ঢাকা বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ০১ ব্শৈাখ ১৪২৮, ০১ রমজান ১৪৪২ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

আ.লীগ বিনাভোটে এমপি বানিয়েছে

খুলনায় সমাবেশে নেতৃবৃন্দ

খুলনা ব্যুরো : | প্রকাশের সময় : ১ মার্চ, ২০২১, ১২:০২ এএম

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহাজাহান ওমর (বীর উত্তম) বলেছেন, আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করতে হবে। আওয়ামী লীগ জনগণের ম্যান্ডেটে কখনো ক্ষমতায় আসতে পারেনি। বিনাভোটে-বিনা পরিশ্রমে তারা এমপি বানিয়েছে। একজন এমপি বা একজন মেয়র হতে হলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ জনগণের খেদমত করতে হয়। একটা সীট জনগণের খেদমত করে আসে। আর এরা জনগণের কাছে যায় না, এমনিতেই এমপি মেয়র হয়।

গতকাল বিকালে খুলনা নগরীর কেডি ঘোষ রোডের বিএনপি কার্যালয়ের সামনে কেন্দ্র ঘোষিত মহাসমাবেশে তিনি প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন। খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি উদ্যোগে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে তিনি বলেন, মেজর জিয়ার খেতাব বাতিলের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণ অচিরেই আন্দোলন গড়ে তুলবে। ব্যাংক লুটকারী ও জাতীয় সম্পদ লুটকারী আ.লীগের পতনের সময় এসেছে। সরকার পতনের আন্দোলনের জন্য তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।

বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, শেখ হাসিনা সরকার মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করেছেন। ১৬ কোটি মানুষ ভোট দিতে পারছেন না। রাতের অন্ধকারে জনগণের ভোট ছিনিয়ে নিয়ে দলের এমপি বানিয়েছেন। তারাই ব্যাংক লুট করছেন। শেয়ারের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও পুলিশ প্রশাসন দেশকে সর্বনাশের দিকে নিয়েছে। শহীদ জিয়ার খেতাব বাতিলের নিন্দা করেন। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, খুলনার মহাসমাবেশে কর্মীদের আসতে পথে পথে বাধা দিয়েছে। তারপরও হাজার হাজার জনতা সমাবেশে উপস্থিত হয়ে সরকার পতনের ডাক দিয়েছে। তিনি বলেন এ বছরই সরকারের শেষ সময়। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, এই সমাজে থাকতে হলে এই সমাজের নিয়ম মানতে হবে। উল্টাপাল্টা কোন কিছু করে রেহাই পাওয়া যাবে না। পথে পথে যেখানেই আটকানো হয়েছে, যত পুলিশ অফিসারকে জিজ্ঞেস করলাম যে, কেন আপনারা এরকম করছেন? বলছে আমি জানি না, উপর মহলের নির্দেশ। দ্বিতীয় জায়গায় এসে জিজ্ঞেস করলাম কেন এরকম করছেন? বলছে আমি জানিনা, উপরের নির্দেশ। আরে ভাই কত উপরে? সবার উপরে তো আল্লাহর আরশ।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আজকে এই প্রোগ্রামের নমুনা দেখে প্রমাণিত হয় দেশে কতোটা পুলিশি শাসনতন্ত্র কায়েম হচ্ছে। এই দেশে এখন আমাদের ভোটের অধিকার নেই, কথা বলার অধিকার নেই। কিছু বললেই মামলা হামলা গুম, খুন করা হয়। এই অন্যায় অত্যাচার আর মেনে নেয়া যায় না। সারাদেশে আমাদের দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এর জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেন, আজকের এই সভা পন্ড করার জন্য সরকারের পেটুয়া বাহিনী আমাদের সকল নেতাকর্মীদের পদে পদে বাধা দিয়েছে। অনেক হয়েছে। আর না। আমরা আর কোন বাধা মানবো না। এই দেশ মুক্তিযোদ্ধাদের দেশ। আমরা কারো দাসত্ব মানবো না। তাই আসুন সকলে মিলে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হই।

সভাপতির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, সমাবেশ পন্ড করার জন্য পুলিশ বাড়ি বাড়ি যেয়ে ভয়-ভীতি এবং দুদিনে ৩১ জন কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। তারপরও মহাসমাবেশ সফল করেছে। তিনি দুঃখজনক বর্ণনা দিয়ে বলেন, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের খাবার হোটেলে পুলিশ তালা দিয়েছে। খেয়াঘাট-বাস বন্ধ করে দিয়েছেন। এটি তাদের প্রতিহিংসার ফল। আগামীতে নির্বাচনকে অর্থবহ করতে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে নির্বাচনের দাবি করেন। বক্তৃতা করেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা, সাবেক হুইপ মশিউর রহমান, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব ও বরিশালের মেয়র প্রার্থী মুজিবর রহমান সরোয়ার, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, রাজশাহীর মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, চট্টগ্রামের মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাৎ হোসেন, ঢাকা উত্তরের মেয়র প্রার্থী তাবিথ আওয়াল, ঢাকা দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা আমিরুজ্জামান খান শিমুল, সাবেক এমপি সৈয়দ মেহেদী রুমি, বিএনপির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক সাবেক এমপি সোহরাব উদ্দীন, সহ-প্রচার সম্পাদক কৃষিবৃদ শামীমুর রহমান শামীম। কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা আব্দুল গফ্ফার।
এর আগে সকাল থেকে দলীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিতে শুরু করেন নেতাকর্মীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নেতাকর্মীদের উপস্থিতিও বাড়তে থাকে। বিএনপির দাবি অনুযায়ী চারটি স্পটে অনুমতি না মেলায় দলীয় কার্যালয়ের সামনেই সমাবেশের জন্য অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করা হয়। বিশৃঙ্খলা রোধে কেডি ঘোষ রোড, থানা মোড় এলাকাসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (4)
তানিয়া ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ২:৩৭ এএম says : 0
এটা তো পুরাতন কথা
Total Reply(0)
মশিউর ইসলাম ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ৮:০৮ এএম says : 0
এটাও তো তাদের এক প্রকার কৃতিত্ব, কিন্তু আপনাদের তো কোনো কৃতিত্বই নেই।
Total Reply(0)
মেহেদী ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ৮:০৮ এএম says : 0
বিনা ভোটে এমপি হওয়ার মজাই আলাদ!!
Total Reply(0)
কামাল ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ৮:০৯ এএম says : 0
বিনাভোটের এমপিদের জন্য হেদায়েত কামনা।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন