ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ২ বৈশাখ ১৪২৮, ০২ রমজান ১৪৪২ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

ব্রিটেনের দ্বীপগুলোতে গাঁজা উৎপাদন বাড়ছে

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ৭:৫৩ পিএম

এক সময় আইল অফ ম্যানের আইসক্রিম পার্লার এবং মিউজিক হলগুলো গ্রীষ্মকালে পরিপূর্ণ থাকতো। সে সময় ল্যাঙ্কাশায়ারের শ্রমিকরা এক সপ্তাহের জন্য ছুটি কাটাতে আসতেন স্টীমারে দশ ঘন্টা ভ্রমণ করে আসতেন দ্বীপটিতে।

কোস্টা ডেল সলের কারণে এখন দ্বীপটির পর্যটন বাণিজ্য ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। তাই সেখানে আয়ের বড় একটি উৎস বন্ধ হয়ে যায়। তবে বিকল্প উৎস তৈরি হয়েছে। প্রথমে একটি অফশোর আর্থিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সম্প্রতি অনলাইন গেমিং সংস্থাগুলো সেখানে শাখা খুলেছে। সেখানে মোট জিডিপির প্রায় এক তৃতীয়াংশই আসে আর্থিক কেন্দ্র থেকে। ই-গেমিং থেকে আসে ১৭ শতাংশ এবং পর্যটন থেকে আসে ১ শতাংশেরও কম।

এখন দ্বীপটির অধিবাসীরা আরও একটি দ্রুত বর্ধমান শিল্পের দিকে ঝুঁকেছে। সেটি হচ্ছে গাঁজা চাষ। এ জন্য তাদেরকে সরকারের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয় না। কাগজে কলমে দ্বীপটির প্রধান হচ্ছেন ব্রিটিশ রাণী। তবে এটি স্বায়ত্ব-শাসিত। গত মাসে এর সংসদ চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য গাঁজা চাষ এবং রফতানির জন্য একটি পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। শুধু এই দ্বীপই নয়, ইংলিশ চ্যানেলে অবস্থিত জার্সি দ্বীপও গত ডিসেম্বরে ৭৫ হাজার বর্গফুট এলাকায় গাঁজা-উৎপাদনের জন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে প্রথম লাইসেন্স দিয়েছে। এমনকি দ্বীপটির অর্থমন্ত্রী গাঁজা শিল্প সম্মেলনে যোগ দেয়ার জন্য কানাডা গিয়েছিলেন।

তবে হঠাৎ গাঁজা চাষে আগ্রহ কেন? আমেরিকার বাইরের কোন দেশে সাম্প্রতিক সময়ে গাঁজা চাষের কথা শোনা যায় নি। একটি স্বাধীন পর্যবেক্ষণ সংস্থা আন্তর্জাতিক মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের মতে, ২০০০ সাল থেকে গাঁজা চাষ বিশ্বজুড়ে প্রায় ২০০ গুণ ছড়িয়ে পড়েছে। এবং চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য এই ক্ষেত্রে নিয়মগুলো পুরো ইউরোপ জুড়ে শিথিল করা হচ্ছে। ব্রিটেন নিবন্ধিত বিশেষজ্ঞদের দ্বারা সীমিত আকারে গাঁজা ব্যভহারের অনুমতি দিয়ে ২০১৮ সালে একটি আইন আনে। ব্রাইটফিল্ড গ্রুপ নামের একটি গবেষণা সংস্থা জানিয়েছে, ব্রিটেনে চিকিৎসার জন্য গাঁজার বাজার ২০২০ সালে ৯৬ লাখ পাউন্ড থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ২৯ কোটি ৩০ লাখ পাউন্ডে উন্নীত হবে বলে জানিয়েছে।

উভয় দ্বীপই গাঁজা চাষে মূল ভূখণ্ডকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পেথে রয়েছে। আইল অফ ম্যান এর বাণিজ্য মন্ত্রী লরেন্স সকেলি দ্বীপটিতে ব্যবসায়িক-বান্ধব পরিবেশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যা গেমিং সংস্থাগুলোকে সেখানে শাখা খুলতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। ব্রিটেনে যেখানে এসব ব্যবসার ক্ষেত্রে করের হার ১৯ শতাংশ, সেখানে উভয় দ্বীপেই সেগুলো পুরোপুরি করমুক্ত। এর ফলে দ্বীপগুলোতে গাজা চাষে আরও বেশি প্রতিষ্ঠান আগ্রহী হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন