ঢাকা রোববার, ২৪ জানুয়ারি ২০২১, ১০ মাঘ ১৪২৭, ১০ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

উম-উষ্ণ পৌষ ঘামানো অবস্থা

কাল থেকে ক্রমে তাপমাত্রা হ্রাসের আভাস

চট্টগ্রাম ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ১২ জানুয়ারি, ২০২১, ১২:০০ এএম

বাংলাদেশে বছরের শীতলতম মাস জানুয়ারি (পৌষ-মাঘ) দ্বিতীয় সপ্তাহে পড়েছে। অথচ দিনভর উজ্জ্বল সূর্য কিরণে রোদের তেজে উষ্ণ-তপ্ত আবহাওয়া বিরাজ করছে দুই সপ্তাহেরও বেশি যাবৎ। আর গতকাল ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের অনেক এলাকায় উম-উষ্ণতার সঙ্গে আকাশে হালকা মেঘের ভেলায় গুমোট অবস্থা তৈরি হয়। পৌষ মাস বিদায়ের পথে। কিন্তু কোথায় শীত-কুয়াশা, হিমেল হাওয়ার কাঁপন? শীতের গরম মোটা কাপড় সোয়েটার-মাফলার গায়ে না জড়ালেও চলছে। বরং দিনের বেলায় রাস্তাঘাটে, হাটে-মাঠে চলাফেরার সময় ঘামিয়ে ওঠার অবস্থা। তবে আসছে ‘মাঘে বাঘ পালানো’র মতো মাঝারি থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস রয়েছে। 

একাধিক আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ সূত্র জানায়, বিদায়ী ২০২০ সালের বেশিরভাগ সময়জুড়ে বঙ্গোপসাগরের তাপমাত্রা ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে ঊর্ধ্বে। এখনও বঙ্গোপসাগরের উপরতলে পানি উষ্ণ রয়েছে। বঙ্গোপসাগরের সংলগ্ন আরব সাগর, আন্দামান সাগর, ভারত মহাসাগরেও তাপমাত্রা বেশি। এ অবস্থায় বঙ্গোপসাগর হয়ে দক্ষিণ, দক্ষিণ-পশ্চিমা উষ্ণ-তপ্ত বায়ু প্রবাহের সঙ্গে বিক্ষিপ্ত হালকা মেঘের ভেলা বাংলাদেশ ও সংলগ্ন ভারত, নেপালের দিকে ভেসে আসা অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকের হিমালয় ও সাইবেরীয় হিমেল হাওয়ার জোর এখনও বাড়েনি। বরং বিপরীতমুখী মেঘের আগমনে ও বায়ু প্রবাহের কারণে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। তাছাড়া ঊর্ধ্বাকাশের সুশীতল জেট বায়ু এখনও স্থলভাগের দিকে নামছে না। তদুপরি বাতাসে জলীয়বাষ্পের হার মাত্রাতিরিক্ত। গতকাল সকালে ঢাকায় বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতা বা জলীয়বাষ্পের হার ছিল ৯২ শতাংশ, সন্ধ্যায় ৭৩ শতাংশ। যা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশিই।
এ অবস্থায় অর্থাৎ বঙ্গোপসাগর হয়ে আসা হালকা নিচু মেঘমালা ও তপ্ত-উষ্ণ হাওয়া, দেশে বাতাসে জলীয়বাষ্পের আধিক্য, উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমা হিমেল হাওয়া দুর্বল থাকা, শীতল জেট বায়ুর অনুপস্থিতি- প্রধানত এই ৪টি কারণে ভরা শীত মওসুমেই দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ঊর্ধ্বে। শীত ঋতুতেই শীত যেন আপাতত উধাও। ওলোটপালট হয়ে গেছে শীতলতম মাসের আবহাওয়া।
ঢাকায় গতকাল দিনের বেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৮.১ ও রাতে ১৮.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পটুয়াখালীতে দিনে ৩০.৫ (দেশের সর্বোচ্চ) ও রাতে ২০.২ ডিগ্রি, কক্সবাজারে যথাক্রমে ৩০ ও ১৯.৫ ডিগ্রি, চট্টগ্রামে ২৯.৩ ও ১৯ ডিগ্রি, রাজশাহীতে ২৭.৪ ও ১৫.১ ডিগ্রি, খুলনায় ২৯.৮ এবং ১৯.৫ ডিগ্রি সে.। দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল তেঁতুলিয়ায় ১২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
ভিন্ন ভিন্ন এসব এলাকায় গতকালের দিন ও রাতের তাপমাত্রাই বলে দিচ্ছে পৌষ মাস শেষ হয়ে এলেও দেশে এবার ‘স্বাভাবিক’ শীত নেই। সূর্যের তেজের কাছে হার মেনেছে পৌষের শীত। ২ পৌষে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়ে ৪ থেকে ৫ দিন পর ক্রমেই উধাও।
আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে জানা গেছে, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে। এছাড়া সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় রাতের তাপমাত্রা আরও হ্রাস পেতে পারে।
আজও আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলাসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে।
এদিকে নিচু হালকা মেঘ, বাতাসে অত্যধিক জলীয়বাষ্পের সঙ্গে ভাসমান ধোঁয়া ও ধুলোবালিতে গুরুতর বায়ুদূষণ অব্যাহত রয়েছে। আইকিউ-এয়ার’র পর্যবেক্ষণ তথ্য মতে, গতকাল বিকেলে ঢাকায় বায়ুমান সূচক (একিউআই) ও বায়ুদূষণ মাত্রা (পিএম ২.৫) ছিল ৩১২। যা খুবই অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ের দুর্যোগময় বায়ুদূষণ। এতে করে সর্দি-কাশি-জ্বর, শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, ফুসফুস ও টনসিলের জটিলতাসহ বিভিন্ন ধরনের রোগব্যাধির প্রকোপ রয়েছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন