ঢাকা শনিবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২১, ০২ মাঘ ১৪২৭, ০২ জামাদিউল সানী ১৪৪২ হিজরী

সম্পাদকীয়

খাল উদ্ধার ও পয়ঃব্যবস্থাপনার কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে

| প্রকাশের সময় : ১৩ জানুয়ারি, ২০২১, ১২:০১ এএম

সামান্য বৃষ্টিতে রাজধানীর পানিবদ্ধতা নগরবাসীর দুর্ভোগের কারণ হয়ে রয়েছে। ভারী ও মাঝারি বৃষ্টির পর রাজপথ ডুবে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়া নিয়ে অনেক লেখালেখি ও আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। এক্ষেত্রে, ওয়াসা ও সিটি কর্পোরেশনের সমন্বয়হীনতা এবং পারস্পরিক দোষারোপের কথা শোনা গেছে। অবশেষে রাজধানীর খাল পুনরুদ্ধার ও পয়:ব্যবস্থার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন। এ উপলক্ষে গত ৩১ ডিসেম্বর ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন এবং ঢাকা ওয়াসার মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ পক্ষগুলোর মধ্যে কাজের সমন্বয়, সমঝোতা ও সহযোগিতা নিশ্চিত করতে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের কথিত সমন্বয়হীনতার অভিযোগের অজুহাত দূর হয়েছে। এখন দখল হওয়া খাল উদ্ধার ও পয়:ব্যবস্থায় সময়োপযোগী উন্নয়নের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে সিট কর্পোরেশন। গতকাল ইংরেজী দৈনিক ডেইলি স্টারে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ইতিমধ্যেই সেখানকার ১৮টি ওয়ার্ডে বিস্তৃত ৪৮টি খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার এবং সৌন্দর্যবৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘বøু নেটওয়ার্ক’ নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। চার হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় সাপেক্ষ এই প্রকল্পটি এরই মধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় অনুমোদিত হয়েছে বলেও জানা গেছে। ঢাকা উত্তরের নতুন ওয়ার্ডগুলোতে থাকা এসব খাল এবং প্রয়োজনীয় রাস্তাগুলোর মধ্যে একটি কানেক্টিভিটি তৈরী করার মধ্য দিয়ে পানিবদ্ধতা ও যানজট নিরসন এবং পরিবেশ ও সৌন্দর্য বর্ধনই বøু নেটওয়ার্কের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন, ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম।

ঢাকার চার পাশের নদীতে ভয়াবহ দূষণ, দখলবাজি নিরসন, পুনরুদ্ধার, সংরক্ষণ ও উন্নয়নে গত দুই দশকে অনেক রাজনৈতিক প্রতিশ্রæতি, প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও বাস্তবে তেমন কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন-অগ্রগতি নেই বললেই চলে। তবে হাতিরঝিল লেক উন্নয়নের মত প্রকল্প সময়ের আগেই বাস্তবায়নের কিছু আশা জাগানিয়া দৃষ্টান্তও আছে। এ প্রত্যাশার কারণেই ঢাকা উত্তরের বøু নেটওয়ার্কের কাজটিও সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের তত্ত¡াবধানে এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। দশকের পর দশক ধরে চলা প্রভাবশালী মহলের অব্যাহত দখলবাজি থেকে ঢাকার খালগুলো পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণের মত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ঢাকার দুই সিটি কপোর্রেশনের সাথে স্থানীয় সরকার, ঢাকা ওয়াসা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত পদক্ষেপ নেয়া এখন সময়ের দাবী। দখলবাজদের কবল থেকে সরকারি জমি ও খাল উদ্ধার করাকেই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন ঢাকা উত্তর সিটি মেয়র। একই প্রকারের উদ্যোগ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকেও গ্রহণ করতে হবে। দুই সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে একটি সমন্বিত প্রকল্প ছাড়া খাল পুনরুদ্ধার ও কানেক্টিভিটির ব্লু নেটওয়ার্ক প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

দেরিতে হলেও ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসন, পয়:নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব সৌন্দর্যবর্ধনে এ ধরনের প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সমন্বিত উদ্যোগ খুবই আশাব্যঞ্জক। ইতিপূর্বেও ঢাকার চারপাশ ঘিরে সার্কুলার ওয়াটারওয়ে, ওয়াকওয়ে ও সার্কুলার রোড নির্মানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। বুড়িগঙ্গাসহ চারটি নদী দখল ও দূষণমুক্ত করার উদ্যোগসহ নানা পদক্ষেপ ও উচ্ছেদ অভিযানের খবরও প্রচারিত হয়েছে। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। দেখা যায়, একদিকে কোটি কোটি টাকা খরচ করে উচ্ছেদ করা হলেও কিছুদিন পর তা আবার দখলে চলে যেতে দেখা যায়। এসব অভিজ্ঞতার আলোকে এবার ডিএনসিসি’র বøু নেটওর্য়াক প্রকল্প ব্যতিক্রমী সফল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে বলে আমরা আশা করি। প্রথমত: জনমত, বিশেষজ্ঞ মতামত ও সেনাবাহিনীর কর্মদক্ষতার নিরিখে একে একটি সুসমন্বিত প্রকল্প বলে বিবেচনা করা যায়। তবে শুধু একটি প্রকল্পের মাধ্যমেই ঢাকার পানিবদ্ধতা, যানজট, পয়নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়ন, বাসযোগ্যতার মানদন্ড নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে সময়ক্ষেপণ করা ঠিক হবে না। প্রকল্পটি ইতিমধ্যেই একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। কাজেই বর্ষার আগেই এর বাস্তবায়ন শুরু করার উদ্যোগ নিতে হবে। সেই সাথে বিভিন্ন সেবা সংস্থার কাজের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করার বাস্তব উদ্যোগ প্রয়োজন। যে কোনো উন্নয়ন কাজ সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি করে দীর্ঘদিন ফেলে রাখার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। রাজপথ-গলিপথে ময়লার ভাগাড় সৃষ্টির পরিস্থিতি কঠোরভাবে রুখতে হবে। দুই সিটি কর্পোরেশনের মেয়রদ্বয়ের কাছে আগামী বর্ষার আগেই ড্রেনেজ ও স্যুয়ারেজ ব্যবস্থার দৃশ্যমান উন্নতি দেখতে চায় নগরবাসী। ঢাকা উত্তরের বøু নেটওয়ার্কের মত একই ধরনের উদ্যোগ চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনাসহ দেশের সব বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতেও গ্রহণ করতে হবে।

 

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন