ঢাকা বুধবার, ০৩ মার্চ ২০২১, ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭, ১৮ রজব ১৪৪২ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

রমজানের আগে আমদানির সিদ্ধান্ত ৩ গুণ ভোজ্যতেল

সংবাদ সম্মেলনে বানিজ্যমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৫ জানুয়ারি, ২০২১, ১২:০০ এএম

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সি বলেছেন, যারা কোনোদিন তেল হাত দিয়ে স্পর্শ করেননি অথচ ড্রইংরুমে বসে বিনা পয়সায় কামাচ্ছেন, সেইসব মধ্যস্বত্তভোগী ফড়িয়াদের দৌরাত্ম্য কমাতে কঠোর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
গতকাল রোববার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। ব্যবসায়ীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় টিপু মুনশি বলেন, আমদানি নির্ভর হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে দাম নির্ধারণ করে দেয়া সম্ভব নয়। আশ্বাস দেন, আমদানির ক্ষেত্রে থাকা একাধিক শুল্কস্তর কমিয়ে আনার। আসছে রমজান সামনে রেখে টিসিবির মাধ্যমে অন্য বছরের চেয়ে ৩ গুণ বেশি পণ্য আমদানি করা হবে। ভোজ্যতেল আমদানিতে সরকারের রাজস্ব না কমিয়ে চার স্থানের ডিউটির পরিবর্তে এক স্থানে নিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে আবারও চিঠি দেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। শিগগিরই আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে ভোজ্যতেলের যৌক্তিক মূল্য কোন তারিখে কেমন হওয়া উচিত তা নির্ধারণ করতে কাজ করছে মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটি। তিনি বলেন, ভোজ্যতেল নিয়ে সারা দেশে সঙ্কট তৈরি হয়েছে। আমাদের তেলের বাজার ৯০ শতাংশ আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর নির্ভর করে। যখন সেখানে দাম বাড়ে তখন দেশের বাজারেও তার প্রভাব পড়ে। ছয় মাস আগে ৭০০ ডলারের তেল বর্তমানে ১১৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এতে দেখা যায় ৭৫ শতাংশ দাম বেড়েছে। আমাদের কিন্তু এতটা বাড়েনি। এটাকে কীভাবে সমন্বয় করা যায়, সেজন্য দাম নির্ধারণের যে কমিটি আছে তাদের বলা হয়েছে, তারা চুলচেরা বিশ্লেষণ করে একটা মানসম্মত দামের তালিকা করে দেবে। আজকে যে দাম নির্ধারণ করে দেব দুই দিন পর সে দাম কমে গেলে তখন আবার সবাই লেখালেখি করবে। সেজন্য প্রতি মাসে একটি সভা করে একটি যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণের আইডিয়া দেবে, আমরা সেটা নিয়ে কাজ করছি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু দামের জন্য না, কোয়ালিটির জন্যও বোতলজাত হওয়া জরুরি। শিল্প মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে চেষ্টা করছে। এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে এটা একটা পর্যায়ে নিয়ে আসা হবে। ৭০ শতাংশ যেন বোতলজাত করা যায়। নকল মাল থেকেও মানুষ রেহাই পাবে। এছাড়া বোতলের গায়ে দাম লেখা থাকে তাই হাত বদলের ফলে দাম বৃদ্ধির সুযোগ কম থাকে। এতে করে সুযোগ সন্ধানী ব্যবসায়ীদের সরিয়ে রাখা যাবে। তবে সুযোগ সন্ধানীদের তো আর একদিনে বন্ধ করা যাবে না। একটু সময় লাগবে। ব্যবসায়ীরাও কথা দিয়েছে তারা সক্রিয়ভাবে কাজ করবে। আমরা দাম বাড়াটা মেনে নেব। কিন্তু সেটা মধ্যস্বত্বভোগীদের একটা প্রফিট দিয়ে নয়। সেজন্যেই কাজ করতে হবে। আইন কার্যকর নেই। ভবিষ্যৎ মিটিংগুলোতে তাদের দৈরাত্য কমাতে চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম সাতদিন পরে কমে গেছে। এজন্য প্রতিনিয়ত ফলোআপ রাখতে হবে। আর একটা বিষয় আজকে যে পণ্যটা বুক করেন সেটা আমাদের দেশে আসতে তিন মাস লাগে। আজকে আমাদের বাজারে কী দাম, সেখানে কী দাম সেটার একটা প্রভাব বাজারে পড়ে। এসব বিষয়ে নজর রাখার জন্য আমাদের কমিটি, ট্যারিফ কমিশন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিদের নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে একটা ওয়েআউট বের করব। একইসঙ্গে রমজান মাসকে সামনে রেখে শুধু মাত্র তেল নয়, সব পণ্য নিয়ে চিন্তা করছি। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন রমজানে যাতে মানুষের কষ্ট না হয়। রমজানে যাতে মানুষ সাশ্রয়ী দাম পণ্য পায় সে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

টিপু মুন্সি বলেন, সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হলো এই যে, আমরা শিগগিরই ট্যারিফ কমিশন, ব্যবসায়ীদের নিয়ে এই ওয়েআউট বের করব যে, কী প্রাইস থাকলে পরে সেটা যৌক্তিক হয়। আজকে আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য ১২০০ টাকা ধরে আমরা ঠিক করে দিলাম যে এই দামে তেল বিক্রি হবে। কিন্তু কালকে আবার ১২০০ টাকা ৭০০ টাকায় নেমে আসল। আবার দেশজুড়ে শুরু হয়ে যাবে কথাবার্তা। তাই কথাটা হচ্ছে- কোনো প্রাইস ফিক্সআপ করাটা কঠিন। কারণ আমদানিনির্ভর পণ্য। তবে একটা উপায় বের করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরেই দেশীয় বাজারে ঊর্ধ্বমুখী ভোজ্য তেলের বাজার। যার প্রধান কারণ, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি। বিভিন্ন উৎসের তথ্য উপাত্ত বলছে, বর্তমানে প্রতি টন সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে সাড়ে এগারশ মার্কিন ডলারে। যা মাস দেড়েকের ব্যবধানে বেড়েছে ৩০ শতাংশের ওপরে। একই প্রবণতা ছিল পাম তেলের দরেও। দেশীয় বাজারেও দাম বাড়ার হার ছিল প্রায় একই। তাই নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যের লাগাম টানার উপায় খুঁজতে ব্যবসায়ীদের সাথে বসে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। দেশের বর্তমানে ২৪ লাখ টনের মতো চাহিদা আছে তেলের। যার ৯৫ শতাংশই আনতে হয় বিদেশ থেকে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন