ঢাকা রোববার, ২৪ জানুয়ারি ২০২১, ১০ মাঘ ১৪২৭, ১০ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

লুটপাটে কে কাকে টক্কর দিতে পারে তা নিয়ে আওয়ামী লীগে ঝগড়া চলছে: রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১২ জানুয়ারি, ২০২১, ১:৫১ পিএম

লুটপাটে কে কাকে টক্কর দিতে পেরেছে এই নিয়েই আওয়ামী লীগের মধ্যে ঝগড়া চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ তাদের পরস্পরের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে গিয়ে যে সত্য বেরিয়ে আসছে তাতে প্রমাণিত আওয়ামী লীগ এখন ক্ষয়িষ্ণু রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। এদেশে দুর্গতির জনকই আওয়ামী লীগ।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, অবস্থা বর্তমানে এতোটাই বিপর্যকর অবস্থায় দাঁড়িয়েছে, গণতন্ত্র এবং ভোটাধিকার হরণকারী নিশিরাতের এই সরকারের নেতা-মন্ত্রী-এমপি-মেয়ররা দুর্নীতির টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে এখন নিজেরাই একে অপরের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। সরকারের মেগা মেগা মহা দুর্নীতির মহাসাগর থেকে ছিটেফোটা চিত্র দু-একজন নেতার মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের নামে প্রহসনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে ঢাকা সিটি দক্ষিণের মেয়রের পদ দখল করেছিলেন সাঈদ খোকন। সাঈদ খোকনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নিশিরাতের এমপি পদ ছেড়ে কোন মধুর লোভে মধুমতি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ফজলে নূর তাপস মেয়র পদ দখল করেছেন সেই মধুভান্ডের কাহিনী এখন আরব্যরজনীর গল্পের মতো মনে হলেও সেটিই বাস্তবে ঘটেছে। সাঈদ খোকন বলছেন, মেয়র তাপস শত শত কোটি টাকা লুট করছেন অপরদিকে মেয়র তাপস বলছেন, শত শত কোটি টাকা লুট করেছেন সাঈদ খোকন। দুই জনই রাজপথে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে একে অপরের দুর্নীতি, লুটপাটের ফিরিস্তি দিচ্ছেন। তবে এটি স্পষ্ট দুজনই লুটেরা, দুজনই দুর্নীতিবাজ।
রিজভীর প্রশ্ন এখন দুদক কি করবেন ? তামাশা দেখবেন, না পদক্ষেপ নিবেন। দুদক পদক্ষেপ নিতে পারবে না, কারণ দু’জনই ক্ষমতাশালী ও শীর্ষ নেতৃত্বের আত্মীয় ও ঘনিষ্ঠজন। সুতরাং শেখ হাসিনার দুদক এদের বিরুদ্ধে এক পা-ও অগ্রসর হতে পারবে না। কারণ বিএনপি নিধনের জন্যই দুদককে সাজিয়েছে শেখ হাসিনা। জনগণকে ভোটাধিকার বঞ্চিত করে, জনগণের বিরুদ্ধে ইউনিফর্ম পরা সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দিয়ে আর বেশিদিন মানুষের মুখ বন্ধ করে রাখা যাবেনা। কথায় বলে ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। জনাব ওবায়দুল কাদেরের আপন ছোট ভাই আব্দুল কাদের মির্জা যেসব অভিযোগ উত্থাপন করছেন এসব কথার উদ্দেশ্য যাই হোক, অনেক সত্য বেরিয়ে আসছে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে খোদ ওবায়দুল কাদের সাহেব জিতবেন কিনা তার আপন ভাই-ই এ প্রশ্ন তুলেছেন। আওয়ামী লীগের এই তিনজন নেতার বক্তব্যেই আবারও প্রমাণিত হয়েছে-আওয়ামী লীগের ‘টপ টু বটম’ আকন্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত।
বিএনপির এই নেতা বলেন, কথিত ওয়ান ইলেভেনের অনিয়মতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক সরকারের কান্ডজ্ঞানহীনতার কারণে গত একযুগ ধরে জনগণের ঘাড়ে জগদ্দল পাথরের এমন একটা সরকার চেপে বসেছে যাদের নীতি গুম, খুন, অপহরণ, অবিচার, অনাচার, লুটপাট, টাকা পাচার আর দুর্নীতি।
তিনি বলেন, ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি অসাংবিধানিক তথাকথিত এক সরকার ক্ষমতা দখল করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, নাগরিক মর্যাদা লন্ডভন্ড করে দিয়েছিল।
গণতন্ত্র হত্যা, মানুষের অধিকার হরণ করে দেশকে নিক্ষেপ করেছিল একটা অন্ধকার গহ্বরে। দেশপ্রেমিক গণতান্ত্রিক শক্তিকে নির্মূল করার জন্য দীর্ঘ দিনের দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের নীলনকশা বাস্তবায়ন করেছে মঈনুদ্দিন-ফখরুদ্দিন গং এর তথাকথিত অবৈধ সরকার। দুই বছর ধরে দেশকে ছিন্নভিন্ন করে এই গণতন্ত্রবিনাশী গোষ্ঠী মাস্টারপ্ল্যানের অংশ হিসেবে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে একটি পাতানো ভূয়া নির্বাচনের মাধ্যমে তাদেরই বশংবদ আরেক গণতন্ত্র হত্যাকারী ও লুটেরা গোষ্ঠী-আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসিয়ে দিয়ে গেছে। গত এক যুগ ধরে এই আওয়ামী দস্যুরা ওয়ান-ইলেভেনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে জনগণের মধ্যে বিচ্ছেদ, বিনাশ, ব্যবধান সৃষ্টি করে একদলীয় ফ্যাসিজমের ন্যায় জালিমের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে। তথাকথিত ওয়ান ইলেভেনের পর পথ হারিয়েছে বাংলাদেশ, জনগণ হারিয়েছে গণতন্ত্র, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায় বিচার। দেশে মনে হয় দেশে আইনের শাসন নয়, দেশ চলছে এক প্রভুর এক আইনে।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, সোমবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি আয়োজিত ‘এক এগারো : বিরাজনীতিকরণের ধারাবাহিকতায় চলমান ফ্যাসিবাদ-গণতন্ত্রই মুক্তির পথ’ শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আজকের বাস্তবতা হচ্ছে, ৭৫ এর নভেম্বরের পরাজিত অপশক্তি ক্ষমতায় থাকলে দেশে গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটাধিকার থাকবেনা। ৭৫ এর নভেম্বরের পরাজিত অপশক্তি ক্ষমতায় থাকলে রাষ্ট্র ও সমাজে মহান মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র গণতন্ত্র, সাম্য-মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হবেনা। তাই বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী কথিত এই ওয়ান-ইলেভেনের প্রেক্ষাপটে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার-‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও।’
রিজভী বলেন, বিএনপি'র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেছেন, বর্তমানে যেই রাজনৈতিক অপশক্তি গণতন্ত্র হত্যা এবং ভোটাধিকার হরণ করে ক্ষমতা জবর দখল করে আছে স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে তাদের পূর্বসূরিরাও একইভাবে মানুষের বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতা হরণ করেছিল, তারা দেশে গণতন্ত্র বিকশিত হতে দেয়নি, তারা দেশে জন্ম দিয়েছিলো সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য। গণতন্ত্রকামী জনগণ তাদের এমন নৈরাজ্য মেনে নেয়নি। বাংলাদেশের পক্ষের শক্তি, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তি ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর আওয়ামী লীগ এবং তাদের দোসর তথা বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী অপশক্তিকে পরাজিত করেছিল। দেশের সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধে ৭৫ এর ৭ নভেম্বরের সেই পরাজিত অপশক্তি এখন মহাজোটের নামে একজোট হয়েছে। দেশনায়ক জনাব তারেক রহমান বলেন, এখন ৭৫ এর ৭ নভেম্বরের পরাজিত অপশক্তির মিশন হচ্ছে দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী শক্তি এবং দেশের শক্তিমত্তার প্রতীক সেনাবাহিনীকে পরাস্ত করে রাখা। দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী শক্তির বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই জাতীয়তাবাদী শক্তির ঐক্যের প্রতীক ‘মাদার অফ ডেমোক্র্যাসি’ বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপির সাফল্য যাত্রা বাধাগ্রস্থ করতে অত্যন্ত সুপরিকল্পতিভাবে ৭৫ এর ৭ নভেম্বরের পরাজিত অপশক্তি ২০০৪ সালে ‘২১ আগষ্টের’ ঘটনা ঘটায়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনা’ এবং কথিত ‘ওয়ান ইলেভেন’ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না। ‘২১ আগস্ট’ এবং কথিত ‘ওয়ান-ইলেভেন’ একই সূত্রে গাঁথা। একটি ‘ওয়ান-ইলেভেন’ এর নাটক মঞ্চস্থ করার জন্যই পরিকল্পতিভাবে ঘটানো হয়েছিলো ‘২১ আগষ্টের ঘটনা’। ৭৫ সালের নভেম্বরে যারা দেশকে উল্টো পথে নিতে ব্যর্থ হয়েছিল, ২০০৭ সালে কথিত ‘ওয়ান-ইলেভেনে’র মাধ্যমে তারা সফল হয়। এরপরই তারা দেশের জাতীয়তাবাদী শক্তি এবং সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে লিপ্ত হয়। ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে বিডিআর পিলখানায় সুকৌশলে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তার নির্মম নিষ্ঠূর হত্যাযজ্ঞ ছিল তাদের সেই এজেন্ডা বাস্তবায়নেরই অংশ।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, আলোচনা সভায় তারেক রহমান বলেন, ৭ নভেম্বরের পরাজিত অপশক্তি ষড়যন্ত্রের পথ ধরেই কথিত ‘২১ আগষ্ট’ আর ‘ওয়ান ইলেভেনের’ আড়ালে ২০০৭ সালে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে এখন তারা তাদের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিচ্ছে। প্রতিশোধ নিচ্ছে জাতীয়তাবাদী শক্তির বিরুদ্ধে।
তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশের সেনাবাহিনীর গৌরব ও মর্যাদার কথার স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, সরকারের বিভিন্ন প্রজেক্টের ডিরেক্টর হওয়া কিংবা জাতিসংঘে শান্তিরক্ষা মিশন-ই একটি দেশের সেনাবাহিনীর একমাত্র ‘ভিশন’ হতে পারেনা। বরং, একটি দেশের সেনাবাহিনী একটি দেশের সাহস, গৌরব ও মর্যাদার প্রতীক। দেশের যেকোন ক্রান্তিলগ্নে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি নিজ দেশের জনগণের মনে যেমন সাহসের সঞ্চার করে তেমনি বহি:শত্রুর বুকে কাঁপন ধরায়। তিনি বলেন, সীমান্তে ‘ফেলানী’দের হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে, নিজ দেশের মর্যাদার পক্ষে কথা বলায় ‘আবরার’দেরকে পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হচ্ছে, সেনাবাহিনীর অফিসার পরিচয় দেয়ার পরও সেনা কর্মকর্তাকে গুলি করে মেরে ফেলা হচ্ছে, নৌ বাহিনীর কর্মকর্তা পরিচয় দেয়ার পরও চড় থাপ্পড় কিল ঘুষি দিয়ে রক্তাক্ত করে ফেলা হচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, যারা বলেছিলো ওয়ান ইলেভেন তাদের আন্দোলনের ফসল, তাদের কাছে দেশের স্বার্থ বড় নয় বরং পরিবারের স্বার্থ বড়। তাদের কাছে দেশের মর্যাদা বড় নয়, কথিত স্বামী-স্ত্রীর কূটনীতি বড়। তারা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে বিপন্ন করছে। গণতন্ত্রকে ইতোমধ্যে ধ্বংস করে ফেলেছে। এক-এগারো সরকার তাদের প্রভূদের প্রেসক্রিপশনে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসায়। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালে সম্পূর্ণ বিনাভোটে আবারও তাদের ক্ষমতায় নিয়ে আসা হয়। আমরা এটাও জানি, ২০১৮ সালে একই কায়দায় আগের রাতে জনগণের ভোট চুরি করে আবারও সেই অনির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতায় বসানো হয়। তারা এখন জনগণের ঘাড়ে চেপে দেশকে লুটেপুটে ফোকলা করছে। খুন, গুম, হামলা, মামলা, নিপীড়ণ ও সকল অধিকার হরনের মাধ্যমে মানুষের জীবনকে বিষময় করে তুলেছে। এই ফ্যাসিস্টদের পরাস্ত করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের এই আহবানে সাড়া দিয়ে বিএনপির সর্বস্তরের নেতা-কর্মীসহ দল মত নির্বিশেষে গণতন্ত্রমনা সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে এই অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে নামার উদাত্ত আহবান জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (1)
মোঃ আশরাফুল হক ১২ জানুয়ারি, ২০২১, ২:০১ পিএম says : 0
আওয়ামী লীগ সরকার যদি চোর হয় বিএনপি ওলারা হল বড় চোর ডাকাত ঘরে বসে ফাঁকা বুলি নাম রে মাঠে নামেন আপনাদের কথা শোনার থেকে হিরো আলমের গান শুনে অনেক ভালো
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন