পুরো পরিবার সংক্রমিত হবে। তাই সবাই নিজেদের অবস্থান হতে সচেতন হলে করোনাকে জয় করা অনেক সহজ হবে।
লেখক: গবেষক, ফুজিয়ান এগ্রিকালচার এন্ড ফরেস্ট্রি ইউনিভার্সিটি, ফুজিয়ান, চীন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন