সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ০২ কার্তিক ১৪২৮, ১০ রবিউল আউয়াল সফর ১৪৪৩ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

ভারত-চীন দ্বন্ধের নতুন ক্ষেত্র নেপাল

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৯ ডিসেম্বর, ২০২০, ৪:২২ পিএম

ক্যাপশন: নেপালের পার্লামেন্ট ভেঙে দেয়ার প্রতিবাদে সোমবার কাঠমুন্ডুর রাস্তায় বিক্ষোভ


 

পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে আগাম নির্বাচনের ঘোষণার মাধ্যমে নেপালে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। সেখানকার এই পরিস্থিতি ক্রমশ ভারত-চীন দ্বন্ধের নতুন রঙ্গমঞ্চ হয়ে উঠতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। সংসদ ভেঙে দিয়ে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি অন্তবর্তী নির্বাচন ঘোষণা করায় সেখানে রাজনৈতিক অচলাবস্থা পাশাপাশি শাসক কমিউনিস্ট দলেও চিড় ধরেছে।

নেপালকে কাজে লাগিয়ে ভারতের উপরে চাপ তৈরির কাজটি দীর্ঘদিন ধরেই করে এসেছে বেইজিং। একই ভাবে ভারতও প্রতিবেশী কূটনীতিতে অগ্রাধিকার দিয়ে কাঠমুন্ডুর সঙ্গে বাণিজ্যিক এবং সাংস্কৃতিক ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর চেষ্টা করেছে। তবে ওলি সরকার ভারতের দখলে থাকা নেপালের জায়গা নিজেদের মানচিত্রে প্রকাশ করায় দিল্লির সাথে তাদের সম্পর্ক খারাপ হয়ে যায়। বর্তমানে সে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে চীনের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল কাঠমান্ডু পৌঁছে দেখা করেছে নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির নেতা পুষ্পকুমার দহল ওরফে প্রচণ্ডের সঙ্গে। বিক্ষুব্ধ অংশগুলোকে জোড়া লাগিয়ে নেপালের কমিউনিস্ট পার্টিকে জোড়া লাগানোর চেষ্টা হিসেবেই একে দেখছে কূটনৈতিক শিবির।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের সামগ্রিক কৌশলের একটি অংশ নেপালে কৌশলগত এবং বাণিজ্যিক আধিপত্য বিস্তার। এর আগে ভারতের সেনাপ্রধান, র’ প্রধান, এবং পররাষ্ট্রসচিবের পরপর কাঠমান্ডু সফর মাথাব্যথার কারণ হয়েছে বেইজিংয়ের। নেপালে তাদের প্রভাব কমে যাওয়ার আশঙ্কায় চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ভাইস মিনিস্টার নিজে পৌঁছেছেন সেখানে। নয়াদিল্লির মতে, নেপাল বেশ কয়েক মাস ধরেই বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত হচ্ছিল। কোভিড মোকাবিলার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ভূমিকা নিতে না-পারা, অর্থনীতির টালমাটাল পরিস্থিতি, শাসক দলের মধ্যে বিরুদ্ধ স্বর— সব মিলিয়ে অস্থির করে রেখেছিল ওলি সরকারকে। ওলির সঙ্গে চীনের সম্পর্কের সুতোও কেটে গিয়েছিল বলেই মনে করছে কূটনৈতিক শিবির। নেপালের কমিউনিস্ট পার্টিকে একজোট রেখে নিজেদের বাণিজ্যিক এবং কৌশলগত লক্ষ্য পূরণেই চীন বেশি ব্যস্ত ছিল। এমতাবস্থায় বেইজিংয়ের দায়িত্ব থেকে যায় এই ডামাডালে ভারত-বিরোধী রাজনীতি থেকে সরে গিয়ে নেপালে যেন চীন-বিরোধিতার স্বর না-তৈরি হয়। অদূর ভবিষ্যতে ভারত এবং চীন, নেপালে উভয় পক্ষেরই কূটনৈতিক সক্রিয়তা বাড়তে দেখা যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা। সূত্র: এবিপি।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন